সিজেপি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ সোনম ওয়াংচুক কোথায়?
Sonam Wangchuk: সিজেপি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ সোনম ওয়াংচুক কোথায়? দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে তাঁকে দেখা গেল না কেন?
লাদাখের পরিবেশ ও শিক্ষাকর্মী সোনম ওয়াংচুক দিল্লিতে ককরোজ জনতা পার্টি-র বিক্ষোভে সরাসরি যোগ দিতে না পারলেও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আগামী শীতের প্রস্তুতি এবং হিমালয়ের হিমবাহ ও জলনিরাপত্তা নিয়ে কাজের জন্য তিনি এই মুহূর্তে লাদাখেই রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, হিমালয়ের উঁচু অঞ্চলে ২০০-রও বেশি বিপজ্জনক হিমবাহ-হ্রদকে ঘিরে যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং শান্তিপূর্ণ পথে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
১০ অক্টোবর, শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি-র বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার মহলে নজর ছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোই এই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য। তবে ওয়াংচুক জানিয়েছেন, শীতের আগে লাদাখে তাঁর চলমান কাজের কারণে দিল্লিতে উপস্থিত থাকা সম্ভব হচ্ছে না।
৯ অক্টোবর সমাজমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিয়ো এবং পোস্টে ওয়াংচুক নিজের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, শীতের প্রস্তুতির পাশাপাশি কৃত্রিম হিমবাহ তৈরির মাধ্যমে জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি হিমবাহের হ্রদ থেকে আকস্মিক বন্যা বা গ্লেশিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড মোকাবিলার জন্যও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া হ্রদের জল কোনো কারণে বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে এলে নিচের জনবসতি, সড়ক, সেতু এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। জলপ্রবাহের সঙ্গে পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষও নেমে আসতে পারে। হিমালয়ের মতো পার্বত্য অঞ্চলে এই বিপদের আশঙ্কা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Global Spotlight on Gyanesh Kumar: ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে, জেন-জি আন্দোলন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে কভার হয়েছে। বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, ডিডাব্লিউ, এপি, নিউ ইয়র্ক টাইমস, আরএফআই, ফ্রান্স ২৪, ডন, সবাই জানিয়েছে, এসআইআরে ১৩ কোটি নাম বাদের কথা, ভারতের মুসলিম নাগরিকদের এসআইআরের মাধ্যমে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথা, রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী সাংসদরা বারবার আটকের কথা।
ওয়াংচুকের কথায়, হিমালয়ের উচ্চভূমিতে ২০০-রও বেশি ‘টিকিং ওয়াটার বম্ব’ বা যে কোনো সময় বিপর্যয় ঘটাতে পারে এমন জলবোমার ঝুঁকি মোকাবিলায় তাঁরা কাজ করছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, লাদাখের পরিবেশগত সংকট শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়। জলনিরাপত্তা, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা এবং পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও তা গভীরভাবে যুক্ত।
দিল্লির আন্দোলনে যোগ দিতে না পারার কারণ বোঝাতে উর্দু কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের একটি বিখ্যাত পঙ্ক্তির ভাবার্থও তুলে ধরেছেন ওয়াংচুক। তিনি লিখেছেন, রাজনীতি ছাড়াও পৃথিবীতে আরও অনেক দুঃখ রয়েছে, আর প্রিয়জনের সঙ্গে মিলনের আনন্দ ছাড়াও জীবনে অন্য স্বস্তির জায়গা আছে।
ওয়াংচুক বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মতপার্থক্য থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে নেতাদের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি আন্দোলনকারীদের, সব পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ থাকার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনের সময় সেই মূল্যবোধ ধরে রাখা প্রয়োজন।
চলতি বছরের জুলাইয়ে যন্তর মন্তরে সিজেপি-র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছিলেন ওয়াংচুক। নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সমর্থনে তিনি অনশন শুরু করেছিলেন। ২৬ দিন অনশনের পর তাঁকে প্রতিবাদস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর ২৩ জুলাই তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন। সেই আন্দোলনের পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনাও সামনে আসে।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে লেহে হিংসার ঘটনার পর জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) ওয়াংচুককে আটক করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়। ২০২৬ সালের মার্চে কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর আটক প্রত্যাহার করলে তিনি যোধপুর কেন্দ্রীয় জেল থেকে মুক্তি পান।
দিল্লির আন্দোলনে এবার তাঁর অনুপস্থিতি তাই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রতিবাদ, অন্যদিকে হিমালয়ের পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি—দুই ক্ষেত্রের গুরুত্বই তুলে ধরেছেন ওয়াংচুক। তাঁর বার্তা, আন্দোলনের দাবি থেকে সরে না এসেও শান্তিপূর্ণ থাকা এবং মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য জরুরি কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।





