বিনিয়োগের দারুণ একটা জায়গা খুঁজছেন? IPO সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানুন

By: Amit Pratihar

December 20, 2021

Share

যে কোনও মধ্যবিত্তের কপালেই চিন্তার ভাঁজের একটা অন্যতম কারণ যদি জিজ্ঞাসা করা হয় তবে উত্তর হিসাবে যা যা উঠে আসবে তার অন্যতম হলো, ‘বিনিয়োগ কোথায় করব?’  ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিসে দিন দিন সুদের হার কমতে থাকার প্রবণতা, সেনসেক্সের ওঠাপড়া, শেয়ার মার্কেটের ফাটকা, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের জটিলতা ইত্যাদি ইত্যাদির চক্রব্যুহে কপালে গাঢ় হতে থাকে চিন্তার ভাঁজ। উপার্জিত টাকা কোথায় বিনিয়োগ করলে রিটার্নটা খুব ভালো আসবে এবং নিশ্চিন্তও থাকা যাবে? 

ঠিক এখানেই আলোকপাত করা যাক একধরণের বিনিয়োগ পদ্ধতির উপর যার নাম IPO বা ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং। IPO কী? খায় না মাখে? বিনিয়োগের সাথে এর কী সম্পর্ক?  কীভাবে কাজ করে? এর সুবিধা কী? পদ্ধতি কী? আবেদন কীভাবে করা যায় এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগের জন্য? এখানে বিনিয়োগ করা কি ভালো? নিশ্চয়তা কতটুকু? আমরা চেষ্টা করব ধরে ধরে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে।

IPO কী? :

আইপিও, ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (Initial Public Offering) বা প্রথম পাবলিক অফারিং এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি প্রাইভেট কোম্পানি প্রথমবার তার কোম্পানির শেয়ারগুলি জনগণের বনিয়োগের জন্য বিক্রি করে। এর মূল কারণ হলো সেই কোম্পানিগুলো ব্যাঙ্ক থেকে লোন না নিয়েই নিজেদের মূলধন বাড়াতে চায় এবং পরিণত হয় পাবলিক কোম্পানিতে।

ধরে নেওয়া যাক, আপনি একটি পাঁপড়ের কোম্পানি খুলেছেন। শুরুতে অর্থের জন্য কাছের লোকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কোম্পানি চালিয়েছিলেন। বর্তমানে আপনার কোম্পানির পাঁপর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে সুতরাং চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন নতুন কারখানা ও নতুন নতুন যন্ত্রপাতির। আপনার কোম্পানি পরিচালনার জন্য প্রয়োজন এখন প্রচুর অর্থের এবং শ্রমিকের। অর্থাৎ মূলধনের। এই মূলধন জোগাড় করার জন্য আপনি যদি ব্যাঙ্কের কাছে যান তাহলে আপনাকে প্রতি মাসে আসলের সাথে সুদ দিতে হবে, যা একটা বিশাল বড় অর্থ। অন্যদিকে আপনার কাছে সুযোগ রয়েছে আপনার কোম্পানির কিছু অংশ পাবলিকের উদ্দ্যেশ্য বিক্রি করে দিতে পারবেন, অর্থাৎ আপনাকে স্টক এক্সচেঞ্জে নাম নথিভুক্ত করতে হবে । আপনি যে সরাসরি আপনার কোম্পানির শেয়ার পাবলিককে অফার করছেন এটিই হল IPO।

আইপিওর মাধ্যমে, কোম্পানিটি স্টক এক্সচেঞ্জে তার নাম তালিকাভুক্ত করে। সাধারণ মানুষ সেই কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করলে বিক্রির আগে অবধি হয়ে ওঠেন সেই কোম্পানির আংশিক মালিক। আমাদের দেশে আইপিওকে রিস্ক ফ্রি বনিয়োগ পদ্ধতি হিসাবে দেখা হয়। কারণ এই বিনিয়োগে লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা একদম নেই বললেই চলে।

IPO তে বিনিয়োগের পদ্ধতি কী? :

আইপিও-তে বিনিয়োগের জন্য আপনাকে প্রথমে একটি ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট এবং পাশাপাশি একটি ট্রেডিং অ্যাকাউন্টও খুলতে হবে। ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট আপনাকে আপনার পছন্দসই শেয়ারগুলিতে লেনদেন করতে দেয় এবং ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট আপনার ক্রয়কৃত শেয়ারগুলি জমা রাখে। যখন কোনও কোম্পানি তাদের আইপিও ডিক্লেয়ার করে তখন আইপিওতে বিনিয়োগের জন্য, আইপিওর বিবরণ, বিড নম্বর, লট সাইজ অর্থাৎ আপনি যে পরিমাণ বিনিয়োগ করতে চান, ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং প্যান নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে যে কোনও বিনিয়োগকারী অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার পর আপনি যতদিন না স্টক পাচ্ছেন,ততদিন যে পরিমান লট আবেদন করছেন সেই পরিমান টাকা ব্লক হয়ে থাকবে অর্থাৎ সেই পরিমান টাকা আপনি আর খরচ করতে পারবেন না।

এমন না যে আবেদন করলেই আপনি সেই কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারবেন। প্রচুর চাহিদার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারের বন্টন হয় লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে। সেই লটারিতে যাদের নাম ওঠে, তারাই কোম্পানির শেয়ার পান এবং বাকিদের বিনিয়োগ করা টাকা আবার ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয় ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট-এ।

IPO তেই বিনিয়োগ কেন? সুবিধা কী? : 

বিভিন্ন ধরণের সুবিধা আছে আইপিওতে বিনিয়োগ করার তার মধ্যে অন্যতম হলো, এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগ একেবারেই ঝুঁকি মুক্ত। আপনার অর্থের পরিমাণের কোনওরকম ঘাটতি ঘটে না। 

যেহেতু কোম্পানি প্রথমবারের জন্য পাবলিকের কাছে শেয়ার ছাড়ে, তাই কোম্পানির শেয়ারের দাম কম থাকে। এবং পরবর্তীকালে তা বেড়ে যায়। 

রিটার্ন বেশি। আবেদন করার পর আইপিও পেয়ে গেলে, এই বিনিয়োগের রিটার্ন এর হার বেশি এবং সেটাও খুবই অল্পসময়ের মধ্যেই। 

এটি একটি অল্পসময়ের বিনিয়োগ পদ্ধতি। ৩-১০ দিনের মধ্যে আপনার বিনিয়োগ পদ্ধতি সম্পূর্ণ হয়ে যায়। অর্থাৎ আপনার অর্থ বেশিদিনের জন্য আটকে থাকে না। 

IPO তে বিনিয়োগের আগে কী কী মাথায় রাখতে হবে? 

IPO-তে বিনিয়োগ করা সাধারণত একটি সুবিধাজনক বিকল্প, কিন্তু বিনিয়োগের আগে, আপনাকে নিম্নলিখিত জিনিসগুলি মনে রাখতে হবে :-
১. আইপিও-তে বিনিয়োগ করার আগে কোম্পানি, তার ব্যাকগ্রাউন্ড, ফাইন্যান্সিয়াল, ভবিষ্যতের দিকগুলি পড়ুন।

২. IPO লকিং পিরিয়ড নোট করুন। লকিং পিরিয়ড একটি সময়কাল যাতে আপনি প্রাথমিক বিনিয়োগের পরে স্টকগুলি বিক্রি বা ট্রেড করতে পারবেন না।

৩. যে কোনও IPO-তে বিনিয়োগ করার আগে সবসময় একটি বিনিয়োগের কৌশল পরিকল্পনা করুন।

IPO এর উদাহরণ কী?

বিভিন্ন ধরণের আইপিও প্রতি সপ্তাহে আসতে থাকে, যেমন এই মুহূর্তে আইপিও বাজারের বড় খবর হলো LIC, Bharat Petrolium, Paytm এর মতো কোম্পানিগুলো বাজারে নিয়ে আসতে চলেছে তাদের IPO

IPO তে বিনিয়োগ করা ভালো না খারাপ? :

সমস্ত আইপিওতে চোখ বুজে বিনিয়োগ করা কখনোই ভালো নয়। বিনিয়োগ করার আগে কোম্পানিটির ব্যাপারে জানতে হবে, বুঝতে হবে শুরু থেকে তার পারফরম্যান্স এর ধরণ। একটা বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন আইপিওতে বিনিয়োগের আগে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যদি আপনার ধারণা না থাকে তবে ব্রোকারের সাহায্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতেই পারে। একজন ব্রোকার মার্কেটের সমস্ত খবর রাখেন, তার কাছে স্পষ্ট ধারণা থাকে কোন কোম্পানির ওপর বিনিয়োগ করা ভালো, কোন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা খারাপ। সার্ভে অনুযায়ী আইপিও কখনোই লং টার্ম বিনিয়োগ হিসাবে দারুণ বিকল্প নয়। 

More Articles