Air India plane crash : কেন রয়টার্সকে কাঠগড়ায় তুলছে পাইলটদের সংগঠন?

Air India plane crash : এই সংবাদ মাধ্যম ও সংবাদ সংস্থার বিরুদ্ধে ভুয়ো তথ্য প্রেরণের অভিযোগ উঠছে। প্রকাশ্যে ক্ষমা না-চাইলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এফআইপি (দ্য ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পাইলটস)।

এবার কাঠগড়ায় ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এবং ‘রয়টার্স’। এই সংবাদ মাধ্যম ও সংবাদ সংস্থার বিরুদ্ধে ভুয়ো তথ্য প্রেরণের অভিযোগ উঠছে। প্রকাশ্যে ক্ষমা না-চাইলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এফআইপি (দ্য ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পাইলটস)। কেন আন্তজার্তিক সংবাদমাধ্যম এবং সংবাদ সংস্থাকে নিশানা করা হল?

আহমেদাবাদ থেকে উড়ানের তিন সেকেন্ড পরেই এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ বিমানটি ভেঙে পড়ে। এই দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য উচ্চ-পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এবং এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি) আইসিএও প্রোটোকল অনুসারে তদন্ত শুরু করেছিল।

সম্প্রতি এএআইবি আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরি করেছে। সেই তদন্ত রিপোর্টে দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের দুই পাইলটের কথোপকথন প্রকাশ্যে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের ইঞ্জিন ১ এবং ২-এর জ্বালানি কাটঅফ সুইচগুলি একের পর এক বন্ধ হয়ে যায়।  জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি দুই জ্বালানি পাইলটের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল। বিমানটির ককপিটে পাইলটদের কথোপকথনের রেকর্ডে শোনা গিয়েছে একজন পাইলট অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করছেন, "তিনি কেন জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করলেন? অন্য পাইলট উত্তর দেন তিনি বন্ধ করেননি।" ওই কথোপকথনকে তুলে ধরে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ দাবি করেছিল, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ছিলেন উড়ানের পাইলটরাই। রয়টার্সও এমনটাই দাবি করেছে।

আরও পড়ুন- Air India crash report: দুটি ইঞ্জিন-ই বন্ধ! এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে উঠে এল যে তথ্য

এখন পাইলটদের সংগঠন ‘দ্য ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পাইলটস’ (এফআইপি) অভিযোগ করছে, ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এবং ‘রয়টার্স’ সাংবাদিকতার নামে তদন্তকারীর ভূমিকা পালন করেছে। অভিযোগ, তারা ভুয়ো তথ্য ছড়িয়েছে।

ইন্ডিয়ান পাইলটসদের ওই সংগঠনের দাবি, আহমেদাবাদের এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনায় কোনও তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই পাইলটদের দায়ী করা হয়েছে। এর জন্য ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এবং ‘রয়টার্স’কে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি তুলেছে সংগঠনটি। ১৯ জুলাই এই নিয়ে কড়া বিবৃতি দিয়েছে তারা। শুধু তাই নয় সংস্থা দু'টিতে আইনি নোটিসও পাঠানো হয়েছে।

 

অন্যদিকে আবার ১৯ জুলাই এফআইপি-র প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন সিএস রণধাওয়াও ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’কে আক্রমণ করে বলেন, আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্তকারী সংস্থা এয়ারক্র্যাফ্‌ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)-র তদন্ত চলছে। সেই তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বিমান দুর্ঘটনাটির কারণ জেনে গেল সংবাদমাধ্যম! এই বিমান দুর্ঘটনায় প্রায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে, সেই নিয়ে নিজেদের মতো করে লেখা যায় না বলে দাবি করেন তিনি।

সিএস রণধাওয়ার বক্তব্যের আগেই বিমান সংগঠনটির তরফে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। নোটিসে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার জন্য পাইলটরা দায়ী, এই দাবি করে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে ওই সংবাদমাধ্যম এবং সংবাদ সংস্থাকে। ভারতীয় পাইলটদের সংগঠন এনিটিএসবি-কে প্রতিবেদন প্রকাশের সমালোচনা করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে ।

আরও পড়ুন-এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনা! এ যাবৎ কালের সবচেয়ে বড় বিমা নিষ্পত্তির সম্ভাবনা?

এফআইপি আমেরিকার সরকারি তদন্তকারী সংস্থাকেও ধন্যবাদ জানিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে দুই সংবাদমাধ্যমের তদন্তমূলক সাংবাদিকতার নিন্দা করেছিল আমেরিকার ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি)। এনটিএসবি-র চেয়ারপার্সন জেনিফার হোমেন্ডি প্রতিবেদনগুলিকে ‘অনুমানমূলক’ বলে দাবি করেন।

এএআইবি (এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো) প্রথমেই সংবাদমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থাটির প্রতিবেদনে করা দাবিগুলি নস্যাৎ করেছিল। তারা স্পষ্ট জানিয়েদিয়েছিল, পাইলটের কারণেই যে বিমান দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এই রকম তথ্য এখনও প্রমাণিত হয়নি। তারা আরও জানায়, এখনই বিমান দুর্ঘটনার কারণ মূল্যায়ন করা হলে তাড়াহুড়ো করা হবে। এর পরেই ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এবং ‘রয়টার্স’-কে আইনি নোটিস পাঠিয়েছে পাইলটদের সংগঠন।

উল্লেখ্য, বিমান দুর্ঘটনাটিতে ২৪২ জন যাত্রী ও ক্রু-সহ সকলেই প্রাণ হারিয়েছেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অলৌকিক ভাবেই বেঁচে গিয়েছেন ৪০ বছর বয়সি ব্রিটিশ নাগরিক বিশ্বকুমার রমেশ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। আগেই প্রশ্ন উঠেছে, বোয়িংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে, দুর্ঘটনাগ্রস্থ বিমানটি কি আদৌ যাত্রী পরিবহণের যোগ্য ছিল? এত উন্নত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও কেন ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটছে? সত্যিই কি পাইলটদের দোষে বিমান দুর্ঘটনা? উত্তর এখনও অধরা।

More Articles