‘অঙ্গুলিমাল ডাকু, কেটেছিল ১৩ কোটি আঙুল!’ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ দিল্লিতে
CEC Gyanesh Kumar resignation: ‘অঙ্গুলিমাল ডাকু, কেটেছিল ১৩ কোটি আঙুল!’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে শুরু হলো অভিনব প্রতিবাদ।
‘অঙ্গুলিমাল ডাকু, কেটেছিল ১৩ কোটি আঙুল!’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে শুরু হলো অভিনব প্রতিবাদ । রবিবার, ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার সমাবেশ ও পদযাত্রার আগে মিন্টো রোডে এই প্রতিবাদ শুরু হয়। অঙ্গুলিমালের পোশাক পরে এক প্রতিবাদীকে দেখা যায়। প্রাচীন বৌদ্ধ কাহিনির এই কুখ্যাত দস্যুকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরতে চেয়েছে সংগঠনটি।
ভারতে ভোট দেওয়ার পরে ভোটারের আঙুলে নীল কালি লাগানো হয়। এটি ভোটদানের একটি পরিচিত চিহ্ন। সেই প্রতীককেই প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছে বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, অঙ্গুলিমাল যেমন মানুষের আঙুল কেটে মালা তৈরি করত, তেমনই এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে নির্বাচন কমিশন কোটি কোটি মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। অভিযোগ, দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের ভোটাধিকার এই প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অঙ্গুলিমাল বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি পরিচিত চরিত্র। কাহিনি অনুযায়ী, তিনি ছিলেন এক ভয়ংকর দস্যু, যিনি মানুষ হত্যা করে তাদের আঙুল কেটে মালা তৈরি করতেন। পরে গৌতম বুদ্ধের সংস্পর্শে এসে তিনি নিজের জীবন পরিবর্তন করেন। এই প্রতীকী প্রতিবাদে সেই চরিত্রকে ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটাধিকার হরণের অভিযোগকেই সামনে আনা হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ramlila Maidan rally: এসআইআর ইস্যুতে দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বিশাল সমাবেশ। নিরাপত্তায় মোতায়েন ১০ হাজার বাহিনী, বসানো হয়েছে ২৫০ সিসিটিভি ও এআই নজরদারি ক্যামেরা।
এসআইআর নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার হিসাব। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিন পর্যায়ের এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩.৩৯ কোটি ভোটারকে অনুপস্থিত, স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত, মৃত, একাধিক জায়গায় নথিভুক্ত অথবা অন্য শ্রেণিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এই তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য মৃত, স্থানান্তরিত এবং ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ দেওয়া। কোনো বৈধ ভোটারের নাম ভুলবশত বাদ পড়লে তিনি পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন। বিরোধীদের প্রশ্ন, এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের অধিকার কতটা সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ সমাবেশ ও পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। মিন্টো রোড ও কনট প্লেসের সংযোগস্থল থেকে দুপুরে পদযাত্রা শুরু হওয়ার কথা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বিষয়।
সমাবেশ ঘিরে দিল্লি পুলিশও ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। পুলিশ সূত্রে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জমায়েতের সম্ভাবনা ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে চার হাজারের বেশি পুলিশকর্মী। নজরদারির জন্য বসানো হয়েছে ২০০-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি ড্রোন এবং অন্যান্য নজরদারি ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগের পাশাপাশি কমিশনের বক্তব্য ও সংশোধন প্রক্রিয়ার বাস্তব ফলাফলও এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শেষ পর্যন্ত কতজন প্রকৃত ভোটার বাদ পড়েছেন এবং তাঁদের নাম পুনরায় তালিকায় ফিরেছে কি না, তার স্বচ্ছ হিসাবই এই বিতর্কের মীমাংসায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।







