মুম্বই থেকে খেদিয়ে বাংলাদেশ! কী ভাবে ঘরে ফিরলেন নাজিমুদ্দিন?

Migrant workers from Bengal : তারপর জোর করে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়। অভিযোগ বিএসএফ তাঁর থেকে ১৮ হাজার টাকা কেড়ে নিয়ে হাতে ধরিয়ে দেয় ৩০০ বাংলাদেশি রূপি।

মুর্শিদাবদের তরতিপুর গ্রামের ছেলে নাজিমুদ্দিন। জমি নেই, কর্মসংস্থান নেই। তাই মিস্ত্রির কাজ নিয়ে মুম্বই রওনা দেন। সেখান থেকে খেদিয়ে বাংলাদেশ পাঠানো হতে পারে, ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি নাজিমুদ্দিন।

গত ৮ জুলাই রাত দুটোয় মুম্বই পুলিশ নাজিমকে বাংলাদেশি সন্দেহে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তারপর জোর করে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়। অভিযোগ বিএসএফ তাঁর থেকে ১৮ হাজার টাকা কেড়ে নিয়ে হাতে ধরিয়ে দেয় ৩০০ বাংলাদেশি রূপি।

গত কয়েক মাস ধরেই ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের আটক করে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। নাজিমও সেই সন্ত্রাসের শিকার।

নাজিমুদ্দিন

মুর্শিদাবদের ভৈরব নদী লাগোয়া তরতিপুর গ্রামের বাসিন্দা নাজিমুদ্দিন। বাবা কালু মণ্ডল ন্যুব্জপ্রায়। এক ছটাক জমি আছে তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। রাজমিস্ত্রির কাজ করে রাজ্যে সর্বোচ্চ আয় করা যায় ৫০০ টাকা। মুম্বইয়ে রেট ১৩০০ টাকা। প্রত্যহ ৮০০ টাকা বেশি পেলে হিল্লে হবে, এই ভাবনা থেকেই মুম্বই যাওয়া নাজিমের।প্রায় চার-পাঁচ বছর মুম্বইতেই কাজ করে নাজিম পাকা বাড়ি করেছেন।

আরও পড়ুন- কালিয়াচকের পরিযায়ী শ্রমিক আমির শেখকে যেভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হল

উক্তদিনে নাজিমকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর ক্রমে তাঁর ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, জন্ম সার্টিফিকেট সব নথি কেড়ে নেওয়া হয়। বলা হয়, সব নথি নকল।

নাজিমের বক্তব্য, তাঁকে আটক করে চারদিন রাখার পর প্রথমে পুনে আনা হয়। তারপর ত্রিপুরা সেখান থেকে বাগডোগরা এনে বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। নাজিমের অভিযোগ, বিএসএফ তাঁকে ব্যাপক পেটানোর পর, রাত তিনটের সময় কোচবিহার বর্ডার থেকে বাংলাদেশে পাচার করে দেয়।

নাজিমুদ্দিনের স্ত্রী

নাজিম ইনস্ক্রিপ্টকে বলেন, "কোনোরকমে বর্ডার লাগোয়া জঙ্গলে তিনদিন কাটিয়েছি। স্থানীয় কিছু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তাঁদের সাহায্যেই বাড়ির লোক, পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্যমঞ্চের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চাপেই বিএসএফ নাজিমদের ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়।" সূত্রের খবর পরিযায়ী শ্রমিক ঐক্যমঞ্চের চাপেই বিডিআর নাজিমদের বাড়ি ফেরার ব্যাপারে সাহায্য করে। মেখলিগঞ্জ দিয়ে ফেরানো হয় নাজিম-সহ আরও কয়েকজনকে।

মুর্শিদাবাদের নানা প্রান্ত জুড়ে ছড়িয়ে আছে নাজিমের মতো বহু পরিযায়ী শ্রমিক। যাদের কাজ জোটাতে গিয়ে কপালে মার জুটেছে। রাজ্যে কি কাজ জুটবে নাকি ফের জীবন বাজি রেখে ফিরতে হবে ভিনরাজ্যে, বৃহত্তর ঠিকা কাজের বাজারে? এই প্রশ্নেই তন্দ্রাহারা দিন কাটাচ্ছেন নাজিমরা।

More Articles