কেন বিহারের ভোটার তালিকায় 'নিবিড় সংশোধন' নিয়ে বিতর্ক?

Bihar: এই জরিপে উঠে এসেছে, বিহারের ৭১% এরও বেশি দলিত ভোটার, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এ ভোটাধিকার হারানোর ভয় পাচ্ছেন।

চলতি বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই অবহে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা’ (স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) চালানো হচ্ছে। এই নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে পড়েছিল নির্বাচন কমিশন। কেন বিহারে 'নিবিড় সংশোধন' নিয়ে বিতর্ক?

২২ জুলাই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিহারের সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ৫৬ লক্ষ নাম। এই ৫৬ লক্ষ ভোটারকেই তাঁদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে। তালিকায় ‘মৃত এবং স্থানান্তরিত’ ভোটারদের নাম ছিল বলে জানানো হয়েছিল কমিশনের তরফে। এ দিন আরও জানানো হয়, আগামী ১ অগস্ট সংশোধিত ভোটার তালিকার যে খসড়া প্রকাশিত হবে, তাতে সমস্ত যোগ্য ভোটারদের নাম থাকবে। বাদ পড়া ৫৬ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ২০ লক্ষ মৃত। অথচ তাঁদের এখনও ভোটার কার্ড আছে, বাতিল করা হয়নি।

বিহারের ভোটার তালিকায় সংশোধন নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলাও হয়েছে। সেগুলির শুনানিও শুরু হয়ে গিয়েছে বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন- WB Electoral Roll : নির্বাচন কমিশনের অভূতপূর্ব নির্বাচনী তালিকা সংশোধন এবার বঙ্গেও

তবে কমিশন যুক্তি দিয়েছে, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত আছে ‘ক্ষমতা এবং এক্তিয়ারে’র, ফলত এটি সুসংগত এবং সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই করা হচ্ছে। ১৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে এসআইআর-২০২৫ এর উদ্দেশ্যে আধার, ভোটার আইডি এবং রেশন কার্ড যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু ২২জুলাই আবার কমিশন শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সেগুলি যাচাই করা যাবে না। কমিশন তরফে দাবি করা হয়েছে, আধার কার্ড শুধুমাত্র একটি পরিচয়পত্র, মানুষটি এই দেশের নাগরিক কিনা সেই প্রমাণ দেয় না।

উল্লেখ্য, হিসাব করলে দেখা যাবে বিহারে প্রতিটি বিধানসভা থেকেই  গড়ে প্রায় ২৩ হাজারের মতো মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন। এতে ভোটের ফলাফলের উপর বিরাট প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। তালিকা থেকে বাদ যাওয়া অধিকাংশই প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ। ন্যাশনাল কনফেডারেশন অফ দলিত অ্যান্ড আদিবাসী অর্গানাইজেশনস (NACDAOR)- ১০ জুন থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে একটি সমীক্ষা করে। এই সমীক্ষা করা হয়েছিল বিহারের ১৮,৫৮১ জন তফসিলি জাতি (SC)-র অন্তর্ভুক্ত মানুষদের নিয়ে। এই জরিপে উঠে এসেছে, বিহারের ৭১% এরও বেশি দলিত ভোটার, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এ ভোটাধিকার হারানোর ভয় পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন- ভোটের দিন বড় শহরের ভোটাররা কী করেন? অবাক করবে নির্বাচন কমিশনের এই তথ্য

দেখা গিয়েছে, প্রান্তিক শ্রেণির যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা কিন্তু বহু দশক ধরে ভোট দিয়ে আসছেন। কমিশন যে যে নথি চেয়েছে সেগুলি বিভিন্ন কারণে তাঁদের কাছে নেই। এই বাতিল করা ভোটারদের মধ্যে একটা অংশ সংখ্যালঘু। তাঁরা বরাবরই বিজেপি বিরোধী। অন্যদিকে আবার একটা অংশ একেবারে প্রান্তিক। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি সুবিধা পায় না। ফলত তাদেরও সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার প্রবণতা বেশি। একটা অংশের ভোটার যাঁরা সরকারি সুবিধা পান, তাঁদের আবার নীতীশ কুমারের দলের প্রতি সমর্থন। যদিও সংখ্যাটা তুলনামুলক অনেকটাই কম। তাছাড়া মৃত ভোটারের সংখ্যাটাও জরুরি। এতদিন প্রায় ২০ লক্ষ মৃত ব্যক্তির তালিকায় ছিল। ফলত অতীতের নির্বাচনগুলিতে এই মৃত ভোটারদের ভোট নিয়ে যে কারচুপি হয়নি, সেটাও জোর দিয়ে বলা যায় না।

অন্যদিকে আবার তৃণমূলনেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ জুলাই দলের সমাবেশ থেকে অভিযোগ তুলেছিলেন, পড়শি রাজ্যে প্রায় ৪০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গেও বিধানসভা ভোটে একই রকম ভাবে কমিশন নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করবে। যদিও মমতার হিসেবও ছাড়িয়ে গিয়েছে।

এখন দেখার আগামী ১ অগস্ট যে খসড়া প্রকাশিত হবে,  তাতে কাদের নাম থাকে, আর কাদের নাম বাদ যায়? সত্যিই কি সরকার বিরোধী গোষ্ঠীগুলিকেই ধরে ধরে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে?

More Articles