ট্রাম্পের ফোন আসেনি, মাথা নত করেছিল পাকিস্তানই, বলছেন এস জয়শঙ্কর

Pakistan: তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু ভারতের অবস্থান একই ছিল— পাকিস্তান সামরিক সূত্রের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ না করলে কোনও যুদ্ধবিরতি হবে না।

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাজ্যসভায় দাবি করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কারণেই জঙ্গিবাদ এখন গ্লোবাল ইস্যু।

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা নিয়ে রাজ্যসভায় মুখ খুললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সৌজন্যে সন্ত্রাসবাদ গ্লোবাল অ্যাজেন্ডা হয়ে উঠেছে। ভারতের জঙ্গিবাদ-বিরোধী বহুমুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা বাণিজ্য ও কূটনীতির মাধ্যমে পাকিস্তানের উপর চাপ সৃষ্টি করেছি। প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে পাকিস্তান-ভিত্তিক প্রক্সি আতঙ্কবাদী সংগঠন দ্য রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)-এর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।”

পাশাপাশি মুম্বই আক্রমণের প্রধান অভিযুক্ত তাহাউর হুসেন রানার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর জানান, “আমরা তাহাউর রানাকে ভারতে ফিরিয়ে এনেছি। তিনি এখন আতঙ্কবাদী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক সাফল্য।” জয়শঙ্কর আরও জানান, চিনের বারবার ভেটো সত্ত্বেও ভারতের কূটনৈতিক সাফল্যের ফলে মাসুদ আজহার ও আব্দুল রেহমান মাক্কির মতো কুখ্যাত জঙ্গিদের জাতিসংঘে দাগী জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন- আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি পাকিস্তান! যেভাবে বিপদ এড়াল ইন্ডিগোর উড়ান

কংগ্রেসেকে কটাক্ষ করে জয়শঙ্কর বলেন, ২৬/১১ মুম্বই হামলা ও লন্ডন বোমা হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনা সত্ত্বেও পূর্ববর্তী ইউপিএ সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গিয়েছিল।
জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, কোয়াড এবং ব্রিকস দেশগুলো ২২ এপ্রিলের পাহাড়গাম হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে আতঙ্কবাদ নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ এখন বিশ্বব্যাপী ঐকমত্যের দিকে এগোচ্ছে।

পাকিস্তান প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকে অঞ্চল শুধু ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের কেন্দ্র নয়, বরং বিশ্ব আতঙ্কবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। “বিশ্ব এই হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় পদক্ষেপের প্রশংসা করছে,” বক্তব্য এস জয়শঙ্করের।

পাকিস্তান নিয়ে ভারতের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে মোদী সরকারের নেওয়া কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। জয়শঙ্কর বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখা হয়েছে। “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। পাকিস্তান জঙ্গিবাদ বন্ধ না হলে এই চুক্তি স্থগিইত থাকবে। এটা জঙ্গিতোষণের মূল্য,” তিনি বলেন।

তিনি জানান,সার্ক কাঠামোয় পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এটি পাকিস্তানের সীমান্ত পেরিয়ে আতঙ্কবাদের সমর্থনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিরোধ।
“আতঙ্কবাদে ভারতের মতো কোনও দেশ এত ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি,” বলেন জয়শঙ্কর। তিনি উল্লেখ করেন, ইউপিএ আমলে একাধিক আতঙ্কবাদী হামলা ঘটেছিল।

আরও পড়ুন- যে ১১টি শর্তে পাকিস্তানকে ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিল আইএমএফ

কংগ্রেসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “কংগ্রেস পাকিস্তানের পাঞ্জাব নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিল, জম্মু ও কাশ্মীরের কৃষকদের নিয়ে নয়।” তাঁর মতভারতের নীতি হলো “রক্ত ও জল একসঙ্গে প্রবাহিত হবে না।” তিনি জানান, ‘অপারেশন সিন্দুর’ পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে শুরু করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে জয়শঙ্করের দাবি, ভারতের শক্তিশালী সামরিক অবস্থানের পর পাকিস্তান পরোক্ষভাবে বার্তা পাঠিয়ে অপারেশন বন্ধের অনুরোধ করেছিল। “কিন্তু আমাদের বার্তা ছিল স্পষ্ট, পাকিস্তান যদি যুদ্ধবিরতি চায়, তবে তাদের সামরিক অপারেশনের মহাপরিচালক (ডিজিএমও)-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করতে হবে,” তিনি বলেন।

লোকসভায় বিরোধীরা যখন বারবার প্রশ্ন করছে, কেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি তত্ত্ব নিয়ে চুপ মোদি সরকার, তিনি স্পষ্ট করে বলছেন, ২২ এপ্রিল থেকে ১৬ মে-র মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কোনও সরাসরি কথোপকথন হয়নি। বিরোধীদের দাবি খণ্ডন করে তিনি বলেন, “কোনও ফোন কল হয়নি। ভালো করে শুনুন, একটিও নয়।”

তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু ভারতের অবস্থান একই ছিল—পাকিস্তান সামরিক সূত্রের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ না করলে কোনও যুদ্ধবিরতি হবে না।

জয়শঙ্কর আরও বলেন, ভারত কখনও পাকিস্তানের পারমাণবিক হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। “প্রধানমন্ত্রী মোদী নেহরুর ভুল সংশোধন করেছেন। আমরা পাকিস্তানের পারমাণবিক হুমকির কাছে মাথা নত করব না,” তিনি বলেন।

More Articles