সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের নামে ছড়ানো শিরশ্ছেদের ভিডিওটি কি সত্যি?

Bangladeshi execution Saudi Arabia viral video: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদের ভাইরাল ভিডিওটি কি আদৌ সত্যি?

inscript
৩ মিনিট
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের নামে ছড়ানো শিরশ্ছেদের ভিডিওটি কি সত্যি?

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি মর্মান্তিক ভিডিও। বোরখা পরা এক মহিলাকে ঘিরে কয়েক জনের উপস্থিতিতে শিরশ্ছেদের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে সেই ভিডিওতে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির ঘটনার দৃশ্য এটি। কিন্তু তথ্য যাচাই করে দেখা গিয়েছে, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়। এর সঙ্গে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের কোনো সম্পর্কই নেই।

ভিডিওটি আসলে ২০১৫ সালের একটি পুরনো ঘটনার। সেখানে দেখানো মহিলার পরিচয়ও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে নয়, মায়ানমারের এক মহিলা হিসেবে পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ, পুরনো একটি ঘটনার দৃশ্যকে নতুন ঘটনার বলে প্রচার করে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

কীভাবে ধরা পড়ল ভিডিওটির আসল পরিচয়?

ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে ইনস্ক্রিপ্ট তার একটি দৃশ্যের ছবি নিয়ে ‘রিভার্স ইমেজ সার্চ’ করে। সেই অনুসন্ধান থেকেই পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এ ২০১৫ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদন থেকেই জানা যায়, ভিডিওটি সৌদি আরবের মক্কায় এক মহিলার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনার।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মহিলার নাম লায়লা বিন আবদুল মুত্তালিব বাসিম। তিনি মায়ানমারের নাগরিক ছিলেন। সাত বছরের সৎমেয়েকে যৌন নির্যাতন এবং হত্যা করার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ২০১৫ সালে মক্কায় প্রকাশ্যে তাঁর শিরশ্ছেদ করা হয়। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের ফেসবুক পোস্টেও এই ঘটনার দৃশ্য প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে জানানো হয়েছিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে ওই মহিলা শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

অর্থাৎ, ভিডিওটির সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনার কোনো যোগসূত্র নেই। পুরনো ঘটনার দৃশ্যকে নতুন ঘটনার বলে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওটি কোথায়, কখন এবং কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, সেই তথ্য খতিয়ে দেখলেই বিভ্রান্তিকর দাবির অসারতা স্পষ্ট হয়ে যায়।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাটি সত্যি

ভিডিওটি পুরনো হলেও সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার খবরটি মিথ্যা নয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘোষণার ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছে, ১৪ অক্টোবর মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের নাম নাজরুল ইসলাম আবদুল বাসির এবং সিতি আখতার বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে ‘অশোভন কাজ’ করার অভিযোগে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে ঠিক কী ধরনের কাজের অভিযোগে তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, সেই বিষয়ে সরকারি বিবৃতিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। মৃত্যুদণ্ড কী পদ্ধতিতে কার্যকর করা হয়েছিল, তা-ও ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি।

সামাজিক মাধ্যমে কোনো খবর ছড়িয়ে পড়লেই সেটিকে সত্যি বলে ধরে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ড, হিংসা বা ধর্মীয় অনুভূতির মতো সংবেদনশীল বিষয়ের ক্ষেত্রে পুরনো ছবি ও ভিডিও নতুন ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হলে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য জানার বদলে মানুষ বিভ্রান্তিকর দৃশ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন।

এই ঘটনায় ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে পুরনো সংবাদ প্রতিবেদন এবং ছবির উৎস খুঁজে দেখা হয়েছে। সেই অনুসন্ধানেই প্রকাশ্যে এসেছে, ভিডিওটি ২০১৫ সালের এবং তার সঙ্গে ২০২৬ সালে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বুলডোজ়ারের জবাব বই দিয়ে! বুকস্টলের সব বই কিনে বিলি করলেন চিকিৎসক

Doctor protests by distributing books: ইনস্ক্রিপ্টের সঙ্গে কথোপকথনে নিজের এই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন অশোকবাবু। স্পষ্ট করেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা সমর্থক হিসেবে নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগেই এই প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

এপস্টাইনের সঙ্গে ছবি প্রকাশ হরদীপ সিং পুরীর, যে কারণে অস্বস্তি বাড়ছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

Hardeep Puri-Jeffrey Epstein Photo: এপস্টাইনের মুখোমুখি টেবিলে হরদীপ পুরী। মার্কিন নথিতে প্রকাশিত  ছবি ঘিরে কেন অস্বস্তি বাড়ছে? কোন কোন কারণে প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী? 

প্যান্ডেলের ভিতরে অন্ধকার থেকেই বিপত্তি! চোরবাগান দুর্ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীর

রিয়াঙ্কার কথায়, তাঁরা ছ’জন বন্ধু মিলে মণ্ডপে গিয়েছিলেন। ভিআইপি লাইনে প্রবেশ করেও তাঁদের প্রায় দু’ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। তাঁর দাবি, মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার আগে থেকেই ঠেলাঠেলি শুরু হয়েছিল।

ফ্রান্সের গণবিক্ষোভ থেকে কী শিখবে বিশ্ব?

France student protest: বিদ্যালয়ের দুরবস্থা ও পারকুরসুপ ব্যবস্থা থেকে শুরু হয়ে কীভাবে ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়ল দেশব্যাপী তীব্র জনরোষ?

চোরবাগানের দুর্ঘটনা: দায় কার, কী বলছে রাজনৈতিক দলগুলি?

Kolkata pandal Chorbagan stampede: কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপুজোর মণ্ডপে দুর্ঘটনা ঘিরে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। কী বলছে রাজনৈতিক দলগুলি?

প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে সপ্তমীর চোরবাগান

Chorbagan Durga Puja incident: মণ্ডপের ভিতরে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। বাইরে হঠাৎ বৃষ্টি নামায় বাইরের দর্শনার্থীরা ভিতরে ঢুকতে চাইছিলেন কিন্তু ভিতরের দর্শনার্থীরা বাইরে যেতে চাইছিলেন না। প্রবেশ ও প্রস্থান দ্বার ছিল সংকীর্ণ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি। এই ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৯ জনের, আহত অন্তত ২৫। মণ্ডপে নিরাপত্তা ও ভিড় ব্যবস্থাপনার ফাঁকফোকরগুলি কীভাবে কেড়ে নিল এতগুলি প্রাণ, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে।

পুজোয় বইয়ের স্টলে বুলডোজার, যাদবপুরে রাতভর প্রতিরোধ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

Durga Puja book stall controversy: উৎসবের আবহে বইয়ের স্টল ঘিরে উত্তেজনা কলকাতায়। যাদবপুরে পুরসভার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মানববন্ধন বাম কর্মীদের, ভোররাতে ভাঙা হলো এপিডিআর-এর স্টল।