বাংলা গদ্যপ্রতিমা নির্মাণের প্রবাদপ্রতিম ভাস্কর কমলকুমার

Surojit Sen
৫ মিনিট
বাংলা গদ্যপ্রতিমা নির্মাণের প্রবাদপ্রতিম ভাস্কর কমলকুমার

‘পৃথিবীতে আমার কেউ ছিল না বললে ভুল বলা হবে, বলব, আমি কারোর ছিলাম না’ – এই রকম একটি বাক্য পড়ার পর আর কিছু মনে আসে না, চোখে জল আসে। বাক্যটির লেখকের বয়স ১০৮ বছর হবে এই বছরের নভেম্বর মাসে, কোনো ব্যক্তির ১০৮ বছর বয়সপূর্তি উদযাপন করার রেওয়াজ নেই, কিন্তু ধর্মগুরুদের নামের আগে শ্রী শ্রী ১০৮ লেখার প্রচলন আছে, সম্ভবত পৌরাণিক মহাগুরু শ্রীকৃষ্ণের অষ্টত্তোর শতনামের কথা মাথায় রেখেই। যিনি ওই বাক্যটি লিখেছিলেন, তিনি হলেন বাংলা সাহিত্যের পুরাণপুরুষ বাবু কমলকুমার মজুমদার আর পৌরাণিক চরিত্র হিসেবেই তাঁকে স্মরণ করা হলএই লেখায়, গায়ে উনিশ শতকীয় গোঁড়া হিন্দুর ক্লোক চাপিয়ে রাখতেন রণকৌশল হিসেবে। বাংলায় এরকম আর একজনও লেখক নেই, যিনি সাহিত্যিক হিসেবে জনপ্রিয় না হয়েও জীবদ্দশায় এতোটা পৌরাণিক হয়েছেন।

চালচলনে আর পোশাকে খুব সাহেবি ছিলেন যৌবনে, হলিউড তারকা চার্লস বার ছিল তাঁর হিরো। সদ্য স্বাধীন ভারতবর্ষ, এক দিন কমলকুমার স্যুট (র‍্যানকিন কী হারমানের বাড়ির তৈরি) পরে ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে, একজন কুলি তাঁকে 'বাবু' সম্বোধন করে রাস্তার হদিস চায়। স্যুট বুট পরা সত্ত্বেও “সাহেব” না বলে 'বাবু' বলায়, কমলকুমার মর্মাহত। পরের দিন থেকে স্যুটবুট ত্যাগ, নরুনপেড়ে কোঁচানো শান্তিপুরী ধুতি, গায়ে সাদা পাঞ্জাবি আর পায়ে চটি পরে উনি হলেন বাবু কমলকুমার মজুমদার। হাতে চটের থলে। ভেতরে কয়েকটি বই, একটি অবশ্যই ফরাসি ভাষায়। বইয়ের ভেতর দিনখরচের টাকা। যে কোনও বয়সের পুরুষমানুষকে 'বাবু' বলে সম্বোধন করতেন, পছন্দ করতেন ট্রাম, কিছু দিন ক্লাসিক্যাল গান শিখেছিলেন ফৈয়াজ খাঁ- র কাছে, বাড়ির ঠিকানা দিতেন না, অবিশ্বাস করতেন আ্যালোপ্যাথি চিকিৎসাকে। নিজের হাঁপানির চিকিৎসা করাননি, কেন? বলতেন, 'সাফারিং-এর একটা গ্র্যাঞ্জর আছে'।

সেন্ট্রাল আ্যাভেন্যু কফি হাউসের হাউস অফ লর্ডসে আড্ডা ছিল হরিসাধন, রাধাপ্রসাদ, চিদানন্দ, সত্যজিতের সঙ্গে। সত্যজিতের সঙ্গে যৌথ পরিচালনায় 'ঘরে বাইরে' উপন্যাসটি ফিল্ম করার পরিকল্পনা ছিল, তার জন্য কমলবাবু নাকি এক হাজার স্কেচ করেছিলেন! কিন্তু ‘পথের পাঁচালী’ দেখার পর সত্যজিতের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ, ওই সিনেমার একটি দৃশ্যই কমলবাবুর ভালো লেগেছিল, যেখানে চিনিবাস ময়রার পেছনে ধাওয়া করছে অপু দুর্গা। পরে সত্যজিৎ যোগাযোগে উদ্যোগী হলে কমলবাবু এড়িয়ে যান। কিন্তু একদিন দুজনে হঠাৎ মুখোমুখি রাস্তায়,

সত্যজিৎ- কী ব্যাপার কমলবাবু কেমন আছেন? একদিন বাড়িতে আসুন।

কমলবাবু-আপনার বাড়িতে বড্ড ভদ্রলোকের ভিড়।

সত্যজিৎ- বেশ তো, আপনি কবে আসবেন বলুন? কিছু ছোটলোক আনিয়ে রাখব।

সেটাই সম্ভবত শেষ দেখা দু'জনের। নন ম্যাট্রিক কমলবাবুর সম্পর্কে সিভিলিয়ান ও চিত্রকলারসিক অশোক মিত্র বলেছেন, “হেন বিষয় নেই, যা তিনি জানতেন না। ইউরোপীয় পেইন্টিং-এ অগাধ জ্ঞান। ছবি আঁকা আর উডকাট ছাড়াও লেসের কাজ, তাঁতের কাজ জানতেন। যেমন চিনতেন গ্রাম ও লোকশিল্প তেমন এই কলকাতা শহর ছিল তাঁর নখদর্পণে। অসাধারণ পাণ্ডিত্য। তাঁর সঙ্গে তর্ক করা বিপজ্জনক। বিষ্ণু দে-ও ওনার সঙ্গে তর্ক করতে সাহস পেতেন না”। শুধু তর্ক নয়, রসিকতা, উইট আর বিনয় দিয়ে মুখের কথাকে কী ভাবে হিরকোজ্জল করে তুলতে হয় সে ম্যাজিকে অদ্বিতীয় ছিলেন কলকাতার শেষ আর্বান-কথক কমলকুমার। কথিত আছে, আড্ডায় যে কোনও বিষয়ে আলোচনার মধ্যমণি কমলকুমার উঠে চলে গেলে সে আড্ডায় আলো কমতো আর বাড়ত চোনা। এক উঠতি সাহিত্যিক গল্পের প্লটের কথা জিজ্ঞেস করলে, উনি বলেন, 'প্লটে বাড়ি হয় বাবু, গল্প হয় না'।

এক কম্যুনিস্ট আড্ডাধারী 'প্রলেতারিয়েত' নিয়ে দীর্ঘ লেকচার দেওয়ার পর দেওয়ার পর, তাকে কমলকুমারের প্রশ্ন, 'আচ্ছা বাবু তুমি যে বলছ, শ্রমিক-কৃষকরা প্রলেতারিয়েত, ব্যাঙের যে একটা ল্যাটিন নাম আছে ব্যাঙ কি সেটা জানে'? বাবুটির চৈতন্যোদয় হয় কমলকুমার কে এবং কী।

প্রথমে বিষ্টুপুর শিক্ষাসংঘ ও পরে কলকাতার ক্যাথিড্রাল মিশনারি স্কুলে তাঁর ছাত্রজীবন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ড্রপআউট কমলকুমার ভবানীপুরে সংস্কৃত টোলে কিছুদিন পড়েছিলেন। তালতলার কাছে ব্লকম্যান স্ট্রিটে যে বাড়িতে থাকতেন, ওই একই বাড়ির বাসিন্দা সিন্ধুবালা দেবীর কাছে আসতেন অনুরূপা দেবী, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, দিলীপকুমার রায়রা। এই সময় তিনি তাঁদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পান। পরবর্তীকালে কমলকুমারের ‘শরৎবাবু বিষয়ক নোট’ লেখাটির বীজ সম্ভবত তখনই বোনা হয়েছিল।

অন্তর্মনে এতটাই নৈরাজ্যের লালন করতেন যে, একবার হঠাৎ একদিন বাড়ি ফিরে বাবাকে বললেন, ‘ট্রাঙ্কে আমার যা কিছু লেখা,আঁকা আছে সব পুড়িয়ে ফেলবেন তো’, বলেই বেরিয়ে গেলেন। বাবাও ছেলের কথামতো তাই করলেন, বোন শানু লাহিড়ী এরকমই জানিয়েছেন।

বিয়ের আট দিনের মাথায় স্ত্রীকে বলেন, “দেখ আমি সিনিক। মেয়েদের ভালোবাসতে পারি না। বিবাহ করেছি তোমাকে, আমি টাকা দেব, তুমি বাপের বাড়িতে থেকো”। স্ত্রী স্তম্ভিত। এর কিছু দিন পরে স্ত্রীকে বলছেন, "চলো, আমরা পারস্যে চলে যাই। পায়ে হেঁটেই যাঁব”। স্ত্রী হতচকিত। বাড়িতে অ্যালসেশিয়ান কুকুর আনলেন ব্যবসা করবেন বলে, তার নাম লুসি। মারা যাবার পর মৃত লুসির মুখে চুম্বন করেন। স্ত্রী আতঙ্কিত।

ফরাসি ভাষা আর মদ খাওয়া – দুটোই অল্প বয়সে শিখেছিলেন, উনিশ শতকীয় সাধু ভাষায় জটিল বাক্যে গল্প লিখতেন। তাঁর লেখার বিরুদ্ধে যাঁরা, তাঁদের বক্তব্য, কমলবাবুর লেখার বঙ্গানুবাদ প্রয়োজন। কী মারাত্মক অবজার্ভেশন ছিল তাঁর, “রুক্সিণীকুমার” গল্পের এই বাক্যাংশটি থেকে বোঝা যাবে, “সে আর নিকুঞ্জ একটি খোলার চালের বাড়ির সম্মুখে, দরজায় লেখা - গৃহস্থের (!) বাড়ী (ইহার ঈ -কার অল্প মোছা ও আমাধরা ইটের টুকরোয় কোন শয়তান অন্য একটি বর্ণ সংযোগ করিয়াছে” - আশা করি পাঠক বুঝেছেন। ১৯৫১ সালে দুই মহিলার শরীরী প্রেম নিয়ে গল্প (মল্লিকবাহার) লিখেছেন, যা সে যুগে অকল্পনীয়।

তাঁর অনুজ ভক্তকুলের প্রায় সবাই স্বখ্যাতসলিলে নিমজ্জমান কবি বা লেখক, কমলবাবু সেই লেখকদের গুরুমশাই। রোজই দুপুরে খালাসিটোলায় হাজিরা বাংলা মদের টানে, সঙ্গে কোনও না কোনও ভক্ত। সে আমলের সবচেয়ে কড়া মদ (২৫ আপ) কয়েক দফায় নির্জলা পান করে ওই শৌণ্ডিকালয়ের সামনে থেকেই ট্রাম ধরে সাউথপয়েন্ট স্কুল, যেখানে উনি আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটের শিক্ষক।

মদ খেয়ে স্কুলে পড়াতে যাওয়া! এ কোনও পৌরাণিক চরিত্রের পক্ষেই সম্ভব, যে কারণে ফরাসি চিত্রপরিচালক রেনোয়া (যাঁর কাছে সত্যজিতের ফিল্মের হাতেখড়ি) শিল্পী যামিনী রায়ের বাড়িতে বাঘের পিঠে চড়া মাটির পুরুষপুতুলটিকে দেখে বলেছিলেন, “আই ক্যান ওয়েল ইম্যাজিন কোমাল রাইডিং দিস টাইগার”। তার আগে রেনোয়ার সঙ্গে কলকাতার হোটেলে দেখা করতে গিয়েছিলেন কমলবাবু, সঙ্গে সিমলের নকুড়ের সন্দেশ। সাহেবের হাতে বাক্সটি তুলে হোটেলঘরের মাটিতে বসে পড়ে আলাপ করেন। সাহেব বুঝেছিলেন, এ বাঘের পিঠেরই সওয়ার।

দুপুরে খালাসিটোলায় যেতেন বলে যে সাঁঝে যেতেন না, তা নয়, সঙ্গে ভক্তকুল। উনি বক্তা, বাকিরা সম্মোহিত শ্রোতা খালাসিটোলার এক স্টিউয়ার্ডের ভাষায় 'কমলবাবুর ইস্কুল'। এক ভক্ত শিক্ষকতা করে জেনে উনি বলছেন, “ও বড় ছিনাল জীবিকা”।

কী করেননি লেখক জীবনে ? মাছের ভেড়ির ব্যবসা, ডিডিটি-র সাপ্লাই, জাহাজে আমদানি রপ্তানি, ফ্রি ল্যান্স বিজ্ঞাপনের কাজ, জনগণনার কাজ, গয়নার ডিজাইন করা, পত্রিকায় বেনামে ফিচার লেখা, একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকার ৩টি সংখ্যা সম্পাদনা, বাংলার টেরাকোটার মন্দিরের উপর দুটি তথ্যচিত্র, সাপ্তাহিক রহস্য পত্রিকার ১৮টি সংখ্যা সম্পাদনা, গণিত বিষয়ে ত্রৈমাসিক পত্রিকার ২টি সংখ্যা সম্পাদনা আর ছোটো ছেলেমেয়েদের নিয়ে ৮টি নাটক পরিচালনা । এ ছাড়াও অভিনয়যোগ্য ১২টি নাটক তৈরি ছিল, যার ৮টি তাঁর লেখা। শিশির ভাদুড়ির ভক্ত কমলকুমারের নাটকের প্রতি তীব্র ভালবাসা ছিল।

স্কুলের সহকর্মী ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব উৎপল দত্ত। যাঁর নাটকের মঞ্চসজ্জাকে উনি পেয়াঁজির দোকান বলতেন। এক বার বলেছিলেন, “উৎপল বাবু একটা নাটক দিন না, আমরা নাটক করব। না, না, ভয় নেই, আপনার পেঁয়াজির দোকানের সেট আমি রাখব”।

হিরণ্ময় গঙ্গোপাধ্যায় কমলকুমারকে নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন, তাঁর গবেষণা মহাগ্রন্থটি খুব শীঘ্র প্রকাশিত হবে আর আমরা এই পৌরাণিক লেখকের ব্যাপারে আলোকিত হব এই আশা। কমলকুমার তাঁর দিব্যচেতনার গদ্যভাষায় কোন অনির্বচনীয়কে ধরতে চেয়েছিলেন, তা বোঝানো আমার সাধ্যাতীত। আমি ওনার সামান্য পাঠক মাত্র। উনি ঠাকুরের ভক্ত (শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ), বলতেন, "ঠাকুরের কৃপা থাকলে সব হয়”। প্রকাশ থাক,কমলকুমারকে নিয়ে কিছু লেখার অধিকারী আমি নই। আমার উপর ঠাকুরের কৃপা নেই। তাই এই অনধিকারচর্চার জন্য পাঠক ও মহাকালের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

লিখেছেন
Surojit Sen
Surojit Sen
1 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

অথর ইজ ডেড, যে লেখে সে আমি নয় এআই?

Caine Prize winning story AI allegations: ১১ অক্টোবর লেখক ও সাংবাদিক ভোহিনি ভারা ‘দ্য আটলান্টিক’-এ একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন—যার শিরোনাম ছিল “Yet Another Literary Prizewinner Seems to Be AI”। সেখানে তিনি জানান, ‘পাংগ্রাম’ নামের একটি এআই-ডিটেকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে গল্পটি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে এটি প্রায় পুরোটাই কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত।

জমিদারগিন্নির অপমানের জবাব দিতেই শুরু পাঞ্জা বাড়ির দুর্গাপুজো

Panja family Durga Puja: এক বর্ষামুখর দুর্গাষ্টমীর দিনে জমিদারবাড়ির মহিলারা, জমিদারগিন্নির সঙ্গে, বাড় সিউড়ির দুর্গাপ্রতিমা দর্শনে যান। ফেরার পথে কর্দমাক্ত রাস্তা পেরোনোর সময় দামি শাড়ি কাদা থেকে বাঁচাতে তাঁরা শাড়ির পাড় কিছুটা তুলে হাঁটছিলেন। কথিত আছে, তা দেখে পাড়ার কয়েকজন কটূক্তি করে বলেন— “পাঞ্জা বাড়ির বউ কাপড় উঠিয়ে চলছে!”

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।