ধনতেরাসের দিন বাড়িতে ঝাঁটা কিনলে সুখ-সমৃদ্ধি বাড়ে বহুগুণ, কারণটা জানেন?

Sourish Das
৪ মিনিট
ধনতেরাসের দিন বাড়িতে ঝাঁটা কিনলে সুখ-সমৃদ্ধি বাড়ে বহুগুণ, কারণটা জানেন?

ভূত চতুর্দশীর ঠিক একদিন আগে অর্থাৎ কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে সারা ভারতে পালিত হয় ধনতেরাস। পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধন ত্রয়োদশী নামেও পরিচিত। চলতি বছরে ২ নভেম্বর পালিত হতে চলেছে ধনতেরাস। প্রচলিত মত অনুযায়ী, এই ধনতেরাসের দিন বাড়িতে কিছু একটা জিনিস নতুন আনতে হয়। সে সোনার গয়না হোক, কিংবা রুপো কিংবা নতুন বাসনপত্র। এদিন সকলেই কিছু না কিছু একটা কেনাকাটা করে থাকেন এবং বাড়িতে নিয়ে আসেন কোন একটা নতুন জিনিস। প্রচলিত মত অনুযায়ী সোনা রুপা এবং বাসন ক্রয় করা শুভ হলেও, আরো একটা জিনিস রয়েছে যা এই ধনতেরাসের দিন আপনার বাড়িতে সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।

সেই জিনিসটার নাম হল ঝাঁটা। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এই ধনতেরাসের দিন যদি আপনি বাড়িতে কোন নতুন ঝাঁটা নিয়ে আসেন তাহলে আপনার সুখ-সমৃদ্ধি আরো দ্বিগুন হয়ে যাবে। কিন্তু, ঝাঁটা কেনার আসল কারন জানেন? উল্লেখ রয়েছে, ধনতেরাসের দিন ঝাঁটা কেনা অত্যন্ত শুভ কারণ ঝাঁটা হল মা লক্ষ্মীর প্রতীক। যদি আপনি বাড়িতে ঝাঁটা নিয়ে আসেন ধনতেরাসের দিন তাহলে মা লক্ষ্মী আপনার ঘরে আসবে। পাশাপাশি আপনার আর্থিক সমস্যা থেকে আপনি মুক্তি পাবেন। তবে, এই ঝাঁটা কেনার আরো কিছু কারণ রয়েছে, চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারে।

প্রথম কারণটাই হলো, ঝাঁটাকে অত্যন্ত শুভ মনে করা হয় কারণ মৎস্য পুরাণ অনুযায়ী ঝাঁটায় নাকি লক্ষ্মীর বাস। মনে করা হয় ধনতেরাসের দিন যদি আপনি ঝাঁটা কেনেন তাহলে বাড়িতে লক্ষ্মীর আগমন ঘটে এবং আর্থিক সমস্যায় দিন কাটালে আপনি লাভবান হতে পারেন। লক্ষ্মী আপনার উপর প্রসন্ন হবে যদি আপনি ঝাঁটা কিনে আনেন বাড়িতে ঠিক এই দিন।

দ্বিতীয়ত, ধনতেরাসের দিন যদি আপনি বাড়িতে ঝাঁটা কিনে আনেন তাহলে বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব দূর হয় এবং ইতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয়ে থাকে। ঝাঁটা বাড়ির দারিদ্র্যকে বিদায় করে বাড়িতে সুখ-সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। তার সাথে সাথেই, মনে করা হয় ঝাঁটা যদি আপনি বাড়িতে আনেন তাহলে ঝাঁটার সাথে বাড়িতে অর্থ আগমন ঘটে। ধনতেরাসে ঝাঁটা কেনা অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়।

তৃতীয়ত, যদি আপনি ধনতেরাসের দিন ঝাঁটা কিনেন তাহলে অবশ্যই সেই ঝাঁটার উপরে একটি সাদা সুতো বেঁধে দেবেন। এটা করলে আপনার আর্থিক স্থায়িত্ব বজায় থাকবে বলে মনে করা হয়।

চতুর্থত, এদিন যদি আপনি বাড়িতে কোন ঝাঁটা কিনে আনেন, তাহলে সেটাকে সব সময় মাটিতে শুইয়ে রাখবেন এবং বাড়ির কোন একটা কোণে লুকিয়ে রাখবেন। ঝাঁটা কখনো দাঁড় করিয়ে রাখবেন না তাহলে আপনার বাড়িতে অশুভ শক্তির আগমন ঘটে। সাথে সাথেই আপনার বাড়ির ঝাঁটা যদি বাইরের মানুষ দেখতে পায়, তাহলে সেটা অত্যন্ত অশুভ মনে করা হয়।

পঞ্চমত, ঝাঁটায় কখনো স্বেচ্ছায় পা দেবেন না। যেহেতু ঝাঁটায় লক্ষ্মীর বাস থাকে মনে করা হয়, তাই যদি আপনি স্বেচ্ছায় ঝাঁটায় পা দেন তাহলে মনে করা হয় এতে লক্ষ্মী রুষ্ট হন।

ষষ্ঠত, দীপাবলির দিন মন্দিরে ঝাঁটা দান করার প্রথা প্রচলিত রয়েছে। তবে দীপাবলীর দিন যদি আপনি মন্দিরে ঝাঁটা দান করেন তাহলে সেই ঝাঁটা অবশ্যই ধনতেরাসের দিন কিনবেন। নতুবা আপনি তেমন কোনো লাভ পাবেন না।

সপ্তমতঃ, বাড়িতে ঝাঁটা কখনো উল্টো করে রাখবেন না, তাহলে আপনার বাড়িতে কলহ বৃদ্ধি পাবে।

অষ্টমত, বাড়ি থেকে বাইরে কিংবা বাড়ির ছাদে ঝাঁটা রাখবেন না। প্রচলিত মত অনুসারে, যদি আপনি এরকম করেন তাহলে বাড়িতে চুরির আশঙ্কা থাকে।

ধনতেরাসের দিন বাড়িতে ঝাঁটা নিয়ে আসার শুভ বিষয়গুলি তো আলোচনা হল। কিন্তু, এই দিন কোন ঝাঁটা কিনবেন না কিনবেন, সেটা নিয়েও আলোচনা করা দরকার। জানিয়ে রাখি, বাজারে অনেক ধরনের ঝাঁটা পাওয়া গেলেও সব ধরনের ঝাঁটা কিনে আনবেন না। বিশেষ করে প্লাস্টিকের ঝাঁটা কিনবেন না, কারণ মনে করা হয়, প্লাস্টিক খুব একটা শুভ জিনিস না। তাই, যদি ধনতেরাসের দিন আপনাকে বাড়িতে ঝাঁটা কিনতে হয় তাহলে অবশ্যই সিকের ঝাঁটা কিনবেন অথবা ফুলঝাড়ু কিনবেন। শিকের ঝাঁটা হলো মূলত নারকেল গাছের পাতার কাঠি দিয়ে তৈরি করা ঝাঁটা। আর ফুলঝাড়ু হলো খেজুর ঘাস দিয়ে তৈরি নরম ঝাঁটা, যা দেখতে অনেকটা প্রাণীর লেজের আকৃতির হয়ে থাকে।

তবে মনে করা হয় ঝাঁটা যত ঘন হবে তার ইতিবাচক প্রভাব তত বেশি হবে। তাই ভুল করেও কোনো হালকা ঝাঁটা কিনে আনবেন না। আবার যদি শিকের ঝাঁটা কেনেন তাহলে লক্ষ্য রাখবেন তার শিক যেন কোনভাবে ভাঙ্গা না থাকে। কারণ মনে করা হয়, যদি এই ধরনের কাঠি নির্মিত ঝাঁটা বা শিকের ঝাঁটার কাঠি ভাঙা থাকে তাহলে সেই ঝাঁটা খন্ডিত ঝাঁটা হয়ে যায়, আর সেই ধরণের ঝাঁটা অত্যন্ত অশুভ।

তবে, শুধুমাত্র ঝাঁটাই নয়, ধনতেরাসের দিন যদি আপনার বাজেট কম থাকে, তাহলে আপনি সোনা রুপোর পরিবর্তে আরো বেশ কিছু জিনিস কিনতে পারেন যা আপনার বাড়িতে সুখ এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। সেই সমস্ত জিনিস গুলির মধ্যে অন্যতম হলো ধনের বীজ। তবে ধনের বীজ আপনি নিয়ে আসেন, তাহলে আপনাকে মনে রাখতে হবে পুজোর সময় মা লক্ষীকে এই ধনে বীজ অর্পণ করে সেটাকে সিন্দুকে রেখে দিতে হবে।

তার পাশাপাশি আপনার ব্যবসা সংক্রান্ত পণ্য, লেখক এবং পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে পেন, বইপত্র, শিল্পীর ক্ষেত্রে তুলি, যে কোন ইলেকট্রনিক্স জিনিস যেমন ফ্রিজ, টিভি, মোবাইল ফোন, ১১টি গোমতী চক্র এবং পিতলের বাসন পত্র কিনতে পারেন। তবে হ্যাঁ, বাসন কিনলে পিতলের বাসন ছাড়া কোন ধাতুর বাসন কিনবেন না। এবং সেই পিতলের বাসন কিনে সেটাকে বাড়ির উত্তর-পূর্ব কিংবা অন্তত পূর্বদিকে আপনাকে রাখতে হবে। তাহলে আপনার বাড়িতে মা লক্ষ্মী আগমন ঘটবে এই ধনতেরাসের দিন।

তথ্যসূত্র:

  • https://www.naidunia.com/spiritual/vrat-tyohar-dhanteras-2021-buy-these-things-with-a-broom-on-dhanteras-you-will-get-auspicious-results-on-diwali-7119488

লিখেছেন
Sourish Das
Sourish Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।