এক মাসে ৩২ লক্ষ বিয়ে! বাঙালির বিয়ে যেভাবে হয়ে উঠল 'ইভেন্ট'

Marriage Ceremony : বিবাহ নাকি জোরদার কোনো ইভেন্ট, প্রশ্ন উঠছে হাল আমলের বাঙালি বিয়ের রীতিকে ঘিরে

Kankana Mukherjee
৪ মিনিট
এক মাসে ৩২ লক্ষ বিয়ে! বাঙালির বিয়ে যেভাবে হয়ে উঠল 'ইভেন্ট'

শীতের সন্ধ্যে, গোধূলি লগ্ন। বাতাসে ঘনিয়ে আসছে বিসমিল্লা… ফুল আর আতরের ম ম গন্ধে ভরপুর চারদিক। আমন্ত্রিতরা সবাই আসতে শুরু করেছে একে একে। সসজ্জিত বরের বাসর। অতঃপর ছাদনা তলায় জোড়া পানে মুখ ঢেকে হাজির হল কনে। তারপর একে একে নানা রীতি, আচার। এবং অবশেষে শ্রী শ্রী প্রজাপতয়ে নমঃ – কল্যাণীয়া ওমুকের সঙ্গে কল্যাণীয় তমুকের শুভবিবাহ সম্পন্ন হইল। ব্যাস তারপর রাত পোহালেই মেয়ে অন্য বাড়ি। বিবাহ বলতে এটুকুই ছিল চিরাচরিত বাঙালি রীতি। তবে সময় যতোই এগিয়েছে, আর সবকিছুর মতোই বাঙালি বিয়েতেও এসেছে আধুনিক অনুষঙ্গ। আর এই আসার শেষ যে ঠিক কোথায় তার হদিশ নেই। যান্ত্রিকতার অমোঘ টানে জর্জরিত একটা গোটা প্রজন্ম। আর বুঝি ফেরা সম্ভব নয়!

এবছর নভেম্বরের ১৯ তারিখ থেকে শুরু করে ডিসেম্বরের ১৫ পর্যন্ত পরপর শুধুই বিয়েবাড়ি। তারপর মাস খানেকের বিরতি, আবার শুরু বিয়ের তালিকা। নিদেনপক্ষে একখানাও নিমন্ত্রণ জোটেনি এমন বাঙালি খুঁজে পেতে গাঁ উজাড়! সমীক্ষা বলছে, এ বছর অগ্রহায়ণ মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাকি প্রায় ৩২ লক্ষ বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সমীক্ষায় আরও জানা গিয়েছে, কেবল চলতি মরশুমে কলকাতা ও শহরতলি জুড়েই হতে চলেছে ৪০ হাজারেরও বেশি বিয়ে।

এই একঘেয়ে জীবনে আনন্দ করার সুযোগ এতোই কম পড়ে যে একটা উৎসবকে টেনে হিঁচড়ে দিন কয়েক বাড়িয়ে নিতে চান অনেকেই। তার ওপর তো বাঙালি বড়োই হ্যাংলা জাতি। যেখান থেকে যতটুকু দেখবে নিজের করে নিতে পারলেই হল। তাতেই হয়েছে এই দশা। বাঙালি বাড়ির বিয়ে এখন টানা সাতদিনের উৎসব। মেহেন্দি দিয়ে শুরু আর ভাংরা দিয়ে শেষ। যেন সব জাতি-ধর্মের মিলনস্থল বাঙালির এই বিয়ে বাড়ি। বিয়ে তো নয়, যেন একটা আস্ত ইভেন্ট। আর এই ইভেন্ট ঘিরেই চলছে মস্তু ব্যবসা। ডেকোরেটর, ব্যাঙ্কুয়েট হলের মালিক, ক্যাটারার থেকে শুরু করে ফটোগ্রাফার, মেকাপ আর্টিস্ট, গাড়ি সব মিলিয়ে দিন কয়েকের তোরজোড়। সবেতেই লম্বা খরচের ফিরিস্তি। জানা গিয়েছে, এবছর বিয়ের মরসুমে প্রায় ৩.৭৫ লক্ষ কোটি টাকার লেনদেন জড়িয়ে রয়েছে। একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে টাকার হাতবদল হয় অনেকবার। আর এই বিয়ে নামক মরসুমি ব্যবসার দিকেই সারা বছর তাকিয়ে থাকেন হল মালিক, ক্যাটারের মালিক, ওয়েডিং ফটোগ্রাফার ও মেকআপ আর্টিস্ট সহ অনেকেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কনসার্ট থেকে বিয়েবাড়ি- নেই সেই আবাহন, হারিয়েই যাবে বিসমিল্লার 'পাগলা' সানাই?

Bismillah Khan Shehnai: ১৯৪৭ সালে যখন ভারত স্বাধীন হওয়া নিশ্চিত, তখন জওহরলাল নেহরু মনে করেছিলেন বিসমিল্লাহ খানের এই উপলক্ষ্যে সানাই বাজানো উচিত।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যে বলিউডের বিগ ফ্যাট ওয়েডিং এখন মুঠো ফোনে। অনুষ্কা শর্মার লেহঙ্গা, প্যাস্টেলরঙা ফুলের সাজ, বরমালা... ভাবী বাঙালি কনেদের মধ্যে অনেকেরই উইশলিস্টে এখন এইসবও। আর এর সঙ্গেই আর্থিক সঙ্গতির প্রশ্নটি গভীর ভাবে জড়িয়ে। শহরের একাধিক ওয়েডিং প্ল্যানারদের মতে, মেহেন্দি-সঙ্গীতের মতো অনুষ্ঠানেই এখন বেশি খরচ করার প্রবণতা বাঙালি পরিবারের। এই বিষয়ে একটি সমীক্ষা চালিয়েছে সিএআইটি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেড ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। এই মাসে বাজারে মোট ৩.৭৫ লক্ষ টাকার লেনদেন হতে পারে বলে জানিয়েছে এই সোসাইটি।

এই সময় একটা মোটা অঙ্কের ব্যবসা হয় ঘরবাড়ি মেরামতির কাজে। এছাড়াও গয়না, শাড়ি, লেহেঙ্গা, আসবাবপত্র, রেডিমেড জামাকাপড়, জামা, জুতো, বিয়ের কার্ড, শুকনো ফল, মিষ্টি, ফল, পুজোর জিনিস, মুদিখানা, খাদ্যশস্য, সাজানোর জিনিসপত্র, ইলেক্ট্রিক্য়াল জিনিসপত্র, ইলেক্ট্রনিক্স ও অন্যান্য উপহার সামগ্রীর চাহিদাও থাকে খুব বেশি। আর আছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা। দায়িত্ব এড়াতে ওরাই এখন ভরসা। সবদিক সামলাতে তাই ডাক পড়ছে ওদের।

বাঙালির বিবাহকে আর নিছক অনুষ্ঠান বলা চলে না। দেশ বিদেশের যতরকম বিয়ে, তার সবকিছুই আছে এতে। বরং নিজেদের রীতিটুকুই হারাতে বসেছে। গায়ে হলুদ এখন ‘হলদি’, কন্যাবিদায় বলে না আর কেউই, তার জায়গায় এসেছে হিন্দি চালের ‘বিদায়ী’ অনুষ্ঠান। হিন্দি ‘কিউ কি’ যেভাবে বাংলায় ‘কেন কি’ শব্দবন্ধটির জায়গা পাকা করেছে হলদি, সঙ্গীত, মেহেন্দি কিংবা বিদায়ীও এসেছে ঠিক সেভাবেই। আর প্রাক বিবাহ পর্বের আয়োজনে এসেছে ব্যাচেলার্স পার্টির চল। যেন বলিউডি বিয়ের একটা ছোট সংস্করণ। আর বাঙালি বর-কনে যেন এক রাতের বাদশা-বেগম। এছাড়াও গত কয়েক বছরে পড়াশোনা বা চাকরি সুবাদে পঞ্জাবি, মারোয়াড়ি, বিহারি, তেলুগু, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন বাঙালিরা। ফলে সেই বিয়েতে দু’পক্ষেরই আবদার মেটাতে তৈরি হচ্ছে নয়া মিশেল। তাই খাদ্য তালিকাতেও জায়গা পাচ্ছে ফিউশন এখন খাঁটি বাঙালি পদ গায়েব। খাবারেও রয়েছে 'ভিনদেশি' ছোঁয়াচ। সাদা ধোঁয়া ওঠা ভাতের জায়গা নিয়েছে চিকেন বা মাটন বিরিয়ানি। আর লুচি-ছোলার ডালের জায়গায় নান-তরকা! মেনুতেও জায়গা হারাচ্ছে বাঙালিয়ানা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোথাও বেদম প্রহার, কোথাও উদ্দাম চুম্বন || বিয়ের এসব লোকাচার জানলে বিস্মিত হবেন

Wedding Rituals: বিশ্বজুড়ে বিয়ে নিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সব বিস্ময়কর লোকাচার।

যদিও মেহেন্দি বা সঙ্গীতের সঙ্গে সাবেকি বাঙালি বিয়ের সম্পর্ক নেই। আলতাকে ফুৎকারে সরিয়ে মেহেন্দি এখন জাঁকিয়ে বসেছে বাংলার বিয়েতে। গত কয়েক বছরে বিয়ে ঘিরে এই যে জাঁকজমক, তা নজর কাড়ছে সকলেরই। তবে এলাহি এই বিয়ে বাড়িগুলির মধ্যেই আবার কোথাও কোথাও চলছে ছক ভাঙার প্রয়াসও। সমাজের পুরনো রীতি ভেঙে মহিলা পুরোহিতদের পাকাপাকি জায়গা করে দিচ্ছে অনেকেই। সংস্কৃত মন্ত্র আর রবীন্দ্র সঙ্গীতের আবহে সারা হচ্ছে বিয়ে। সিঁদুর দান ঘিরেও এখন দু তরফের সমান ভূমিকা উঠে আসছে। একে অপরকে পরিয়ে দিচ্ছে সিঁদুর, কিন্তু এর ইতিহাস ঘেঁটে দেখছে কজন? এই যে সিঁদুর, শাঁখা কিংবা মল পরানোর অতীতে যে জড়িয়ে রয়েছে পিতৃতন্ত্রের ইতিহাস তা অস্বীকার করার জো নেই।

বিয়ের এই ছবি তোলার শুরুটা হয়ে যায় প্রি-ওয়েডিং দিয়ে, চলে পোস্ট-ওয়েডিং পর্যন্ত। নানারকম নতুনত্ব দিয়ে আস্ত একটা প্যাকেজ সাজিয়ে তোলেন তাঁরা। কোথাও কোথাও আবার গল্প তৈরির প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায় এই শিল্পকে ঘিরে। বিয়েতে এদের ভূমিকা মারাত্মক। প্রতিটা অনুষ্ঠানকে সাজিয়ে গুছিয়ে তুলে রাখছেন আগামীর স্মৃতি হিসেবে। বিয়ের ফটো সংস্কৃতিকে ঘিরেও তাই একটা বড় অঙ্কের ব্যবসা চলে।

রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ম্যারেজের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মাসে শহর ও শহরতলিতে ইতিমধ্যেই প্রায় ২ হাজার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে৷ গোটা রাজ্যে এই সংখ্যা ৫ হাজারের কাছাকাছি। বিয়ের সংখ্যা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে দুই বছর পর করোনা বিধি নিষেধ উঠে যাওয়াকেই। কিন্তু এর পাশাপাশি যে দিকটা উঠে আসছে তা হল এতো কিছুর পরও বিবাহ বিচ্ছেদের ধুম। বিয়ের পাশাপাশি সেই সংখ্যাটাও রীতিমত ভাবাচ্ছে সকলকেই।

কিন্তু তার জন্য আনন্দে ফাঁকি দিলে চলবে কেন! পড়ে পাওয়া জীবনে ওটুকুই তো চোদ্দ আনা, থুড়ি ষোলো আনাই। অবাঙালি জাঁকজমককে আপন করতে গিয়ে কি বাঙালির নিজস্ব অনুষ্ঠান ফিকে হচ্ছে ঠিকই কিন্তু শিকড়ের টান এখনও পা চেপে ধরছে। তাই হয়তো পান পাতায় মুখ ঢেকেই কনে আসছে মণ্ডপে। মা ঠাকুমারা নিয়ত সতর্ক করে দিচ্ছেন পুরনো নিয়মগুলোকেও। তাই যতই বাঙালি বিয়ের মূল মন্ত্র হোক ‘মিলায়ে ও মিলিবে’, তবুও অবাঙালি উন্মাদনার সঙ্গে চেনা বাঙালিয়ানার ভারসাম্য থাকতেই হবে, কাম্য তো সেটাই।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।