আমার সামাজিক ভূমিকা একটাই, কনফেশন
Rahul Purkayastha: আমার দেখাও পালটায়, দর্শনটা পালটায়। মানে জীবনটা আস্তে আস্তে যত এগোচ্ছে, অনেক কিছু পাল্টে যাচ্ছে।
অভিরূপ: শোক, অপমান, যন্ত্রণা এবং আনন্দ। এই শব্দগুলি আপনার জীবনে আজ কী অর্থ নিয়ে দেখা দেয়?
রাহুল: শোক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমি এক সময় কবিতা লিখতাম। কবিতা আমার কাছে একটা মুক্তির উপায়ের মতো ছিল। তারপর ধরো, আমার ছোট বোন মারা যাওয়ার পরও কবিতা লিখেছি। কিন্তু সেই মুক্তির পথটা পাইনি এখনো। তবে শোক থেকে সব সময় বাঁচব বলেই যে কবিতা লিখেছি, তাও নয়। আসলে সবটা মনের মধ্যে মিলেমিশে থাকে। অনেক সময় সাম্প্রতিকতম মৃত্যু আগের মৃত্যুগুলিকে আবছা করে দাঁড়ায়। সেটা অনেক বেশি বড়ো মনে হয় তখন। যেমন, আমার বোন ছিল। এখন বোন নেই। ফলে আমার কাছে আর সকাল-বিকেল ফোন আসে না। ‘খেলি কিনা?’ জিজ্ঞেস করে না বোন। এখানে একটা ব্যাপার হচ্ছে যে, বোন শুধু না, ধরো, আমি বিভিন্ন বারে যেতাম, তা কীসের জন্য? যেতাম সম্পর্কের জন্য! অনেকে আমার বন্ধু হয়েছিলেন সেখানে। যেমন, লালুদা। লালুদা বলত, 'তিন পেগ হয়ে গেছে, আর খাবেন না দাদা।' এই যে ‘তিন পেগ হয়ে গেছে আর খাবেন না’, ওর বলা কথাটি থেকে আমি পরম আত্মীয়ের স্বাদ পেতাম।
অর্ক: অনেকটা গৃহস্থের মতো!
রাহুল: হ্যাঁ। আমার যখন ছেলে হল। হক সাহেব বারের তখন ম্যানেজার। তিনি বললেন, একদিন তো ছেলেকে দেখতে হয়। আমি তো বাড়ি যেতে পারব না, আপনি যদি নিয়ে আসেন! আমি একদিন প্রক্সি-র পাশ দিয়ে যাচ্ছি, গাড়ি দাঁড় করলাম, আর কেউ কিছু বোঝার আগেই সাত মাসের ছেলেকে কোলে নিয়ে আমি সোজা হক সাহেবের সামনে কাউন্টারে বসিয়ে দিলাম। বললাম, ‘এই যে হক সাহেব, ছেলে।’ হক সাহেব বললেন, ‘বাবা, কিছু তো নেই, দাঁড়াও, একটা কয়েন দিই তোমায়’। একটা কয়েন দিয়ে বললেন, ‘এটাকে ধরে নাও আর রুপোর কয়েন!’ এঁদের, এইসব অচেনা মানুষদের আমার পরম আত্মীয়র মতো মনে হত। ফলে, আমার কোনো রোববার সকালে শঙ্খ ঘোষের বাড়ি যাওয়ার কী সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি যাওয়ার তাড়না ছিল না।
অভিরূপ: শোক আর যন্ত্রণাকে কীভাবে আলাদা করেন আপনি?
রাহুল: যন্ত্রণা বিভিন্নভাবে পাওয়া যেতে পারে। শোকের বাইরেও যন্ত্রণা হয়। আনন্দেরও কিন্তু একটা যন্ত্রণা আছে। আনন্দের যন্ত্রণা, ঠিক কি? আনন্দ তো ক্ষণস্থায়ী, তাও আনন্দ তোমাকে যন্ত্রণা দিয়ে যায়। এটা মনে হয় বারবার। যেমন, এখন আনন্দের কবিতা খুব কম লেখা হয়। পাবেই না প্রায়। আনন্দের কবিতা প্রায় কেউই লেখে না। বিষাদ ধরন, আবার এর থেকে আলাদা। বিষাদকে আমার যে-কোনও শিল্পের ধাত্রী বলে মনে হয়।
অভিরূপ: আর অপমানকে কীভাবে দেখেন?
রাহুল: অপমানিত তো হতে হয়। কবিতা লেখার জন্য আরও বেশি করে অপমানিত হতে হয়। আমরা যখন কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম, তখন কবিতা লেখাটা খুব একটা ভালো কাজ ছিল না। মুখে দাঁড়ি, কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ঘোরা কবিদের বিভিন্নরকম আওয়াজ দিত লোকে।
অর্ক: সামাজিক ট্যাবু ছিল তখন!
রাহুল : হ্যাঁ। ‘তোমরা কবিতা লেখো?’ এই বলে, লোকে হাসত। এইগুলো খুবই অপমানজনক। আস্তে-আস্তে যত বয়স বাড়তে শুরু করল, অপমানের অর্থ পালটাতে থাকল বিভিন্নভাবে। কাউকে হয়তো নিজের একটা বই দিলাম। সে কিছুই বলল না। খারাপ, ভালো— কোনোটাই না। নীরবতার অপমান, সাংঘাতিক। এই ধরনের অপমান লেখার মনে গিয়ে ধাক্কা মারে। আরেক ধরনের অপমান হল, অস্তিত্বগত অপমান। যেমন, আমার ব্যক্তিগত জীবনে বিভিন্ন রকম অপমান আছে। আমার একটার পর একটা বিবাহবিচ্ছেদ, আমার সন্তানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই, তার মা আমার কাছে তাকে আসতে দেয় না। এগুলোও এক ধরনের অপমান। এই সমস্ত অপমান শেষে, এখন, আমার জীবনটা অন্য খাতে বইছে। আমি একটু শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আমার এখনকার স্ত্রী, তাকে আমি অন্যভাবে পেয়েছি। প্রয়োজনের থেকে একটা ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। বর্ণালী না থাকলে, আমি, আমার লেখা, বেঁচে থাকা কিছুই হত না। ফলে, বর্ণালী আমার কোনো ব্যবহারে যদি দুঃখ পায়, আমি বুঝতে পারলে, আমি নিজের আচরণে অপমানিত বোধ করি। ফলে, অপমানটা ভিন্ন চেহারায়ে আসে। আর হ্যাঁ, তুমি যদি লেখালেখি করতে আসো বা শিল্পকর্ম করতে আসো, বা অভিনয় করতে আসো, অপমান তোমার জন্য বরাদ্দ। এটা তোমাকে মেনে নিতেই হবে।
আরও পড়ুন- কলকাতার রাস্তার মতো পানশালা আর কোথাও নেই…
অর্ক : আসলে সত্তাটাই অপমানিত হতে-হতে যাবে, এটাই তার নিয়তি। অন্য একটা কথা বলি। তোমার লেখায়, তুমি শারীরিক অসুস্থতা, মৃত্যু, এগুলোকে বিগত কয়েক বছর দেখছ, কিন্তু তার আগেও তোমার অনেক কবিতায় 'মৃত্যু' ঘুরে-ফিরে এসেছে। তোমার কবিতায় ঘুরে-ফিরে আসা মৃত্যুকে 'চেতনা' বলছি না কিন্তু, 'বোধ' বলছি। এ-সম্পর্কে তোমার কী মনে হয়?
রাহুল: আমার অসুস্থতার কথা, আমার কবিতায় আছে। আমার যে রক্তে জল, সে-কথা আমার আগের লেখাতেও প্রচুর আছে। আমার একটা কথা খুব মনে হয়, কথাটা খুব বড়ো কথা হয়ে যাবে, তবু বলছি। আমার মনে হয়, একজন কবি ভবিষ্যতে যে অবস্থায় পড়বে, সেটা তার কবিতায় লেখা থাকে। কবিতা সেই সংকেতটা দেয়।
অর্ক: তুমি লিখেছিলে, 'কবি জন্ম মূর্ছা যায়। কবি জন্ম বাঁচে’!
রাহুল: যখন আমি বাবাকে নিয়ে যাচ্ছি, তখন মনে পড়ছে আমি একটা কবিতা লিখেছিলাম, ‘জোর পায়ে লাফ দিল গাঢ় অ্যাম্বুলেন্স’। বাবা ফিরবে না, এটা আমি আগে থেকেই বুঝতে পারতাম।
অর্ক: এই অনুমানটা আগে থেকেই কবিতায় লেখা ছিল!
রাহুল : হ্যাঁ, এভাবেই লেখা মিলে যায়। ফলে, এখন কোনো কবি মারা গেলে, তাঁর কবিতায় তিনি মৃত্যুকে কীভাবে লিখেছেন, সেটা আমি খুঁজতে থাকি। যদি তুমি কবিকে সত্যদ্রষ্টা হিসেবে ধরো, একজন কবি, যে সত্য দেখতে পান, তাঁর চলে যাওয়ার পর সেই লিখিত সত্যকে পড়তে চাই আমি। নিজের একটা লেখা পড়তে এখন ভয় পাই, আমি লিখেছিলাম যে ‘গলা পঁচা গন্ধময় আমার মৃত শরীরটা, তার উপর মাছি উড়ছে’। আমার খুব ভয় ছিল যে, যখন আমি একা ছিলাম বাড়িতে, অসুস্থ, সারাদিন একা থাকতাম, হামাগুড়ি দিয়ে ওয়াশরুম যেতাম, তখন আমি এই লেখাটা বার বার মনে করতাম যে, আমার মৃত্যু তো আমি ওভাবে লিখেছি যে 'গলা পঁচা গন্ধ ময় শরীরের মাছি'। ফলে, তুমি একটা লেখা লেখার পরে, লেখাটা আর তোমার আয়ত্তে থাকে না। কিন্তু সেই লেখাটাকে তোমায় আজীবন বহন করতে হয়।
অর্ক : তার মানে, লেখা অনেকটা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের মতো?
রাহুল : হ্যাঁ, লেখাটা গিলে খায়। লেখা আমার আয়ু খায়। লেখাটা শেষ করে দেয়।
অর্ক : তুমি লিখেছো এটা যে, লেখা সর্বস্ব খায়।
রাহুল : খায়, সব খায়। তুমি যদি আজকে না লিখতে আসতে, তাহলে তোমার জীবনটা অন্যরকম হত! আসলে আমরা সব কিছু থেকে আরোহণ করছি। তুমি কি সত্যিই প্রেমিক? না। প্রেম থেকে তুমি নিজের লেখা আহরণ করো। অর্থাৎ তোমার একটা ধান্দা আছে।
অভিরূপ: কারুবাসনা আমার জীবনকে ধ্বংস করে দিয়েছে!
রাহুল: ঠিক তাই। আসলে কোথাও তোমার কোনো শুদ্ধ সত্তা নেই। যখন একটা ঘটনা মনে পড়ছে, তুমি তোমার লেখাতে খুঁজছ, যে এমন কিছু কখনো লিখেছিলাম কিনা। এ-ঘটনা আমার জীবনে ঘটছে কিনা! আমার খুব দৃঢ় বিশ্বাস, যদি সত্যি-সত্যি তুমি কবিতা লিখতে পারো, এ-ঘটনা তোমার জীবনে ঘটবেই। তার ইঙ্গিত থাকে কবিতায়। সংকেত থাকে কবিতায়। কবিতা কিছু বলে না। কবিতা সরাসরি জীবনে ঢুকে যায়।
অর্ক: তুমি লিখেছিলে যে, ‘তোমার অনার্দ্র স্বর অনেক দূরে শোনা যায়’। অনেক দূরটা মানে, তুমি এখন কবিতায় আছো আর সেটা জীবনে প্রতিফলিত হচ্ছে।
রাহুল: হ্যাঁ, এবং কবিতার নাম বোধহয় ‘জ্বরা’। এই কবিতাটি লেখার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়লাম।
অর্ক: অভিরূপ তুই ভাব— তোমার অনার্দ্র স্বর, যা আর্দ্র নয়, যা ভেজা নয়, রুক্ষ, যা তীক্ষ্ণ। সেটা অনেক দূর ভেসে যাচ্ছে। তার মানে কি? অনেক দূর শোনা যাচ্ছে। তার মানে কি সেটা সত্য হয়ে আবার জীবনে দেখা দিচ্ছে?
রাহুল: দিচ্ছে। এবং ‘জ্বরা’ লেখার পরেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম।
অভিরূপ: আপনি কবিতায় সংকেত ও রহস্যকে কীভাবে দেখতে চান?
রাহুল: সংকেতকে আমার খুব জরুরি বলে মনে হয়। কবিতায়, ইশারাই আসল। আমি তোমাকে ইশারা দিয়ে গেলাম। সেটা পড়ে নাও। আমার বাবা চাইতেন না আমি লিখি। বাবার ধারণা ছিল, কবিতা লিখলে পরে খাবার জোটে না। আমার বাবা আস্তে-আস্তে খুব গরিব হয়ে গেছিলেন, ফলে ওঁর কষ্টটা খুব ভয়ঙ্কর ছিল। আমি তখন টিউশানি করে সংসার চালাই। ঠিকমতো ওষুধ খাওয়াতে পারছি না, বিরাট ডাক্তার ডাকব, পয়সা কোথায়? উনি বুঝতে পারছেন, আমার কষ্ট হচ্ছে। সেই সময় আমার প্রথম বইটা বের হল। কিচ্ছু না, বইটার কোনো অর্থ নেই আমার কাছে। তবু বইটা আমার কাছে খুব চিরজীবী। কী কারণে জানো? সেই যে বাবা চাইতেন না, আমি কবিতা লিখি, রেগে যেতেন, সেই বাবাই যখন আমি রাতে বইমেলা থেকে ফিরতাম, শুনতে পেতাম পাশে বসে ফ্যাঁসফ্যাঁসে গলায় মা-র কাছে জানতে চাইতেন, ‘আজ কয়ডা বিক্রি হলো?’ এইটাই আমার কাছে আমার প্রথম বইয়ের একমাত্র আনন্দ!
আরও পড়ুন- পাঠকের সামনে ভালো বই তুলে ধরতে চায় প্রতিক্ষণ
অর্ক: পার্থপ্রতিম বলেছিলেন, কবিতা লেখার জন্য পুরস্কার নেওয়াও পাপ, দেওয়াও পাপ। এই পার্থপ্রতিম কিন্তু জীবনের মাঝে, নামকরা প্রতিষ্ঠান বই প্রকাশ করেছেন আবার জীবনের শেষে পুরস্কারও নিয়েছে প্রতিষ্ঠান থেকে। কবিতার স্বীকৃতি আসলে কি? এবং পুরস্কারের সঙ্গে কবিতার, কবির সম্পর্কই-বা কি?
রাহুল: আমি আমার কবিতাকে ভালোবাসি। এটাও এক ধরনের স্বীকৃতি। আমি আমার কবিতার মধ্যে আছি, থাকি। আমি অন্য কবিতার মধ্যে থাকি না, এটা এক ধরনের স্বীকৃতি। আর এক ধরনের স্বীকৃতি হতে পারে যে তোমার দুটো কী তিনটে পাঠক আছে। পাঠক তো সবাই চায়। এটাও একটা স্বীকৃতি। ফলে এই পুরস্কার, 'নেবো না বা নেব' এটা একটা ব্যক্তিগত বিষয়। আমি পুরস্কার নেব না, তা মনে করি না। কারণ আমার অর্থের প্রয়োজন আছে। আরেকটা জিনিসও আমার মনে হয় যে, আমি তো এদের পায়ের তেল মারিনি। এরা তো আমাকে নিজে থেকে দিচ্ছে পুরস্কার, আমার কবিতার জন্য।
অভিরূপ: আমি তো এটায় এফর্ট দিইনি কোনো!
রাহুল: হ্যাঁ, সেটাই। অর্থাৎ কোথাও একজন-দুজন কেউ কেউ আছে যারা চায়, আমি পুরস্কার পাই। সেই পুরস্কার গ্রহণ করে, তাদেরকে সম্মান জানানোও তো আমার উচিত।
অর্ক: তোমাকে যদি কেউ প্রশ্ন করে যে তোমার কাব্যদর্শন আসলে কি?
রাহুল: পরিষ্কার জিনিস, আমার দর্শন হচ্ছে আমার বেঁচে থাকা। আমার বেঁচে থাকার মধ্যে অনেক কিছু এসে পড়ে।
অভিরূপ: কিন্তু সেই বেঁচে থাকাও তো নির্দিষ্ট নয়, সেটাও তো পাল্টাচ্ছে।
রাহুল: পাল্টাচ্ছে তো।
অভিরূপ: বেঁচে থাকার সঙ্গে-সঙ্গে তাহলে কবিতার দর্শনও পালটায়?
রাহুল: পালটায়। আমার দেখাও পালটায়, দর্শনও পালটায়। জীবনটা আস্তে-আস্তে যত এগোচ্ছে, অনেক কিছু পাল্টে যাচ্ছে। ফলে এটাই আমার দর্শন। এই দর্শনের মধ্যে অনেকের দর্শন ছাপ ফেলে হয়তো। আমি কখনো দর্শন নিয়ে লিখব বলে কোনো লেখা লিখিনি। আমাকে অনির্বাণদা একবার প্রশ্ন করেছিল, 'আরে তুমি আগে ভাবো তারপর লেখো?' আমি বললাম, 'না, আগে ভাবি, তারপর লিখি না । লেখাটা হয়ে যাওয়ার পরে মনে আসে, আরে এইটা তো শালা কেউ বলে গেছে।' কিন্তু সেই লেখাগুলিকেও রেখে দিই এইজন্য, যে, লেখাটার মধ্যে অরিজিনালিটি আছে। আমি কারো কথা টুকিনি। আমি কারো কথা বলিনি। ফলে অনেকের দর্শনের ছাপ পাওয়া যায় আমার লেখার মধ্যে। সেটা হয়তো আমার অনেক বিষয়ে বই পড়ার জন্য হতে পারে, আমি ঠিক জানি না। এটুকু বলতে পারি, মূলত আমি যে জীবনটা যাপন করি, সেটাই আমার দর্শন!
অর্ক: একজন কবির সামাজিক ভূমিকা কি? তোমার একটা কবিতা আছে 'আমার সামাজিক ভূমিকা'।
রাহুল: আমার সামাজিক ভূমিকা হচ্ছে একটাই, কনফেশন। শুধু স্বীকারোক্তি।
অর্ক: আমার শেষ প্রশ্ন, তাহলে আসলে কবি কি চায়? সে কি সব কিছু থেকে দূরত্ব চায়?
রাহুল: না। আমি যে কবিত্বের কথা ভাবি, সে একটা আয়না চায়। যে আয়নার বাস্তবের কোনো উপস্থিতি নেই। সে আয়নায় সে তার নিজের মুখ দেখে। এটুকুই শুধু তার চাওয়া!