সুনামির ‘ T’ কেন উচ্চারিত হয় না?
Tsunami: প্রসঙ্গত “সুনামি” শব্দটির উৎপত্তি জাপানি ভাষায়, যেখানে এটি 津波 (tsunami) হিসেবে লেখা হয় এবং উচ্চারিত হয় “tsu" "ˈnami”। ‘tsu’ এর অর্থ “বন্দর” এবং ‘nami’, যার অর্থ “ঢেউ”।
রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে মঙ্গলবার ভোরে ৮.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জাপানের উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে এই সতর্কতা প্রভাব ফেলেছে। মানুষ যখন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে ছুটছে, তখন “সুনামি” শব্দটি ফের সংবাদের শিরোনামে উঠে এসেছে। এর সঙ্গে উঠে এসেছে একটি পুরনো প্রশ্ন: শব্দটির বানানে ‘টি’ থাকলেও কেন তা উচ্চারণে শোনা যায় না?
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএস জিওলজিকাল সার্ভে) নিশ্চিত করেছে, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল পেট্রোপাভলভস্ক-কামচাটস্কি থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, মাত্র ২০ কিলোমিটার গভীরে। এই অগভীর কেন্দ্র বিশেষভাবে বিপজ্জনক, কারণ এ ধরনের ভূমিকম্প সুনামি সৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ায়। রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে ১২ থেকে ১৩ ফুট উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে ঘটনার কিছুক্ষণেই। কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে বাসিন্দাদের সমুদ্র সৈকত এবং নিচু উপকূলীয় অঞ্চল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
প্রসঙ্গত “সুনামি” শব্দটির উৎপত্তি জাপানি ভাষায়, যেখানে এটি 津波 (tsunami) হিসেবে লেখা হয় এবং উচ্চারিত হয় “tsu" "ˈnami”। ‘tsu’ এর অর্থ “বন্দর” এবং ‘nami’, যার অর্থ “ঢেউ”। একসঙ্গে এই শব্দটি এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের বর্ণনা দেয় যা শতাব্দী ধরে জাপানের উপকূলকে ভয়ঙ্করভাবে আঘাত করে এসেছে—বিশাল ঢেউ যা বন্দরে প্রবেশ করে সবকিছু ধ্বংস করে দেয়।
আরও পড়ুন- জাপান রাশিয়া মার্কিন মুলুকে সুনামি সতর্কতা|| এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে
বিশ্বব্যাপী শব্দটি গৃহীত হলেও, মূল জাপানি উচ্চারণে শুরুতে একটি সূক্ষ্ম “ts” ধ্বনি রয়েছে, যেমন ‘tsukuba’ বা ‘tsuru’ শব্দে শোনা যায়। ইংরেজি ভাষায় এই ধ্বনি তুলনামূলকভাবে অপ্রচলিত, তাই অ-জাপানি ভাষাভাষীরা প্রায়শই ‘টি’ বাদ দিয়ে শব্দটিকে “সুনামি” হিসেবে উচ্চারণ করেন। তবু, বানানটি জাপানি উৎসের প্রতি সম্মান জানিয়ে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যদিও উচ্চারণে ভিন্নতা দেখা যায়।
২০১১ সালের ভয়াবহ স্মৃতি
মঙ্গলবারের ভূমিকম্প জাপানের ২০১১ সালের তোহোকু বিপর্যয়ের ভয়ঙ্কর স্মৃতি জাগিয়েছে। সে সময় ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প সুনামি ডেকে আবে, সেই ঘটনা ১৫,০০০-এর বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক সংকটের জন্ম দিয়েছিল।
জাপান একাধিক টেকটনিক প্লেটের উপর অবস্থিত, প্রশান্ত মহাসাগরের অত্যন্ত অস্থির “রিং অফ ফায়ার” অঞ্চলের অংশ। এখানে ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণে জাপান বিশ্বের সবচেয়ে সুনামি-প্রবণ দেশগুলির মধ্যে একটি।
জাপানের ক্ষেত্রে সুনামি একটি পুনরাবৃত্ত দুঃস্বপ্ন, শব্দটি কেবল একটি বিপদের নাম নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেঁচে থাকার সংগ্রামের প্রতীক।