যাত্রার প্রেমে জীবন দিয়েছেন ব্রজেন্দ্রনাথ, বাঙালি কি ভুলল তাঁকে!

Debabrata Mondal
৫ মিনিট
যাত্রার প্রেমে জীবন দিয়েছেন ব্রজেন্দ্রনাথ, বাঙালি কি ভুলল তাঁকে!

যাত্রা' শব্দটির অর্থ 'গমন।' বেশ কিছু গবেষকদের মতে প্রাচীনকালে কোন দেবতার উৎসবকে উপজীব্য করে যে নৃত্যগীতপূর্ণ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হতো তাকেই ' যাত্রা' বলে অভিহিত করা হতো তৎকালীন সময়ে। বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম ধারক- বাহক হিসেবে যাত্রার আগমন ঠিক কবে সে সম্পর্কে গবেষকগণ সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেননি, তবে এরই সঙ্গে এ কথা সম্পর্কে সকল গবেষকই নিঃসন্দেহ যে বঙ্গীয় সংস্কৃতির নিরিখে যাত্রার ধারাটি যথেষ্ট সুপ্রাচীন।বঙ্গীয় সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যাত্রা চৈতন্যদেবেরও বহু আগে থেকে প্রচলিত ছিল, তার নিদর্শন মেলে 'চৈতন্যভাগবত' গ্রন্থে। শিবের উৎসব, কৃষ্ণ উৎসবের মধ্য দিয়ে যাত্রার ধারাক্রমিক বিবর্তন ঘটে।

শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় -এর মতো গবেষকের মতে - " Jatra, the traditional theatre of Bengal, was of course available to everyone, but the rising middle classes of calcutta, which had come to favour western forms of art, regarded it as a corrupt, and indecorous entertainment. Jatra, complained the middle - class audiences, followed neither the classical sanskrit definitions of drama, nor the newly fashinable western models. Jatra was two - third song;the dialogue, impraeeised during the performance by illiterate players, had no literary distinction... Jatra used no scenery or permanent stage.

যাত্রা গবেষকরা ১৮৪০ সালকে যাত্রার ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কারণ গবেষকদের মতে এই সময় থেকেই ধর্মনিরপেক্ষ যাত্রার উদ্ভব। এর পূর্বে যাত্রার ক্ষেত্রে মূলত হিন্দু ও বৈষ্ণব ধর্মমতের প্রাধান্য ছিল চোখে পড়ার মতো।

মধ্যযুগীয় সংস্কৃতির ক্ষেত্রে পাঁচালী, লোকনাট্য প্রভৃতিকে যাত্রার যথার্থ পূর্বসূরী বলে গণ্য করা হয়;এমনকি যাত্রার উৎস সন্ধান করতে গিয়ে অধিকাংশ গবেষক পাঁচালীর কথা উল্লেখ করেছেন।তবে পাঁচালী এবং যাত্রার মধ্যে বেশ কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য বিদ্যমান। পাঁচালী তে চরিত্র তথা মূল গায়েন থাকেন একজন,যাত্রায় তা একাধিক।ড.সুকুমার সেনের মতে শোভাযাত্রা থেকেই আধুনিক যাত্রা কথাটির উদ্ভব।

ড. আশরাফ সিদ্দিকী মনে করেছেন, যাত্রা শব্দটি দ্রাবিড় থেকে উদ্ভূত। কারণ দ্রাবিড় জনগোষ্ঠীর মধ্যে এখনও অনেক উৎসবকে যাত্রা বলে অভিহিত করা হয়। এমনকি সম্রাট অশোক তার শিলালিপিতে উৎসব অর্থ যাত্রা ব্যবহার করেছেন। অবশ্য খৃষ্টপূর্ব দ্বিতীয় দশক থেকেই কৃষ্ণ যাত্রার অভিনয় হতো তার প্রমাণ মেলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। তবে একটা বড় অংশের গবেষকের ধারণা এই যে যাত্রার অভিনয়ের সর্বপ্রথম মঞ্চায়ন হয় ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম দশকে।১৫০৯ সাল নাগাদ মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেব অভিনীত পালা ' রুক্মিণী - হরণ' - যাত্রা প্রথম মঞ্চে অভিনীত হয়।

সালটা ১৯০৭। সেই সময় বঙ্গীয় সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক হল যাত্রা।এই বছরই বাংলাদেশের গয়ঘর - গঙ্গানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করলেন যাত্রা শিল্পের ধুমকেতু ব্রজেন্দ্রকুমার দে। একরত্তি ব্রজেন্দ্রকুমার যে পরবর্তী সময়ে যাত্রার মহানায়ক হয়ে উঠবে তা বোধহয় কেউই ভাবতে পারেননি। ব্রজেন্দ্র যখন প্রকৃতির পাঠশালায় সহজপাঠ পড়তে ব্যস্ত, তখন থেকেই সংসার সীমান্তে মা-বাবার এক অসম লড়াইয়ের সাক্ষী থাকত সে । অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়তে লড়তেও অর্থনীতিতে এম.এ করে ফেললেন ব্রজেন্দ্র। অর্থনীতিতে এম এ ডিগ্রি লাভের পরেও যাত্রা দলে যোগদান - এ যেন আজকের যুগের ইকনমিক্স পড়ে সিনেমা বানানোর মতো। অর্থাৎ কিছুটা স্রোতের বিপরীতে ছুটে চলা তো বটেই। হ্যাঁ, আর্থিক নিশ্চয়তাকে একপ্রকার তুচ্ছ করে বঙ্গীয় সংস্কৃতির ভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন তিনি।দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনকে স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ করে যাত্রার অ আ ক খ শিখতে শুরু করলেন ব্রজেন্দ্রকুমার। যাত্রা দলে যোগদানের পরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে, দর্শককে উপহার দিয়ে গেছেন একের পর এক কালজয়ী পালা।'ব্রজনাভ ' এবং ' চাঁদের মেয়ে ' এই দুই পালার মধ্য দিয়ে যে বিজয় অভিযানের সূত্রপাত, সেই অভিজানের আকাঙ্ক্ষাকে ব্রজেন্দ্রকুমার নিজ মনে প্রজ্বলিত রেখেছিলেন আজীবন।

শুধুমাত্র নিশ্চিন্ত, নিরাপদ জীবন ত্যাগ নয়, যাত্রার জন্য ব্রজেন্দ্র কুমারকে আরও অনেক বড় মাশুল দিতে হলো। ১৯৭৫ সালের,২৬এ জানুয়ারি।ব্রজেন্দ্রকুমার দে -র হাত ধরে মঞ্চে এলো সম্পূর্ণ নতুন একটি পালা - 'বিদ্রোহী নজরুল।' পালাটি অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে একদিকে যেমন প্রবল জনপ্রিয়তা অর্জন করল ঠিক তেমনি এই পালাকে কেন্দ্র করে শুরু হলো প্রবল বিতর্ক, যা একসময় পর্যবসিত হয় একপ্রকার ' কলতলার ঝগড়ায়'।' বিদ্রোহী নজরুল ' পালায় কবি মোহিতলাল মজুমদারের চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। কিন্তু এই চরিত্রটিকে ঘিরেই জ্বলে ওঠে বিতর্কের আগুন। যে আগুনে প্রথম ঘি ঢালেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অরুণ মুখোপাধ্যায়। আনন্দবাজার পত্রিকার মাধ্যমে ব্রজেন্দ্রকুমার -কে তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি।' যাত্রায় মোহিতলাল ' শিরোনামে একটি লেখা লেখেন অরুণবাবু। লেখার মধ্য দিয়ে অরুণবাবু আঙুল তুললেন পালাকার ব্রজেন্দ্রকুমারের দিকে - " মোহিতলাল মজুমদার চরিত্রটিকে এই পালায় হাস্যকর চরিত্র রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে।"

৩ মার্চ, ১৯৭৫ - আনন্দবাজার পত্রিকায় কলম ধরলেন শিশির দে। লেখাটির মধ্য দিয়ে তিনিও ব্রজেন্দ্রবাবুকে একপ্রকার তুলোধনা করেন - " মোহিতলালের এই বিকৃত চরিত্র যাত্রার আসরে দেখে, যাত্রার আসর ছেড়ে চলে এসেছে অনেকে এমন খবরও কানে এসেছে। ' বিদ্রোহী নজরুল ' পালায় কবি মোহিতলালের এই বিকৃত চরিত্র অঙ্কনের জন্য পালাকার ব্রজেন্দ্রবাবুর জবাবদিহি করা উচিত।"

এভাবে বিতর্কের গ্রাফ যখন প্রায় হিমালয় অতিক্রম করেছে ঠিক সেই সময়ই ব্রজেন্দ্রকুমারকে সমর্থন করলেন সেই সময়ের অন্যতম নামী সাংবাদিক প্রবোধবন্ধু অধিকারী। তিনি অরুণ মুখোপাধ্যায় এবং শিশির দে এই দুজনের অভিযোগকে এককথায় নস্যাৎ করে দেন। তার লেখা থেকে জানা যায় যাত্রাপালায় কবি মোহিতলাল চরিত্রটি 'হাসি-কান্নার হিরা - পান্নার দ্যুতিতে উজ্জল।' তবে এতকিছুর পরেও বিতর্কের পারদ প্রতিদিনই নতুন করে চড়ছিল।এই বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিযোগ - পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে যাত্রামহল বিভক্ত হয়ে গেছে বারংবার। না, বিতর্ক থামেনি এরপরেও, তার জল গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। ব্রজেন্দ্রকুমার - এর বিরুদ্ধে কবি মোহিতলালকে অপমানের অভিযোগ চরমে ওঠে যখন মোহিতলালের পুত্র মনসিজ মজুমদার সম্পূর্ণভাবে ব্রজেন্দ্রকুমারের বিপক্ষে কথা বললেন, আনন্দবাজার পত্রিকায় তিনি লিখলেন - "আমার গভীর বিশ্বাস সুস্থ থাকলে আবেগপ্রবণ নজরুল ও বাবার শেষ জীবন তাদের প্রীতিপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিষ্ঠায় প্রয়াসী হতেন এবং কোন অবস্থাতেই অগ্রজতুল্য বন্ধুর অবমাননা অনুমোদন করতেন না।"

' বিদ্রোহী নজরুল ' পালাটি নিয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দরজায় কড়া নাড়েন মৃন্ময় মজুমদার ( কেস নং সি ০২১৮,১৯৭৫)। আদালত তার সিদ্ধান্তে জানিয়েছিল ব্রজেন্দ্রকুমার এ বিষয়ে অন্যতম অভিযুক্ত। অর্থাৎ কবি মোহিতলালের মানহানি করেছেন তিনি। যদিও অভিযুক্ত হওয়ার পরেও কোনোরকম শাস্তি ভোগ করতে হয়নি তাঁকে। কারণ তার বেশ কিছুদিন পূর্বেই এসবের উর্ধে চলে গেছেন তিনি, মৃত্যু হয়েছে ব্রজেন্দ্র কুমারের।

চায়ের কাপে তুফান তোলার মতো বিতর্কিত বিষয়ের উপর পরিগণিত হওয়ার পরেও 'বিদ্রোহী নজরুল 'পালাটিকে দর্শকমন্ডলী সাদরে গ্রহণ করে। বর্তমান সময়ে চিতপুরের গদিঘরগুলোর তুমুল ব্যস্ততা, সিনেমার নায়ক নায়িকা এনে যাত্রার মঞ্চ কাপানোর ব্যর্থ চেষ্টা, এবং সর্বোপরি বঙ্গীয় লোকসংস্কৃতির ' যাত্রা' নামক এই মৃতপ্রায় শাখাটিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টার মধ্যে আমরা বোধহয় ভুলে যাই যাত্রাকে ভালবেসে এক মানুষের কঠিন কঠোর সংগ্রাম, আর আইনের মারপ্যাঁচের মধ্যেও তার চোয়াল চাপা লড়াইয়ের ইতিবৃত্তকে।

তথ্যসূত্র : যাত্রার সঙ্গে বেড়ে ওঠা - প্রভাতকুমার দাস

লিখেছেন
Debabrata Mondal
Debabrata Mondal
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।