বিট বিটার বেস্ট কয়েন

By: BAULARKA

September 6, 2021

Share

ছবি সৌজন্যে : inscript.me

“শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড”- এর কথা মনে পড়ে ? ‘রাজশেখর বসু’-র লেখা।

কিংবা ধরুন….. ‘মহাপুরুষ’-সিনেমা তে ‘নিতাই দা ‘কে ?বিরিঞ্চি বাবার অতীতে যাওয়ার পথ’… “বেলা দ্বিপ্রহর এ ছাদে গিয়ে, সূর্যের দিকে তাকিয়ে, মাতন্ড মন্ত্র জপ”

মানুষের, “সহজে রোজগার”-এর বাতিক জীবনে যাওয়ার নয় আর যাওয়া টাও অস্বাভাবিক , তাই এই বিষয় গুলোর ওপর ভরসা করে শেয়ার বাজার দাঁড়িয়ে আছে।

আশা ও ভরসা এই দুটো তেই তার ঊর্ধ্ব গমন ও অধঃপতন। বিশ্বাস এর ওপরই ভরসা করে তার এগিয়ে চলা ও পিছিয়ে পড়া।

আরো আছে দুটো জিনিস যার ওপর দাঁড়িয়ে গোটা পৃথিবী;

প্রথম টি তার জলবায়ু আর দ্বিতীয় টি টাকাপয়সা।

বিষয় টা খুবই পার্থিব বলে অনেক মানুষজন মুখ ঘুরিয়ে চলে যাবে, কিন্তু বস্তুবাদী বিবেচনা করলে দেখা যাবে, স্পষ্টতই শেয়ার বা বিশ্ব বাজার বিশ্বের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতির কান্ডারী।

সকাল সকাল সর্বাধিক বিক্রিত বাংলা কাগজের দুই নম্বর পাতায় যতই লেখা থাক ” ফাটকা বিনিয়োগ এ বিপুল ক্ষতি” তাতে বর্তমান সময় খুব একটা প্রভাব পড়ে না বা পড়বেও না।

হঠাৎ করে পরশুরাম-এর সৃষ্টির কথা আলোচনায় আনার মূল কারণ হলো তদানীন্তন সময় বিনিয়োগ ও প্রাপ্তির যে অনিশ্চয়তা ছিল তা কালের বিবর্তনে ‘পথ ভোলা এক পথিক’,তার অস্থিত্ব আছে কিন্তু ঠিকানা নেই।

তারপর মানুষ অ্যাপেলো-১১ করে হৈ হৈ করে চাঁদ এ গিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে ফ্ল্যাগ ট্যাগ পুঁতে অনেক বড় বড় কাজ করে ফেলেছে, কিন্তু বাজার অথবা মার্কেট এর ওঠানামা কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক হাল-চাল পর্যন্ত নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে।

এই রকমই এক সময় ভিত্তিক পরিবর্তন এর দোর গোড়ায় ১৮৪৩ সালে এক মার্কিন ভদ্রলোক ‘ডেভিড কুম ‘ ক্রিপ্টোগ্রাফিক ইলেকট্রনিক মুদ্রার প্রবর্তক।

(তথ্য : https://en.wikipedia.org/wiki/Cryptocurrency )

দুর্দান্ত দুর্দান্ত সব ঘটনা ঘটেছে এই ধরনের বিট কয়েন এর সাথে, দুম করে ২০১২ সালে বিট কয়েন এর বাজার মূল্য ১ বিট কয়েন = ৬৩,৭২৯.৫ মার্কিন ডলার এ দাঁড়ায়, তখন থেকে এর প্রাদুর্ভাব আরো বড় করে দেখে বিশ্ব।

সারা পৃথিবীতে হুল্লোড় পড়ে যায়,বিট কয়েন বিটার না সুইটার এইটা জানার জন্য।

আর তাতেই মানুষ জানতে পারে বস্তুটি কি।

কিন্তু ওই যে…. বক্তব্য যেখানে শুরু হয়, ঠিক তখনই সেখানে, আমাদের বাবারা বক্তব্য এবং চিন্তা-ভাবনা শেষ করে দিয়ে বলেন,’ফিক্সড ডিপোজিট করেছিস,মেয়ের বাড়ি কিন্তু ফিক্সড ডিপোজিট চেনে,ঐখানে তোর বিটকয়েনের কোনো মূল্য নেই।’

তাও এই কয়েন-এর নাগাল পেতে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হতো ভারতের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে।

ক্রিপ্টোগ্রফিক মুদ্রা এখনো ভারতের কাছে অনেক টা “শোভন-বৈশাখী”র সম্পর্কের মতো।লোকে মেনে নিয়েছে, কিন্তু সরকারি ভাবে নয়।

বর্তমানে ৭ কোটি ভারতীয় এই ক্রিপ্টোগ্রফিক মুদ্রা-তে ইনভেস্ট করেছে যা ভারতীয় সরকার কে চিন্তা ভাবনার মূলধন যুগিয়ে চলেছে।সরকার তাই এই বিষয় চিন্তা ভাবনার কথা ভাবছে। তথ্য ( https://www.businesstoday.in/latest/corporate/story/cryptocurrency-in-india-what-the-govt-stand-legal-status-its-future-296570-2021-05-20)

 

এই বিংশ শতাব্দী ও তার অদ্ভুত অদ্ভুত আচরণ!এই সময় এমন কিছু জিনিসের আবির্ভাব হয়েছে যা সাধারণ ভাবে তথাকথিত পুরনো ধাঁচের মানুষেরা মেনে নেবেন না, আবার কিছু এমন জিনিস

ফিরে এসেছে তাতে রিস্ক ও বে-লাগাম দুটোই বর্তমান। লাগামহীন ঘোড়া যখন খোলা মাঠে ছোটে ” জিন্দেগি না মিলেগি দো-বারা” র মতো মন টাও লাগামহীনতা ও অদ্ভুত আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় , কিছু পুরোনো ভাবধারার আবেগ কে ত্বরান্বিত করে , ঠিক তাদের-ই মধ্যে থেকে ভালোটা খুঁজে এগিয়ে চলার নামই জীবন।

 

এতো কিছুর মধ্যে ভারতীয়দের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ‘স্টেপিং স্টোন’ হলো ভারতীয় সরকারের ক্রিপ্টোকারেন্সি-র দিকে ঝোঁক , ‘মিনিষ্ট্রি অফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স ‘ ( এম. সি. এ) ইদানিং কালে সমস্ত কোম্পানি কে বাধ্যতা মূলক ভাবে তাদের ক্রিপ্টো ইনভেস্টমেন্ট গুলো কে নজরে আনার কথা উল্লেখ করেছে, যা সত্যি বড় উদ্যোগ সাধারন মানুষের দিক থেকে।

ভার্চুয়াল জগতের সবথেকে বড় পদক্ষেপ গুলোর মধ্যে এই ক্রিপ্টোকারেন্সি-র জয় জয়কার মানব সভ্যতার কল্যাণ এ কতটা প্রভাব বিস্তার করে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেটাই এখন মূল ভাবনার বিষয়।

তবে বাঙালির দুধে-ভাতে সন্তান এর মানসিকতার সাথে ক্রিপ্টোকারেন্সি-র খুব একটা মিল নেই সেটা ঠাহর করার সময় এসে গেছে।

More Articles