ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই মূল লক্ষ্য ইজরায়েলের? যা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

Israel: বড় প্রশ্ন হলো, ইজরায়েল কি আবারও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে, যেমনটা ইরানের উপর অতীতের হামলার সময় করেছিল?

Tanvia Barua
৩ মিনিট
ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই মূল লক্ষ্য ইজরায়েলের? যা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

আজ ইরান-ইজরায়েল হামলার পঞ্চম দিনেও উভয়পক্ষ হামলা অব্যাহত রেখেছে। বেড়েছে সংঘাতের তীব্রতা। ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক ঘাঁটিতে ইজরায়েলের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। আলজাজিরা-র বিশ্লেষণমূলক এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, এর ফলে তেহরান তাদের পারমাণবিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। দেখা যাক বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন।

মধ্যস্থতাকারী কাতার ও ওমানকে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইজরায়েলের হামলা চলাকালীন যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো আলোচনা করবে না তারা। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ইরানে হামলার পরে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) ইরান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলী ভায়েজ বলেন, ইজরায়েলের এই আক্রমণ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির করার পথে আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউট (এমইআই) আয়োজিত এক বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনায় বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোই ইজরায়েলের মূল লক্ষ্য হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই আলোচনায়। সেদিনের আলোচনায় অংশ নেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক প্রধান জেনারেল জোসেফ এল ভোটেল, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সাবেক কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল কেভিন ডোনেগান এবং ইরান-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও এমইআই-এর সিনিয়র ফেলো অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা। ওহাইওর রাইট-প্যাটারসন এয়ার ফোর্স বেসে শিক্ষকতা করেন অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা।

ভাতাঙ্কা-র মতে, ইজরায়েলের উদ্দেশ্য কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ধ্বংস করা, না কি সরকার পতন করা— তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে “আমরা হয়তো সে দিকেই এগোচ্ছি"। তিনি আরও বলেন, আমার বিশ্বাস, বেশিরভাগ ইরানের কর্মকর্তাই মনে করেন ইজরায়েল চায় তাদের সরকার ধ্বংস হোক। বড় প্রশ্ন হলো, ইজরায়েল কি আবারও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে, যেমনটা ইরানের উপর অতীতের হামলার সময় করেছিল? তাঁর দাবি, ইজরায়েল যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের সমর্থন পাচ্ছে, অথচ তেহরান কারোর কাছ থেকেই সেভাবে সহায়তা পাচ্ছে না। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী— এই মুহূর্তে ইরানকে কতটা সাহায্য করতে পারবে? ইজরায়েলের হামলায় তারা আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আলোচনা সভায় ডোনেগান বলেন, প্রশ্ন হলো, ইরান কি মনে করছে তাদের প্রতিশোধ যথেষ্ট হয়েছে, এখন তারা আলোচনায় ফিরতে পারবে? আমার মনে হয়, এখনই তারা আলোচনায় বসবে না। তাঁর কথায়, ইরান চাইলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে পারে, কিন্তু সেটা করলে তাদের নিজরাও তেল রপ্তানি থেকে বঞ্চিত হবে। ফলে সেটি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত হবে।

প্যানেল সদস্যদের মতে, এই যুদ্ধের ফলাফল নির্ভর করছে ইজরায়েলের উপর। তারা কতদূর অগ্রসর হতে চায় তার উপরই সংঘর্ষের ক্ষয়ক্ষতি নির্ভর করবে। তবে হামলার ধরন, টার্গেট ও ইজরায়েলি নেতাদের বক্তব্য থেকে খানিক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে শুধু পরমাণবিক অস্ত্রই বিষয় নয়, হামলার উদ্দেশ্য আরও বড় হলেও হতে পারে। অনেকেই দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চাইছে ইজরায়েল।

বিশেষজ্ঞরা এও বলছেন যে ইরানের ভেতরে ও আঞ্চলিক মিত্রদের কাছে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করাই ছিল হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রথম দফার হামলায় ইরানের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরবর্তী হামলাগুলোও সুনির্দিষ্ট টার্গেটে হামলা করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি বেড়েই চলেছে। এতে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা দুর্বল ও অস্থির হয়ে পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ইরান-ইজরায়েল সংঘাতে আমেরিকার হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রশাসন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী চান, আমেরিকা এই যুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ করুক, যাতে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়। এই আবহেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যে জল্পনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবারই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করতে বলেছিলেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে, বুধবার (১৮ জুন)টেলিভিশনে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনি বলেছেন, ইরানকে যারা চেনে, তারা এই ভাষায় কথা বলে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এই বার্তা দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, ইরানের উপর ‘যুদ্ধ’ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর কাছে তাঁরা মাথা নত করবেন না। কোনও ‘চাপিয়ে দেওয়া শান্তি’র কাছেও মাথা নত করবে না ইরান। টেলিভিশন বার্তায় খামেনেই বলেন, ‘‘আরোপিত যুদ্ধের মুখে ইরান কঠোর অবস্থান নেবে। আরোপিত শান্তির বিরুদ্ধেও ইরানের অবস্থান হবে সমান। আরোপের মুখে এই দেশ কারও সামনে আত্মসমর্পণ করবে না।’’ তবে কি সত্যিই আমেরিকা পশ্চিম এশিয়ার ‘যুদ্ধে’ যোগ দেবে? আবার কি ইরানে পালাবদলের পালা? নেতানিয়াহুর নিশানা কি খামেনেই, নেপথ্যে ট্রাম্প?

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।