হাতে প্যালেস্টাইনের পতাকা।। ইস্টবেঙ্গল স্বাগত জানাল রশিদকে

Mohammed Rashid: প্যালেস্টাইন জাতীয় দলের মিডফিল্ডার ২৯ বছরের রশিদকে সই করিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদ শিবিরে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত্রে কলকাতায় নেমেছেন তিনি৷

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ-জয়ী লিভারপুল-ই হোক বা স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত ক্লাব সেল্টিক— গত দেড় বছরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ফুটবল গ্যালারি সেজে উঠেছে প্যালেস্টাইনের পতাকায়৷ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের আগে ফ্রান্সের পিএসজি-র হাজার-হাজার সমর্থক মিছিল করেছেন প্যালেস্টাইনের পতাকা নিয়ে। এবার সেই মিছিলে শামিল হলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরাও। সৌজন্যে, মোহাম্মদ রশিদ। লাল-হলুদের নতুন বিদেশি ফুটবলার।

আরও পড়ুন-

আগুন-ধোঁয়ার কুণ্ডলী ও দুই ফুটবলার! কীভাবে জন্ম নিল পৃথিবী বিখ্যাত এই ছবি?

প্যালেস্টাইন জাতীয় দলের মিডফিল্ডার ২৯ বছরের রশিদকে সই করিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদ শিবিরে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত্রে কলকাতায় নেমেছেন তিনি৷ রশিদকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন অসংখ্য ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। তারকা মিডফিল্ডারকে দেখে আবেগের বাঁধ ভাঙে সমর্থকদের৷ রশিদের নামে জয়ধ্বনি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান তাঁরা। ভারতের ত্রিবর্ণরঞ্জিত জাতীয় পতাকা এবং ইস্টবেঙ্গলের লাল-হলুদ পতাকার পাশাপাশি ছিল প্যালেস্টাইনের পতাকাও৷ একজন ইস্টবেঙ্গল সমর্থক রশিদের হাতে তুলে দেন তাঁদের দেশের নিশান।

খেলার মাঠে মোহাম্মদ রশিদ

প্যালেস্টাইনের পতাকা গত দেড় বছরে হয়ে উঠেছে ফুটবল গ্যালারির এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জেতার পরে লিভারপুলের ভিক্ট্রি প্যারেডেও সমর্থকরা প্যালেস্টাইনের পতাকা নিয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। চ্যাম্পিয়ন ট্রফি-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল টুর্নামেন্টে হাজার-হাজার সমর্থক প্যালেস্টাইনে চলমান 'গণহত্যা' বন্ধের দাবিতে পোস্টার নিয়ে গ্যালারিতে গিয়েছেন৷ অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলার সোচ্চার হয়েছেন প্যালেস্টাইনের সমর্থনে। ফুটবলের সাফল্যের বিচারে ভারত তৃতীয় বিশ্বের দেশ। ইস্টবেঙ্গলও বহুদিন সাফল্যের ধারেকাছে নেই। কিন্তু রশিদকে স্বাগত জানাতে প্যালেস্টাইনের পতাকা ব্যবহার করে লিভারপুল, সেল্টিক, পিএসজি-র মতো বিশ্বকাঁপানো ক্লাবগুলির সমর্থকদের সঙ্গে এক আসনে বসলেন লাল-হলুদ সমর্থকরা।

কলকাতায় নামার পর সমর্থকদের ভিড়ে, রশিদ

গত মরশুমে ইন্দোনেশিয়ার ক্লাব পার্সেবাসা সুরাবায়া-তে খেলেছিলেন। ক্লাবের জার্সিতে ৩২ ম্যাচে করেছিলেন ৬ গোল। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডের পাশাপাশি সেন্ট্রাল মিডফিল্ডেও খেলতে পারেন রশিদ। পায়ে আছে গোলার মতো শট। প্যালেস্টাইনের জাতীয় দলের হয়ে প্রায় ৫০টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি৷ মাঠে অসম্ভব পরিশ্রম করেন রশিদ। কাজ করেন দলের হৃদপিণ্ড হিসাবে।

আরও পড়ুন-

ফুটবল জানে এক আশ্চর্য জাদুকরের নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো

এই মরশুমেও ইন্দোনেশিয়ার একটি ক্লাবের প্রস্তাব ছিল রশিদের কাছে। প্রস্তাব ছিল সৌদি আরবের ক্লাবেরও। কিন্তু প্যালেস্তাইনের রামাল্লা শহরে জন্মানো রশিদ বেছে নিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলকেই৷ কিছুদিন আগেই ফিফাকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রশিদ। তাঁর কথায়:

অসম্ভব বলে কোনো শব্দ নেই আমাদের অভিধানে। আমরা প্যালেস্তিনীয়রা সকলেই যোদ্ধা।

লাল-হলুদ সমর্থকদের মনে সুদীর্ঘ ব্যর্থতার বিষাদের মেঘ জমাট বেঁধে আছে। 'যোদ্ধা' রশিদ কি পারবেন সেই মেঘের জাল কেটে সাফল্যের সূর্যকে নিয়ে আসতে? সময়ই তার উত্তর দেবে!

More Articles