এসআইআর ফর্ম ৭ বিতর্ক, ৩০ জন মুসলিম ভোটারের নাম বাদের অভিযোগে এফআইআর

SIR Form 7 Controversy: হায়দরাবাদে এসআইআর-এ ফর্ম ৭ নিয়ে বিতর্ক। ৩০ জন মুসলিম ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করার অভিযোগে বিজেপির এক বুথ এজেন্টের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। নির্বাচন আধিকারিকদের যাচাইয়ে ওই ভোটারদের ঠিকানায় থাকার প্রমাণ মেলে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

inscript
৩ মিনিট
এসআইআর ফর্ম ৭ বিতর্ক, ৩০ জন মুসলিম ভোটারের নাম বাদের অভিযোগে এফআইআর

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে ফের বিতর্ক। এবার অভিযোগ উঠেছে তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে। মুশিরাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে ৩০ জন মুসলিম ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগে বিজেপির এক বুথ-লেভেল এজেন্টের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ওই বিজেপি বুথ এজেন্ট আগে থেকেই ভোটারদের নাম, ঠিকানা-সহ তথ্য ছাপানো ফর্ম ৭ নিয়ে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

অভিযুক্ত বিজেপি বুথ-লেভেল এজেন্টের নাম এস বালাচন্দর। মুশিরাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের Electoral Registration Officer টি প্রবীণ কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ অক্টোবর চিক্কাডপল্লি থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২১৭ এবং ৩১৮(২) ধারার পাশাপাশি Representation of the People Act, 1950-এর ৩১ নম্বর ধারাতেও মামলা হয়েছে।

ফর্ম ৭ সাধারণত কোনো ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় থাকার বিষয়ে আপত্তি জানানো বা কোনো নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করার জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু মুশিরাবাদের ঘটনায় যে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তা হল ফর্মগুলির ধরন। অভিযোগ অনুযায়ী, ৩০টি ফর্মই আগে থেকে ডিজিটালি প্রিন্ট করা ছিল। তাতে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নাম ও অন্যান্য তথ্য আগে থেকেই লেখা ছিল। বালাচন্দর ২৮ সেপ্টেম্বর মুশিরাবাদের সূর্যনগরের ২১০ নম্বর বুথে ওই ফর্মগুলি নিয়ে হাজির হন বলে এফআইআর-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ, বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও এবং তাঁর সুপারভাইজার ওই বিপুল সংখ্যক ফর্ম একসঙ্গে জমা নিতে অস্বীকার করেন। বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তাঁরা ফর্ম গ্রহণ করেননি এবং কোনো রসিদও দেওয়া হয়নি। এরপর বালাচন্দর ফর্মগুলি বুথের চত্বরে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।

এর পরেই ভোটারদের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে যাচাই শুরু করেন নির্বাচন আধিকারিকরা। ৩০ সেপ্টেম্বর BLO ও তাঁর সুপারভাইজার এবং ১ অক্টোবর Assistant Electoral Registration Officer ও Electoral Registration Officer মিলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ঠিকানা যাচাই করেন। প্রশাসনিক তদন্তে দেখা যায়, ৩০ জন ভোটারই মুশিরাবাদে ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত ঠিকানাতেই বসবাস করছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন একটি ঠিকানায় এবং বাকি ১৬ জন অন্য একটি ঠিকানায় বসবাস করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। ফলে ওই ফর্মগুলির ভিত্তিতে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হয়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যাঁদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা সকলেই মুসলিম বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কংগ্রেসের এক বুথ-লেভেল এজেন্টও ছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর ভোটারদের নিশানা করা হয়েছিল কি না।

তবে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের তরফে ভোটার তালিকা থেকে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে অভিযোগের রাজনৈতিক দিকটি এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

এই ঘটনার আগেই হায়দরাবাদের গোশামহল এবং বাহাদুরপুরা বিধানসভা এলাকাতেও আগে থেকে ভোটারদের তথ্য ছাপানো ফর্ম ৭ নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। গোশামহালে এমন ১৫টি ফর্ম একসঙ্গে জমা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। সেই ফর্মগুলিও গ্রহণ করেননি সংশ্লিষ্ট BLO। নির্বাচন আধিকারিকরা স্পষ্ট করেছেন, অসম্পূর্ণ বা নিয়ম মেনে পূরণ না করা ফর্মের ভিত্তিতে কোনো ভোটারের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ যায় না। যাচাই এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

এই পরিস্থিতিতে তেলঙ্গানার Chief Electoral Officer সি সুদর্শন রেড্ডি জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন আধিকারিকদের ফর্ম ৬, ৬এ, ৭ এবং ৮-এ মিথ্যা তথ্য বা ঘোষণা জমা দেওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এসআইআর চলাকালীন কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার তালিকায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করলে তদন্তের পর তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।

তেলঙ্গানার এই ঘটনা অবশ্য আলাদা কিছু নয়। কর্নাটকেও ফর্ম ৭-এর অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক এফআইআর হয়েছে। এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কোনো চেষ্টা হলে তা ভোটাধিকার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা—দুই ক্ষেত্রেই গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। হায়দরাবাদের ৩০ ভোটারের ঘটনায় এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, ফর্মগুলি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, সেগুলি কে প্রস্তুত করেছিল এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে সত্যিই কোনও পরিকল্পিত উদ্যোগ ছিল কি না।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বামের যে ভোট রামে গিয়েছে, তার অধিকাংশই ফেরানো যাবে বলে মনে করি: দীপ্সিতা

Dipsita Dhar Interview: ৮০ শতাংশ মানুষ মমতার বিরুদ্ধে ক্রোধ এবং ঘৃণায় বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন। বাকি ২০ শতাংশ দিয়েছিলেন ‘হিন্দুত্বের’ কারণে। সিপিএমের নেত্রী মনে করেন, সেই ৮০ শতাংশ মানুষকে বুঝিয়ে ফেরানো সম্ভব।

স্কুল বন্ধ, রাস্তায় বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলনের নেপথ্যে কী?

France Student Protests 2026: কেন উত্তাল ফ্রান্স? হাজার হাজার পড়ুয়া কেন স্কুল ছেড়ে রাজপথে? পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কেন বাড়ছে উত্তেজনা?

জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে আট ঘণ্টা ধরে আকাশবাণী ভবনে বিরোধীদের অবস্থান

Gyanesh Kumar Resignation Demand: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বন্ধের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভে নামে ইন্ডিয়া জোট। নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। ব্যারিকেড টপকে আকাশবাণী ভবনে পৌঁছন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ নেতারা। অখিলেশ যাদব, ডেরেক ও’ব্রায়েন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়।

অভিজিৎ, সৌরভ, আশুতোষ গ্রেফতার হলেই থেমে যাবে আন্দোলন?

Possible detention of cockroaches:যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কে.পি. বসু মেমোরিয়াল হলে, বাম ছাত্রসংগঠনগুলির ‘জেন-জি আন্দোলন’ কনভেনশনে উপস্থিত হলেন, আইসা-র নেহা বোরা ও এসএফআই-এর সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁদের দাবি, এসআইআর প্রত্যাহার, এনইপি বাতিল, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। অন্যদিকে ঘনাচ্ছে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারির আশঙ্কা। এরই মাঝে, ১০ অক্টোবর বড় সমাবেশের ডাক দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। নেতৃত্বহীন জনগণ কি চালিয়ে যেতে পারবে আন্দোলন?

নন্দীগ্রামে প্রতীকহীন তৃণমূল, রেজিনগরে গ্রেফতার হুমায়ুন: কেমন হচ্ছে উপনির্বাচন?

Nandigram Rejinagar by - election 2026: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রে ১৮,৮৯৫টি ভোটার আপিল হয়েছে, নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৯০টিতে। অযোগ্য ভোটার হিসাবে ঘোষিতদের, ৯৪-৯৫ শতাংশ মুসলিম। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের নিজের প্রতীক নেই, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে রেজিনগরে, ভোট চলাকালীন, হুমায়ুন কবীর গ্রেফতার হয়েছেন। উপনির্বাচনের ফল জানা যাবে, ৯ অক্টোবর।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলদের মিছিল, পুলিশের বাধায় ধর্না বিরোধীদের

Opposition March to EC Office: এসআইআর ও ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করলেন রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়াা জোটের বিরোধী সাংসদরা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ স্লোগান ওঠে। তবে কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর আগেই মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।