বাংলায় বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট: ঠিক কী কী সুবিধে পাবেন সমাজের সব স্তরের মানুষ?
West Bengal Budget 2026: অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের আগের সমস্ত সামাজিক প্রকল্পগুলি অব্যাহত বা চালু থাকবে, তবে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া এবং দুর্বল শ্রেণি যাতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায়, এই বাজেটে সেদিকেই বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় পেশ হলো নবগঠিত বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে এই প্রথমবার সরকার গঠন করেছে বিজেপি সরকার। পশ্চিমবঙ্গে গঠিত হয়েছে 'ডাবল ইঞ্জিন' সরকার। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ শক্তির উপর ভরসা রেখে, রাজ্যের নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখা ও জনকল্যাণমুখী দিশা নির্ধারণ করতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মেগা বাজেট পেশ করলেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই নতুন সরকার একদিকে যেমন পূর্বতন সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কাজ শুরু করেছে, অন্যদিকে তেমনই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ঢালাও ঘোষণা এনেছে। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের আগের সমস্ত সামাজিক প্রকল্পগুলি অব্যাহত বা চালু থাকবে, তবে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া এবং দুর্বল শ্রেণি যাতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায়, এই বাজেটে সেদিকেই বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
নিচে এই ঐতিহাসিক বাজেটের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা সহজ, সরল ও সাবলীল ভাষায় বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
সরাসরি অভিযোগ: "আপনার সরকার, আপনার পাশে"
প্রশাসনিক কাঠামোকে স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং দায়বদ্ধ করে তুলতে রাজ্যবাসীর সুবিধার্থে সরকার একটি নতুন হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে।
সেই নম্বরে ফোন করে সাধারণ মানুষ সরাসরি সরকারের কাছে নিজেদের যেকোনো অভাব-অভিযোগ বা সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।
এর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা জনসাধারণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য জরুরি মোকাবিলা করতে 'ডায়াল ১১১' (Dial 112) হেল্পলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
কন্যাশ্রীর চালে নয়া 'অন্নপূর্ণা যোজনা' ও 'পিংক কার্ড'
তৃণমূল সরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্পের চালে বা তার আদলে নারী সুরক্ষায় ও নারী ক্ষমতায়নে একাধিক নজিরবিহীন ঘোষণা করা হয়েছে এই বাজেটে।
মেগা অন্নপূর্ণা যোজনা: নারীদের আর্থিক স্বাবলম্বী করতে এবং আর্থিক ক্ষেত্রে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চালু হলো 'অন্নপূর্ণা যোজনা'। এই স্কিমের আওতায় পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যোগ্য মহিলাদের জন্য প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এই টাকা সরাসরি উপভোক্তার আধার যুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এই মেগা স্কিমের জন্য বাজেটে ৩৬,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষায় বড় অনুদান: কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া (ড্রপ আউট) কমাতে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের অবিবাহিত ছাত্রীদের এককালীন ৫০,০০০ টাকা অনুদান দেওয়া হবে।
বিনামূল্যে বাস পরিষেবা ও পিংক কার্ড: ১ জুন ২০২৬ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মহিলা যাত্রীদের জন্য রাজ্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে পরিবহণের ঐতিহাসিক সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য খুব তাড়াতাড়ি চালু হবে বিশেষ 'পিংক কার্ড' (Pink Card)। এই প্রকল্পে ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
গর্ভবতী মায়েদের আর্থিক সাহায্য: গর্ভবতী ও স্তন্যদায়ী মায়েদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা যোজনার সুবিধাসহ মোট ২১,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এর সঙ্গে গর্ভবতী মায়েরা পাবেন ৬টি বিশেষ 'পুষ্টিকিট'।
মহিলা থানা ও দুর্গাসুরক্ষা স্কোয়াড: রাজ্যের প্রতিটি মহকুমায় অন্তত একটি করে নতুন মহিলা থানা স্থাপন করা হবে এবং প্রতি থানায় থাকবে নারী সহায়তা ডেস্ক। এছাড়া শহরের ব্যস্ত এলাকায় টহল দেওয়ার জন্য মহিলা পুলিশ অফিসারদের নিয়ে তৈরি হবে 'দুর্গাসুরক্ষা স্কোয়াড'। রাজ্য রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সে মাতঙ্গিনী হাজরা ও রানী শিরোমণির নামে ২টি সম্পূর্ণ নতুন মহিলা ব্যাটালিয়ন স্থাপন করা হবে।
স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন: রাজ্যের সমস্ত স্কুল ও কলেজে ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে।
বেকার যুবকদের জন্য মেগা প্রকল্প: ‘ভরসা’ ও চাকরি
রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এক বিরাট আশার আলো নিয়ে এসেছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার। আগামী অক্টোবর (২০২৬) থেকে চালু হচ্ছে বিশেষ ‘ভরসা’ কর্মসূচি।
কারা কত টাকা পাবেন:
যেসব পরিবারের মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম এবং যাঁরা অন্য কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁরাই এই ভাতার যোগ্য।
স্নাতক (Graduate) বেকার যুবক-যুবতীরা পাবেন প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা ভাতা।
অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন বেকারদের জন্য মাসিক ভাতার পরিমাণ হবে ২,০০০ টাকা।
১ লক্ষ সরকারি চাকরি: রাজ্য সরকারি অফিসগুলিতে খালি পড়ে থাকা ১ লক্ষ শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা হবে, যার মধ্যে ৩৩ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
শূন্যপদের খতিয়ান: এই শূন্যপদগুলির মধ্যে ২০,০০০ পুলিশ বিভাগে, ৫০,০০০ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী পদে এবং ১,০০০ ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলে নিয়োগ করা হবে। যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে ১০ শতাংশ পদ 'অগ্নিবীর'দের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ৫ বছরের ছাড়: সরকারি পদে নিয়োগের জন্য আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সের সীমায় ৫ বছর ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী ২ বছরের জন্য বহাল থাকবে।
ইউপিএসসি (UPSC) ধাঁচে পরীক্ষা: রাজ্যের নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার থেকে ইউপিএসসি-র মডেলে এনে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হবে।
বিনামূল্যে সরকারি কোচিং সেন্টার: আইআইটি (IIT), জেইই (JEE), নিট (NEET), ক্যাট (CAT), সিএ (CA) এবং সিভিল সার্ভিস (UPSC/WBCS) পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তৈরি হবে সরকারি 'স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার'। এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্বমানের কোচিং পাবেন।
পরীক্ষার জন্য আর্থিক সাহায্য: যেসব চাকরিপ্রার্থী বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক সরকারি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের ৩০,০০০ টাকা করে এককালীন আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রে :
বাংলার শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার খরচ ও ড্রপ-আউট কমাতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেছেন:
আদর্শ বিদ্যালয় (PM-SHRI): রাজ্যের বাছাই করা স্কুলগুলির পরিকাঠামোকে বিশ্বমানের করে তুলতে, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও উন্নত ল্যাবরেটরি গড়তে 'পিএম শ্রী' (PM-SHRI) প্রকল্পের অধীনে ২১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে IIT ও IIM: উত্তরবঙ্গের শিক্ষার প্রসারে সেখানে একটি নতুন আইআইটি (IIT) এবং একটি আইআইএম (IIM) তৈরি করার ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
West Bengal Budget 2026: ৮ লক্ষ কোটির ঋণের বোঝা সামলে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে কোন কোন দাওয়াই থাকতে পারে?
৫টি নতুন মহিলা কলেজ: মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় আরও উৎসাহিত করতে কাঁথি, কালিয়াচক, জঙ্গিপুর, সাগর, তুফানগঞ্জ এবং ফালতায় নতুন সম্পূর্ণ মহিলা কলেজ স্থাপন করা হবে।
মিড-ডে মিলের খরচ বৃদ্ধি ও ইসকনের ছোঁয়া: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের পুষ্টির মান বাড়াতে উপকরণ পিছু খরচ বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হলো। এছাড়া ইসকন (ISKCON)-এর সহযোগিতায় কলকাতা পৌরসভা এলাকার স্কুলগুলোতে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু নিরামিষ খাবার সরবরাহ করা হবে। সব প্রাইমারি স্কুলে বিদ্যুৎ, ফ্যান ও ওয়াটার পিউরিফায়ার দেওয়া হবে।
সংস্কৃত ভাষার প্রসার: সংস্কৃত ভাষার চর্চা, গবেষণা ও প্রসারের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং কলকাতায় একটি 'সংস্কৃতি কেন্দ্র' গড়ে তোলা হবে।
প্যারা টিচারদের বেতন বৃদ্ধি: আংশিক সময়ের শিক্ষকদের (Para Teachers) অবদানকে সম্মান জানিয়ে তাঁদের মাসিক সাম্মানিক এক ধাক্কায় ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হলো।
মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য 'স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ': যে সব মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী কিউএস (QS) ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং-এর শীর্ষ ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্রাজুয়েট বা মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হবে, তাঁদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি এবং স্বাস্থ্য বিমার খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে। এছাড়া জাতীয় স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া মেধাবী পড়ুয়াদের টিউশন ফি-র জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
আশা, সিভিক ভলান্টিয়ার ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি
রাজ্যের চুক্তিভিত্তিক ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের কাজের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে বড় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী:
আশাকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী: তাঁদের মাসিক সাম্মানিক ৫,০০০ টাকা বৃদ্ধি করা হলো।
আংশিক শিক্ষক (Para Teacher): প্যারা টিচারদেরও মাসিক সাম্মানিক ৫,০০০ টাকা বাড়ছে।
সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ ও গ্রিন পুলিশ: আগস্ট ২০২৬ থেকে এঁদের মাসিক পারিশ্রমিক ২,০০০ টাকা করে বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
হোমগার্ড ও এনভিএফ (NVF) কর্মী: এঁদেরও মাসিক পারিশ্রমিক ২,০০০ টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রাণীবন্ধু, প্রাণীমিত্র ও প্রাণীসেবা কর্মী: এই এআই (AI) কর্মীদেরও মাসিক পারিশ্রমিক ২,০০০ টাকা বাড়ানো হচ্ছে।
ভিলেজ রিসোর্স পার্সন ও ভেক্টর কন্ট্রোল টিম: দৈনিক পারিশ্রমিকের বর্তমান হারের উপর আরও ১০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হলো।
পরিবহণ কর্মী: স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের কন্ডাক্টরদের পারিশ্রমিক বাড়িয়ে মাসে ১৬,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সিভিল ডিফেন্স কর্মী: সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের জন্য মাসে ন্যূনতম ২০ দিন কাজের নিশ্চয়তা দেবে সরকার।
অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন: অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন বাড়িয়ে প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করার ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যান্য পেনশন: কারাবাস ভোগ করা ব্যক্তিদের (জরুরি অবস্থার সময়কালীন বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে মিথ্যা মামলার শিকার) মাসে ১০,০০০ টাকা পেনশন দেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্বাসের জন্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলার শিকার হয়েছেন যারা, তাদের সংগ্রামী ভাতা দেওয়া হবে।
সরকারি কর্মচারীদের ডিএ (DA) বৃদ্ধি: শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, রাজ্য ও আধা-সরকারি কর্মচারীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে অর্থমন্ত্রী তাঁদের বর্তমান ১৮ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার (DA) উপর অতিরিক্ত আরও ২০ শতাংশ ডিএ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ রাজ্যে মোট ডিএ-র পরিমাণ দাঁড়াল ৩৮ শতাংশ। পেনশন প্রাপকরাও অতিরিক্ত ২০ শতাংশ ডিয়ারনেস রিলিফ পাবেন। এই বর্ধিত ডিএ ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
কৃষক ও গ্রামীণ উন্নয়ন: অন্নদাতা ও চাষীদের জন্য মেগা উপহার
বাংলার কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে এবং চাষের খরচ এক ধাক্কায় কমিয়ে আনতে রাজ্য সরকার একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে:
বছরে ৩০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য: রাজ্যের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক (যাঁরা ২ হেক্টর পর্যন্ত চাষযোগ্য জমির মালিক) তাঁদের সুবিধার্থে প্রতি কৃষক পরিবারকে বছরে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ খরচে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা ভর্তুকি: চাষের কাজে ব্যবহৃত সাবমার্সিবল পাম্পের বিদ্যুৎ খরচ কমাতে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার থেকে কৃষকদের চাষের বিদ্যুতের বিলে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে ভর্তুকি (Subsidy) দেবে রাজ্য সরকার।
পিএম কিষাণ ও ডিজিটাল কিষাণ কার্ড: আরবিআই (RBI)-এর সহযোগিতায় ১৬টি খরিফ শস্যের জন্য ডিজিটাল কিষাণ ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা ১৫ দিনের বদলে মাত্র ১৫ মিনিটে পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল ফার্মিং স্কিমও রাজ্যে পুরোদমে লাগু হচ্ছে। কৃষকদের ড্রিপ ইরিগেশনের জন্য রাজ্য সরকার অতিরিক্ত টপ-আপ ভর্তুকি দেবে।
ধান ও আলু চাষীদের সুবিধা: ধান চাষীদের প্রতি কুইন্টাল ধানের উপর ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের চেয়েও অতিরিক্ত ২০০ টাকা করে ইনসেনটিভ বা উৎসাহ ভাতা দেওয়া হবে। ভালো মানের আলু বীজ তৈরি ও চাষীদের কাছে পৌঁছে দিতে ICAR-এর সাহায্যে বীজ উৎপাদনে বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আম চাষীদের আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে বিশেষ সরকারি সাহায্য দেওয়া হবে।
৫ টাকায় ডিম-ভাত: 'মা আহার' কেন্দ্রের বিস্তার
শহরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জন্য কম খরচে পেটভরে খাবারের ব্যবস্থা করতে চালু হয়েছে 'মা আহার কেন্দ্র'। মাত্র ৫ টাকায় মিলবে ডিম, মাছ বা সবজি দিয়ে তৈরি গরম গরম পুষ্টিকর ভাত। বর্তমানে ৪টি কেন্দ্র চলছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের মোট ২১০টি কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এছাড়া ইসকনের (ISKCON) সহযোগিতায় কলকাতা পৌরসভার স্কুলগুলিতে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হবে।
হাসপাতালে খাবারের খরচ বৃদ্ধি: রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে রোগীদের দেওয়া খাবারের মান বাড়াতে দৈনিক বরাদ্দ ৫৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হলো। পুরুলিয়া, সুন্দরবন এবং দার্জিলিং-এ নতুন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে এবং শিউড়ি হাসপাতালকে সরকারি মেডিকেল কলেজে উন্নীত করা হবে।
আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর পুষ্টি ও শিক্ষা
লোধা, শবর, টোটো এবং বিরহোরদের মতো পিছিয়ে পড়া ও অত্যন্ত দুর্বল আদিবাসী উপজাতিদের জন্য সুষম পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাদ্য প্রকল্পের আয়োজন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি পরিবারকে বিনামূল্যে চাল, ডাল, তেল, চিনি, নুন এবং আলু বিতরণ করা হবে।
ঝাড়গ্রামে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়: আদিবাসী সম্প্রদায়ের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ঝাড়গ্রামে ১৫০ কোটি টাকা (প্রাথমিক বরাদ্দ ১০ কোটি) ব্যয়ে একটি নতুন ট্রাইবাল ইউনিভার্সিটি (Tribal University) তৈরি হবে। এছাড়া ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়াতে দুটি নতুন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা, মালদহ, ঝাড়গ্রাম ও পূর্ব বর্ধমানে নবোদয় বিদ্যালয় তৈরির জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।
গ্রামের উন্নয়ন: তপশিলি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের (প্রধানমন্ত্রী অনুসূচিত জাতি অভ্যুদয় যোজনা) অধীনে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০টি গ্রামকে উন্নত করা হবে।
পরিকাঠামো, রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ
যাতায়াতের সময় কমাতে এবং বাণিজ্যকে গতিশীল করতে বেশ কিছু মেগা প্রজেক্টের ঘোষণা করা হয়েছে:
মেট্রো রেলের বিস্তার: শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর, আসানসোল এবং উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ির মধ্যে মেট্রো সংযোগ বা পরিষেবা চালুর বিষয়ে সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখতে 'টেকনো-ইকোনমিক সার্ভে স্টাডি' শুরু করা হবে।
নতুন বিমানবন্দর: কলকাতার চাপ কমাতে কল্যাণীর কাছে ১০০০ থেকে ১৫০০ একর জমির উপর একটি নতুন আধুনিক গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরির জন্য জমি চিহ্নিত করা হবে। এছাড়া পুরুলিয়া, বালুরঘাট ও মালদায় নতুন বিমানবন্দর তৈরি হবে এবং কোচবিহার বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ করা হবে। হাসিমারা বিমান ঘাঁটির জন্য ২৫ একর ও কলাইকুন্ডা বিমান ঘাঁটির জন্য ৩৭ একর জমি সম্প্রসারণের জন্য দেওয়া হবে।
উড়ালপুল ও সেতু: কলকাতার যানজট কমাতে চিংড়িঘাটা থেকে নিউটাউন পর্যন্ত একটি নতুন প্রায় ৭.৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড করিডোর বা উড়ালপুল তৈরি হবে (ব্যয় ৯০০ কোটি টাকা)। কালনা ও শান্তিপুরের মধ্যে সংযোগ বাড়াতে ভাগীরথী নদীর উপর ১২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেগা সেতু তৈরি হবে। হুগলি জেলার ডানকুনি জংশন ও মগড়ার মধ্যে ১৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি রোড করিডোর হবে। বীরভূমে ময়ূরাক্ষী নদীর উপর চার লেনের সেতুর জন্য ৮০০ কোটি টাকা এবং ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
জলপথ, জেটি ও নতুন গভীর সমুদ্র বন্দর: ভাগীরথী-গঙ্গা নদীতে জেটির উন্নয়ন, গ্রামীণ বাজার সংযোগ ও মৎস্য চাষের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১,০০০ কোটি টাকা এবং সুন্দরবনে নতুন জেটি ও পরিকাঠামো তৈরির জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের নাব্যতা সমস্যার সমাধানে পূর্ব মেদিনীপুরের তাদনপাত্রে পিপিপি (PPP) মডেলে একটি নতুন গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কলকাতার যানজট ও দূষণ কমাতে শালিমার থেকে গার্ডেনরিচ পর্যন্ত 'রো-রো' (Ro-Ro) টার্মিনাল তৈরি হবে এবং গঙ্গা নদীর তীরের সৌন্দর্যকরণ করা হবে। কুলটি শহরেও পণ্য ও যাত্রী পরিবহণের জন্য প্যাসেঞ্জার জেটি ও ছোট ছোট বন্দরের পরিকাঠামো ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নত করা হবে।
মাল্টি লজিস্টিক হাব ও ফ্রেট করিডোর: লুধিয়ানা থেকে ডানকুনি পর্যন্ত ইস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর লাইনের জমি জটের সমস্যা মিটিয়ে কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। অন্ডাল ও ডানকুনিতে মাল্টি লজিস্টিক হাব এবং 'ডানকুনি-সুরাট করিডোর' তৈরি করা হবে, যা পণ্য পরিবহণের সময় অনেক কমিয়ে দেবে।
বিদ্যুৎ সংযোগ: বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে সাঁওতালডিহিতে পিপিপি মডেলে ২×৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বক্রেশ্বরে ২০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমসহ মেগা ফ্লোটিং সোলার প্রজেক্ট করা হবে। রাজ্যে ১৫টি নতুন ৩৩/১১ কেভি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন এবং ১২টি শহরে মাটির তলা দিয়ে নতুন কেবলিং প্রজেক্ট করা হবে। এছাড়া ছাদ বা রুফটপে সোলার লাগানোর জন্য ১০০ কোটি টাকার ফান্ড করা হয়েছে এবং তফশিলি পরিবারগুলিকে এর জন্য ৫,০০০ টাকা অতিরিক্ত সাহায্য দেওয়া হবে।
আবাসন, চা শ্রমিক ও গিগ ওয়ার্কারদের সুবিধা
২৫ লক্ষ নতুন বাড়ি: কেন্দ্রীয় সরকারের পিএমএজি (PMAY) প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার গরিব মানুষের আবাসন সমস্যা মেটাতে চলতি অর্থবর্ষে ১৩,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ২৫ লক্ষ নতুন উপভোক্তাকে পাকা বাড়ি দেওয়া হবে।
চা শ্রমিকদের উন্নয়ন: চা শ্রমিকদের কল্যাণে একটি বিশেষ 'চা শ্রমিক উন্নয়ন বোর্ড' গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রাজ্য ও ভারত সরকারের যৌথ যোজনা চালু হবে চা বাগানে। তবে চা পর্যটন নীতির (Tea Tourism Policy) কারণে চা বাগানের পরিবেশগত ভারসাম্য যাতে নষ্ট না হয়, তাই চা বাগান এলাকার জমির বাণিজ্যিক ব্যবহারের পরিমাণ ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গিগ ওয়ার্কারদের সুবিধা: অনলাইন ডেলিভারি বয় বা অ্যাপ-ভিত্তিক চালকদের সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণের জন্য একটি বিশেষ ওয়েলফেয়ার বোর্ড বা কল্যাণ বোর্ড গঠন করা হবে। তাঁদের জন্য নিখরচায় পানীয় জল ও মোবাইল চার্জিং পয়েন্টের ব্যবস্থা করা হবে।
ডিজিটাল ইন্ডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন সিভিল সার্ভিস
এআই মিশন: পশ্চিমবঙ্গকে প্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে দিতে চালু হচ্ছে 'ওয়েস্ট বেঙ্গল ইমপ্যাক্ট এআই (AI) মিশন'। এর পাশাপাশি অ্যানিমেশন ও ভিএফএক্স (VFX)-এর নতুন কোর্স চালু হবে এবং এই সেক্টরে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
পেপারলেস প্রশাসন: রাজ্যকে সম্পূর্ণ পেপারলেস বা কাগজবিহীন করতে পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট রিফর্মস চালু হচ্ছে। এছাড়া 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া ল্যান্ড রেকমেন্টস মডার্নাইজেশন প্রোগ্রাম' (DIALRMP)-এর মাধ্যমে গ্রামীণ ও পৌর এলাকায় জমির রেকর্ড আধুনিকীকরণ করা হবে। অনলাইন দস্তাবেজ, ফেসিয়াল রেকগনিশন ও বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি অফিসগুলিকে আধুনিক করা হবে।
বেআইনি খনন রোধ: পাথর, বালি ও গ্রানাইটের মতো খনিজগুলির বেআইনি খনন রুখতে সম্পূর্ণ অনলাইন ই-অকশন (E-auction) ও আধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে খনন কাজ তদারকি করা হবে। চোরাই গাড়ি ধরার জন্য গাড়িতে ভেহিকল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস থাকবে।
নতুন সিভিল সার্ভিস ইনস্টিটিউট: রাজ্য সরকার নিজস্ব নতুন সিভিল সার্ভিস অফিসার্স ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার জন্য নিউটাউনে ৫ একর জমি দেবে। কলকাতা শেয়ার বাজারকে (CSE) পুনরুজ্জীবিত করতেও সাহায্য করবে সরকার।
খেলাধুলো, বিনোদন ও এমএলএ ফান্ড বৃদ্ধি
খেলো ইন্ডিয়া ও স্টেডিয়াম: রাজ্যে ক্রীড়া সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে শুরু করা হবে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি। উত্তরবঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক স্টেডিয়াম এবং একটি ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে (বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা)। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি করে মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম গড়ে তোলা হবে। জাতীয় স্তরে অংশ নেওয়া স্পোর্টস ক্লাবগুলিকে ১ কোটি টাকা সাহায্য দেওয়া হবে।
মেডেল প্রাপকদের চাকরি: যুবদের আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় উৎসাহিত করতে অলিম্পিক বা আন্তর্জাতিক স্তরে মেডেল প্রাপ্তদের সরাসরি পুলিশের ইন্সপেক্টর থেকে শুরু করে ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (DSP) পদে সরাসরি চাকরি দেওয়া হবে। এর জন্য ৫০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল তৈরি হচ্ছে।
সাফারি ও লোকশিল্প: ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল চিড়িয়াখানায় ১৬০ একর জমির উপর একটি নতুন 'টাইগার সাফারি' তৈরি করা হবে। কুড়মি লোকশিল্প ও কুড়মালি ভাষার উন্নতির জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
সামাজিক ভাতা ও এমএলএ ফান্ড: বিধবা, বয়স্ক এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের সামাজিক পেনশন বা ভাতা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নের জন্য বিধায়ক তহবিল বা MLA Fund ৭০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করা হলো। দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা এলাকাকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। জঙ্গিপুর এলাকায় নদী ভাঙন ও বন্যা রোধে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক সংস্কার: ৫টি নতুন জেলা ও নতুন পুরসভা
শাসনব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতে এবং আইনশৃঙ্খলা মজবুত করতে রাজ্যকে ভেঙে নতুন জেলা ও মহকুমা করা হচ্ছে:
৫টি নতুন জেলা: কলকাতা (গ্রামীণ/বিভাজিত অংশ), বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর এবং আরামবাগ।
নতুন পুলিশ জেলা: কাঁথিকে একটি নতুন পুলিশ জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
নতুন মহকুমা: গোপীবল্লভপুরকে নতুন মহকুমা করা হবে।
৯টি নতুন পুরসভা: শিবমন্দির, গাজোল, চাঁচল, বেলদা, বাগনান, জয়গাঁ, কোলাঘাট, কামারপুকুর এবং টুঙ্গিদিঘি।
নতুন ফায়ার স্টেশন: হেমতাবাদ, বিনাজাবড়া, করনদিঘি, মানিকচক, ফলতা, কালিম্পং-এর লাভা ব্লকের গীতডাবলিং, গড়বেতা, চণ্ডীপুর ও কাঁথিতে নতুন ফায়ার স্টেশন তৈরি হবে এবং দার্জিলিং-এর ডালি ফায়ার স্টেশনকে উন্নত করা হবে।
মদের দোকানের লাইসেন্সে কড়া নিষেধাজ্ঞা
এবার থেকে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা ধর্মীয় স্থানের (মন্দির, মসজিদ, গির্জা ইত্যাদি) ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনও মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া হবে না। তবে ঘিঞ্জি ও জনবহুল কলকাতার ক্ষেত্রে এই দূরত্বের সীমা থাকবে ৫০০ মিটার। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পিরিট থেকে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরির লাইসেন্স প্রথা তুলে দিয়ে এই শিল্পের আইনি জট সরল করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের পেশ করা ৪,৩৮,৭৭৫.২৯ কোটি টাকার এই মেগা বাজেট একাধারে যেমন গরিব ও পিছিয়ে পড়া মানুষের সামাজিক সুরক্ষাকবচ, অন্যদিকে তেমনই শিল্প, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার এক আধুনিক রূপরেখা। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ 'ডাবল ইঞ্জিন' সমন্বয়ে 'সোনার বাংলা'র স্বপ্ন কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটাই এখন দেখার।






