আলিপুরের আগুনে পুড়ে গেল ৪ হাজার ইভিএম, উঠছে নাশকতার প্রশ্ন
EVM destroyed: আলিপুরের একটি সরকারি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪ হাজার ইভিএম পুড়ে নষ্ট হয়েছে। আগুনের উৎস ও বিস্তারের ধরন নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। পুলিশ ও ফরেন্সিক তদন্ত শুরু হয়েছে। নাশকতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কলকাতার আলিপুরে একটি সরকারি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে প্রায় ৪ হাজার ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন)। শুধু তাই নয়, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক সরকারি দফতরের নথিপত্র ও পরিকাঠামোও। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কী ভাবে আগুন লাগল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। এরই মধ্যে রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীর মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাঁর দাবি, ঘটনাটি সাধারণ অগ্নিকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না; নাশকতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে কলকাতার আলিপুর এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবনে। বহু দফতরের অফিস থাকা এই বহুতল ভবনের উপরের তলাগুলিতে সংরক্ষিত ছিল হাজার হাজার ইভিএম। বুধবার (১০ জুন) সকালে হঠাৎ আগুন লাগে ভবনটিতে। প্রথমে আগুন দেখা যায় নিচের কয়েকটি তলায়। পরে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে উপরের দিকে। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, আগুনে প্রায় ৪ হাজার ইভিএম নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এগুলি চলতি বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ব্যবহৃত হয়েছিল। প্রায় ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণে এই মেশিনগুলি কাজে লাগানো হয়েছিল বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া ইভিএমগুলি ভবনের আট ও ন'তলায় রাখা ছিল।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Abhishek Banerjee: রবিবার বেলা ১২টায় ফের সিআইডির তলব পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলার তদন্তে তাঁকে আবারও হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে আগুন ছড়ানোর ধরন নিয়ে। মন্ত্রীর দাবি, প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল তিন বা চার তলায়। কিন্তু তারপর কী ভাবে আগুন সরাসরি উপরের তলাগুলিতে পৌঁছে গেল, তা নিয়ে ধন্দে তদন্তকারীরা। কারণ মাঝের পাঁচ, ছয় এবং সাত তলা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের এই অস্বাভাবিক বিস্তারই নাশকতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
কৌশিক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এটি আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক আগুন বলে মনে হচ্ছে না। আগুনের বিস্তার এবং ক্ষয়ক্ষতির ধরন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো পরিকল্পিত নাশকতা হয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে ফরেন্সিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
ঘটনার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে এবং আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা আগুনের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, প্রযুক্তিগত ত্রুটি অথবা অন্য কোনো কারণ এর পিছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা যায়নি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mamata Banerjee defeat 2026: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের প্রধান কারণ হলো মুসলিম ভোটারদের একটি বড় অংশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে কাঠামোগত ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বাদ পড়ে যাওয়া।
ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছে। তবে ভবনের ভেতরে তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় অত্যন্ত বেশি থাকায় সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্তকারী সংস্থার মতে, ফরেন্সিক রিপোর্টই জানাবে আগুন দুর্ঘটনাজনিত ছিল, নাকি এর পিছনে কোনো মানবসৃষ্ট কারণ রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের জেরে শুধু ইভিএম নয়, বিভিন্ন সরকারি দফতরের গুরুত্বপূর্ণ নথিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক ভবনটিতে জেলা পরিষদের বিভিন্ন শাখা, শিক্ষা সংক্রান্ত দফতর এবং অন্যান্য সরকারি কার্যালয় ছিল। ফলে আগুনে সরকারি কাজকর্মও কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও তৈরি হয়নি।
যদিও ওইসব অভিযোগের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ইভিএম পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে ভোটব্যবস্থা ও নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ভোটগ্রহণের পর ব্যবহৃত ইভিএম নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয় এবং আইনি প্রয়োজন মিটলে সেগুলি ধাপে ধাপে বাতিল করা হয়। এই মেশিনগুলি ভবিষ্যতে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন ছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এই মুহূর্তে গোটা ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি প্রশ্ন—এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা?








