আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা: প্রাথমিক রিপোর্টের সুর নিয়ে পাইলটদের সংগঠনের ক্ষোভ

AAIB Report : প্রাথমিক রিপোর্টে পাইলটদের প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার প্রশংসা না করে শুধু তাদের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই বার্তাকে পেশাদার পাইলটদের প্রতি অবিচার বলেই মনে করছেন।

আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১৭১-এর দুর্ঘটনার পর প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের মূল বক্তব্য পাইলটদের সংগঠনগুলি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গত ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে এক লহমায় বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি ভেঙে পড়ে। অন্তত ২৬০ জনের মৃত্যু হয় ওই ঘটনায়। সম্প্রতি তদন্তকারী সংস্থা, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (সিএএআই), তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে দুর্ঘটনার জন্য পাইলটদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিকে আঙুল তুলছে। কিন্তু পাইলটদের সংগঠনগুলি, বিশেষ করে ইন্ডিয়ান কমার্শিয়াল পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন (আইসিপিএ), এই রিপোর্টের ভাষা ও সুরকে ‘অন্যায্য’ এবং ‘একতরফা’ বলে অভিহিত করছে। তারা দাবি করছে,এই রিপোর্টে বিমানের যান্ত্রিক ত্রুটি বা বোয়িংয়ের উৎপাদন প্রক্রিয়ার সমস্যার বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।

গত ১২ জুন বিমানটি রানওয়ে ছাড়ার পরেই আছড়ে পড়ে, ফলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ব্ল্যাকবক্স থেকে ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার করা হয়। বলা হচ্ছে, সেই রেকর্ডার থেকে উদ্ধার হওয়া কথপোকথনে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে এক পাইলট জ্বালানির সুইচ বন্ধ করে দেন। অন্য পাইলট তাকে প্রশ্নও করে কেন এই সুইচ বন্ধ করা হলো। এই কথপোকথনের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে রিপোর্ট।

আরও পড়ুন-Air India crash report: দুটি ইঞ্জিন-ই বন্ধ! এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে উঠে এল যে তথ্য

রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাইলটরা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যে ভুলভাবে ল্যান্ডিংয়ের চেষ্টা করেছিলেন, যা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। কিন্তু আইসিপিএ-র মুখপাত্র বলছেন, “পাইলটদের ওপর দোষ চাপিয়ে তদন্তের দায় এড়ানো হচ্ছে। বিমানের সেন্সর সিস্টেম এবং সফটওয়্যারে সমস্যার কথা বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগে উঠে এসেছে। এগুলো তদন্তের কেন্দ্রে থাকা উচিত।” তারা আরও বলেন, প্রাথমিক রিপোর্টে পাইলটদের প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার প্রশংসা না করে শুধু তাদের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই বার্তাকে পেশাদার পাইলটদের প্রতি অবিচার বলেই মনে করছেন।

ইন্ডিয়ান কমার্শিয়াল পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন (আইসিপিএ), যারা ভারতের নিয়মিত বিমান সংস্থাগুলিতে কর্মরত প্রায় ১,০০০ পাইলটের প্রতিনিধিত্ব করে, প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে পাইলটের আত্মহত্যাকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করাকে “দায়িত্বজ্ঞানহীন” এবং “গভীরভাবে অসংবেদনশীল” বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিপিএ এই অভিযোগকে অবান্তর আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১৭১-এর দুর্ঘটনার তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি যে কোন মন্তব্যটি বিমানের ক্যাপ্টেন এবং কোনটি ফার্স্ট অফিসারের। এমনকী, দুর্ঘটনার ঠিক পূর্বে “মেডে, মেডে, মেডে” ডাকটি কোন পাইলটের পক্ষ থেকে এসেছিল,তাও স্পষ্ট নয়। এই অস্পষ্টতা তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

আরও পড়ুন-বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার! দুর্ঘটনাগ্রস্থ বিমানটি আদৌ যাত্রী পরিবহণের যোগ্য ছিল?

মনে রাখতে হবে, বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের নিরাপত্তা নিয়ে। হুইসেলব্লোয়ারদের দাবি, বোয়িংয়ের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি রয়েছে। নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে বিমানের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই দুর্ঘটনার পর সেই অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও দুর্ঘটনার পরে বোয়িং দাবি করেছে, তাদের বিমানগুলি কঠোর গুণমান নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে, আইসিপিএ এবং অন্যান্য পাইলট সংগঠনগুলি দাবি করছে, সিএএআই-এর তদন্তে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে। তারা একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির গঠন দাবি করেছে, যাতে বোয়িংয়ের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার অপারেশনাল প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়। এই ঘটনা ভারতের বিমান চলাচলের সুরক্ষা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। সরকার এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।

More Articles