হরমুজ খুললেও কাটছে না তেলের সংকট, কেন চিন্তায় বিশ্ব?

Strait of Hormuz: যুদ্ধবিরতি হয়েছে, হরমুজ প্রণালীও খুলছে। কিন্তু তবু কেন কমছে না তেলের দাম? কেন এখনও জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা? তেল শোধনাগার, পাইপলাইন আর জাহাজ চলাচলের ক্ষতি কি বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও বড় সংকটে ফেলতে পারে? কেন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপদ এখনও কাটেনি?

inscript
৩ মিনিট
হরমুজ খুললেও কাটছে না তেলের সংকট, কেন চিন্তায় বিশ্ব?

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীও ধীরে ধীরে খুলছে। ফলে অনেকেরই মনে হতে পারে, তেলের বাজারে যে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছিল, তা হয়তো কেটে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা অন্য কথা বলছে।

বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়। যুদ্ধের শুরুতে ইরান এই পথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে পশ্চিম এশিয়া থেকে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, বাজারে তেলের জোগান কমে যায় এবং দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। এখন যুদ্ধবিরতি এবং জাহাজ চলাচল ফের শুরু হওয়ার খবর বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। তেলের দামও কিছুটা কমেছে। কিন্তু তাতেই সমস্যা মিটে যাচ্ছে না।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, শুধু হরমুজ প্রণালী বন্ধ ছিল না, যুদ্ধের সময় তেল শোধনাগার, পাইপলাইন, বন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার,  আরব আমিরশাহি এবং কুয়েতের মতো বড় তেল উৎপাদক দেশগুলিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে পথ খুললেও আগের মতো দ্রুত তেল সরবরাহ শুরু করা সম্ভব নয়। এই স্থাপনা মেরামত করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইরান-আমেরিকা সংঘাতে কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে পাকিস্তান?

US Iran conflict: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের তীব্র সংঘাতের মাঝে হঠাৎ করেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে পাকিস্তান। কীভাবে দুই শত্রুপক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের সেতু হয়ে উঠল ইসলামাবাদ?

যুদ্ধের কারণে বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল কমে গিয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অর্থাৎ, হরমুজ প্রণালী খুললেও আগের মতো প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জাহাজ চলাচল শুরু হবে না। জাহাজ মালিকদের বড় অংশ এখনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। কারণ প্রণালীতে এখনও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কোথাও মাইন পাতা থাকতে পারে, কোথাও আবার সামরিক নজরদারি চলছে। ফলে জাহাজ চলাচল শুরু হলেও তা খুব সীমিত আকারে হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির পরও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, তার প্রমাণ মিলছে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে। কখনও ইরান বলছে হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে, আবার কখনও মার্কিন অবরোধের অভিযোগ তুলে নতুন করে নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা জানেন, যে কোনো মুহূর্তে আবার সংঘর্ষ শুরু হতে পারে। তাই তেলের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনও যুদ্ধের আগের স্তরে নামেনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রত্যাবর্তন: ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

Iran US ceasefire: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পরিবর্তিত অবস্থান ভারতের জন্য কি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে? দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য কি বদলাচ্ছে, নাকি এটি সাময়িক কূটনৈতিক সমীকরণ—এই প্রশ্নই এখন মূল আলোচনায় উঠে আসেছে।

শুধু কাঁচা তেল নয়, ডিজেল, জেট ফুয়েল এবং সার তৈরির মতো তেল-নির্ভর শিল্পও এই সংকটে বিপর্যস্ত হয়েছে। ডিজেল বিশেষ করে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ট্রাক, কৃষিযন্ত্র, খনি শিল্প এবং ভারী যন্ত্রপাতি চালাতে এর কোনো সহজ বিকল্প নেই। বিমান সংস্থাগুলিও জেট ফুয়েলের উচ্চ দামের চাপে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণ সংস্থাগুলি বলছে, জেট ফুয়েলের জোগান এবং দাম স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক মাস লাগতে পারে।

এই সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে গরিব ও আমদানিনির্ভর দেশগুলিতে। ফিলিপিন্স, পাকিস্তান, থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলিতে জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কারণ তারা বেশি দাম দিয়ে বাজার থেকে তেল কিনতে পারে না। ধনী দেশগুলি তুলনামূলক বেশি দাম দিয়ে হলেও নিজেদের জন্য জোগান নিশ্চিত করতে পারছে। ফলে বিশ্ববাজারে অসমতা আরও বাড়ছে।

অনেকেই এই পরিস্থিতিতে নতুন করে তেল উত্তোলনের দাবি তুলছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, তা বাস্তবসম্মত নয়। নতুন তেলক্ষেত্র খুঁজে পাওয়া, সেখানে উৎপাদন শুরু করা এবং বাজারে তেল আনা—সব মিলিয়ে বহু বছর সময় লাগে। তাই তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে নতুন তেল উত্তোলন খুব একটা কাজে আসবে না। বরং দীর্ঘমেয়াদে তেলের উপর নির্ভরতা কমানোই একমাত্র পথ।

এই কারণেই এখন অনেক বিশেষজ্ঞ বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি প্রযুক্তি এবং বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকতে বলছেন। কারণ যত বেশি দেশ তেলের উপর নির্ভরতা কমাতে পারবে, তত কম এই ধরনের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়লে পেট্রোলের চাহিদা কমবে। ভবিষ্যতে খনি, পরিবহণ এবং ভারী যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রেও বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি বাড়তে পারে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

গান্ধীর ছাতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কারিগরের ইতিহাস

Mahatma Gandhi umbrella: গান্ধীর ছাতা কীভাবে স্বদেশি ভাবনা, দেশীয় উপকরণ ও কারিগরের শ্রমের ইতিহাস তুলে ধরে? আধুনিক বাজারে সস্তা ও যন্ত্রনির্মিত ছাতার দাপটে ঐতিহ্যবাহী ছাতা তৈরি ও মেরামতির কারিগরি জ্ঞান হারিয়ে যাচ্ছে?

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

যে মানুষটি পাইলটই হতে চাননি, তিনিই মাঝআকাশে বাঁচালেন ১৭৪ জীবন

Captain Smit Machchhar: স্পাইসজেটে থাকাকালীন তাঁর ৯,৫০০ ঘণ্টার বেশি উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা ছিল, যার মধ্যে ৬,৪০০ ঘণ্টার বেশি সময় তিনি পাইলট-ইন-কমান্ড হিসেবে ছিলেন। ২০২২ সালের জুন মাসে অভিজ্ঞ পাইলট হিসেবে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ‘ফ্লাইদুবাই’-তে ডাইরেক্ট-এন্ট্রি ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দেন এবং দুবাইয়ে বসবাস শুরু করেন।

ইজরায়েলগামী বিমান হামলা: ‘হিরো’ পাইলট, প্লাম্বার ও দাঁতের ডাক্তার কীভাবে বাঁচালেন ১৭৪ প্রাণ?

Israel flight emergency: ককপিটে পাইলটের উপর ছুরি হামলার পর কীভাবে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেল ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমান? আহত অবস্থাতেও কী ভূমিকা নিলেন ভারতীয় পাইলট? কীভাবে এক প্লাম্বার, দন্ত চিকিৎসক এবং কয়েকজন যাত্রী মিলে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে সাহায্য করলেন? শেষ পর্যন্ত কীভাবে বাঁচল বিমানে থাকা ১৭৪ জনের প্রাণ?

বাংলায় ফের ফিরবে বামেরা?

Left politics in West Bengal: আজকের পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্ব, পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতির ভঙ্গুরতা এবং শিল্পের অভাব সবচেয়ে বড় সংকট। এই বাস্তবতায় বামপন্থী রাজনীতি যদি শ্রমিক, কৃষক, ছাঁটাই হওয়া কর্মী এবং তরুণ প্রজন্মের অধিকারের লড়াইকে সঠিকভাবে সামনে আনতে পারে, তবে তা নতুন প্রাসঙ্গিকতা পেতে পারে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই পরিবর্তিত অর্থনৈতিক কাঠামোর সাথে বামপন্থীদের প্রথাগত নীতি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?

এনসিইআরটি-র নতুন ইতিহাসের বই হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চাকে নতুন জায়গা করে দিচ্ছে?

NCERT Class 9 Book controversy: নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি'-র 'রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' অধ্যায়ে সপ্তম শতক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় আক্রমণের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও হিন্দু রাজাদের দেবী-প্রদত্ত তলোয়ারের উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাঠ-শিখ-রাজপুত-অহোম প্রতিরোধের বর্ণনা। হিন্দুত্ববাদী লেখক জে. সাই দীপকের 'মধ্যপ্রাচ্যের ঔপনিবেশিকতা'র ধারণা ও হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈনের গবেষণার ছায়ায়, এভাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন সাম্প্রদায়িক ইতিহাসচর্চার পরিসর।

‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি থেকে কমিশন ঘেরাও, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে ঠিক কী কী হলো?

INDIA Bloc Meeting: ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে এসআইআর ও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে কী আলোচনা হলো? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কী কী নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হলো? ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের পর সংসদ ও রাজপথে কী কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে? ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ আন্দোলনের মাধ্যমে কি আরও বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী জোট?

ভুচিচের পদত্যাগ: সার্বিয়ায় জেন-জি নেতৃত্বে বদলাচ্ছে ক্ষমতার সমীকরণ?

Serbian protest against the government: সার্বিয়ায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোর সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে ছাত্র আন্দোলন। নোভি সাদ স্টেশন দুর্ঘটনার পর শুরু হওয়া এই আন্দোলন এবার নির্বাচনী রাজনীতিতেও প্রবেশ করেছে। ভুচিচ প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়লেও ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকার চেষ্টা করছেন। ফলে ২৫ অক্টোবরের নির্বাচন সার্বিয়ার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা ও প্রশ্ন সামনে আনছে।