বাংলাদেশে জাতীয় দুর্যোগ! কী ভাবে ঘটল এত বড় বিমান দুর্ঘটনা?
Bangladesh plane crash: মোট ১৬৪ জন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী বলে জানা গিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। এবার বাংলাদেশে। ঢাকার উত্তরায় বাংলাদেশের বায়ুসেনার প্রশিক্ষণ বিমান ২১ জুলাই একটি স্কুলের উপর ভেঙে পড়ে। উড়ানের ১২ মিনিটের মধ্যেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ শতাধিক। মোট ১৬৪ জন ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী বলে জানা গিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আইএসপিআর জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ১টা ৬মিনিটে বাংলাদেশ বায়ুসেনার এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান উড়ানের পরই ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বিল্ডিংয়ে ভেঙে পড়ে। বিদ্যালয়ে সেই সময় পঠন-পাঠন চলছিল। স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল। এই দুর্ঘটনায় বিমানসেনা ও মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক-কর্মচারী-সহ অন্যান্যদের আহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থলের আগুন এবং ধোঁয়ার ভিডিও ছড়িয়ে গিয়েছে।
যে ভবনটিতে প্রশিক্ষণ বিমানটি ভেঙে পড়েছে সেখানে সেই সময় স্কুলের জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছিল বলে একজন শিক্ষক জানিয়েছেন বিবিসি-কে। মাইলস্টোনের প্রভাষক রেজাউল ইসলাম বিবিসি-কে জানিয়েছেন, ছুটির আগে বা ছুটি হবে হবে এইরকম সময়ে ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি বলেন, "একটা প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান সরাসরি বিল্ডিংয়ে আঘাত করে। সেটা জুনিয়র সেকশনের বিল্ডিংয়ে পড়ে, নার্সারি, ওয়ান, টু, থ্রি- এসব ক্লাস ওই বিল্ডিংয়ে হয়। বিল্ডিংয়ের গেটে একেবারে গর্ত হয়ে আগুন ধরে যায়।"
আরও পড়ুন- Air India plane crash : কেন রয়টার্সকে কাঠগড়ায় তুলছে পাইলটদের সংগঠন?
উদ্ধারকাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট কাজ করছে। প্রয়োজনে আরও ফায়ার ইঞ্জিন পাঠানো হবে। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ভেঙে পড়া এফ-সেভেন বিজি(F-7 BG) বিমানটি বায়ুসেনার। বি ডি নিউজ-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ভেঙে পড়ার পর আগুন ধরে যায়, অনেক দূর থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গিয়েছিল।
সোমবার বিকেল ৫টায় আইএসপিআর- এর বিজ্ঞপ্তিতে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের তালিকা দেওয়া হয়েছে। সেই তথ্য অনুযায়ী,
কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল: আহত ৮, নিহত নেই;
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে আহত ৭০, নিহত ২;
সিএমএইচ ঢাকায় আহত ১৪ ও নিহত ১১;
কুর্মিটোলা জেনারেল হসপিটালে আহত নেই নিহত ২;
উত্তরার লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে আহত ১১ ও নিহত ২;
উত্তরা আধুনিক হসপিটাল আহত ৬০ ও নিহত ১;
উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল আহত ১, নিহত নেই
আরও পড়ুন-আমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা: প্রাথমিক রিপোর্টের সুর নিয়ে পাইলটদের সংগঠনের ক্ষোভ
বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস শোক বার্তা দিয়েছেন। বাংলাদেশে আগামীকাল ২১ জুলাই একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। পাশাপাশি সকল সরকারি , বেসরকারি ভবন ও বিদেশে বাংলাদেশী মিশনেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। আহত নিহতদের জন্য দেশের সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাটি কীভাবে ঘটলো, সরকার সেটি খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বার্তায় আরও জানিয়েছেন, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় জরুরী প্রয়োজনে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে ইমার্জেন্সি হটলাইন চালু করা হয়েছে। হটলাইন নম্বর- ০১৯৪৯০৪৩৬৯৭