আবারও সিআইডির ডাকে অভিষেক, কেন রবিবার বেলা ১২টায় হাজিরা দিতে হবে?

Abhishek Banerjee: রবিবার বেলা ১২টায় ফের সিআইডির তলব পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলার তদন্তে তাঁকে আবারও হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
আবারও সিআইডির ডাকে অভিষেক, কেন রবিবার বেলা ১২টায় হাজিরা দিতে হবে?

দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে সরাসরি দীর্ঘ জেরার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে চলা মামলায় গতকাল প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রাজ্যের সিআইডি। তবে দীর্ঘ এই ম্যারাথন জেরার পরও তদন্তকারীরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বলে সূত্রের দাবি। সেই কারণেই আগামী ১৪ জুন তাঁকে আবারও হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বহুদিন আগেই, যখন বিধানসভায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও রেজোলিউশন সংক্রান্ত স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিধানসভা সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে কিছু বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং সেই স্বাক্ষর আদৌ বৈধ কি না, তা নিয়েই শুরু হয় তদন্ত। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই সক্রিয় হয় West Bengal CID।

তদন্তের স্বার্থে এর আগেও একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা হয়েছিল। সূত্রের দাবি, মোট তিনবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি তখন পর্যন্ত সশরীরে হাজির হননি। পরে বিষয়টি পৌঁছে যায় আদালতে। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেয়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাঁকে সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতেই হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আম্মা নেই, বহেনজি কোণঠাসা, এবার অস্তমিত দিদিও?

Jayalalithaa, Mayawati, Mamata Banerjee: জয়ললিতা, মায়াবতী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ভাবে ভারতীয় আঞ্চলিক রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী নারী নেত্রীদের মধ্যে স্থান করে নিয়েছিলেন? কী ভাবে তাঁরা প্রত্যেকেই ক্ষমতা হারালেন? এই তিন নেত্রীর মধ্যে মিল ও অমিল কোথায়?

আদালতের সেই নির্দেশের পরই গতকাল চিত্রটা বদলায়। দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে বিমানবন্দর থেকে সোজা কালীঘাটে তাঁর বাসভবনে যান। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর নির্ধারিত সময় মেনে বিকেল পৌনে ছ’টার দিকে তিনি পৌঁছে যান ভবানী ভবনে, যেখানে সিআইডির সদর দফতর অবস্থিত। সেখানেই শুরু হয় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর্ব।

বিকেল পৌনে ছ’টা থেকে শুরু হয়ে জেরা চলে টানা রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তদন্তকারী আধিকারিকরা একাধিক প্রশ্ন করেন তাঁকে। মূলত বিধানসভা সংক্রান্ত রেজোলিউশন, নথি প্রক্রিয়া এবং স্বাক্ষর যাচাইয়ের বিষয়গুলো নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা বিভিন্ন দিক থেকে ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চান এবং একাধিক নথি সংক্রান্ত ব্যাখ্যাও তলব করা হয় বলে জানা যাচ্ছে।

তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই জিজ্ঞাসাবাদের পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি সন্তোষজনক হয়নি বলে তদন্তকারী মহলের একাংশের দাবি। বিশেষ করে ‘রেজোলিউশন কপি’ সংক্রান্ত প্রশ্নে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়াতেই তদন্তকারীদের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের ইঙ্গিত। এই রেজোলিউশন কপি মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা, কারণ সেখানেই স্বাক্ষরের সত্যতা এবং প্রক্রিয়ার বৈধতা নির্ভর করছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মুসলিম ভোট কেন পেল না তৃণমূল?

Mamata Banerjee defeat 2026: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের প্রধান কারণ হলো মুসলিম ভোটারদের একটি বড় অংশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে কাঠামোগত ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বাদ পড়ে যাওয়া।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ১১টা ২৮ মিনিট নাগাদ ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাইরে তখন সাংবাদিকদের ভিড়। ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হলেও তিনি কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দেননি। সম্পূর্ণ নীরব থেকে গাড়িতে উঠে সেখান থেকে সোজা চলে যান কালীঘাটে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা। তদন্তকারীদের একটি অংশ মনে করছে, এই মামলার তদন্ত এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ যেমন গুরুতর, তেমনই এর সঙ্গে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার একাধিক দিক জড়িত। ফলে প্রতিটি তথ্য খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই বারবার জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন পড়ছে বলে তাদের দাবি।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র আইনি তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। রাজ্যের শাসক দল এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে চলমান চাপানউতোরের মধ্যেই এই ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হওয়ায় এই মামলার প্রতিটি অগ্রগতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।

গতকালের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর আবা।রও ১৪ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, পরবর্তী দফার জিজ্ঞাসাবাদে কিছু প্রশ্নের আরও পরিষ্কার উত্তর পাওয়া যেতে পারে। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নতুন করে কোনো প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

খ্রিস্টধর্ম পালন করায় পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকি, ভাটোরায় আক্রান্ত দম্পতি

Howrah Christian family: হাওড়ার ভাটোরায় প্রায় আট বছর ধরে খ্রিস্টধর্ম পালন করা এক পরিবারের উপর হামলা, মারধর ও গ্রাম ছাড়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। কেন ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিয়ে এমন প্রশ্ন উঠছে? স্থানীয়দের একাংশের আচরণের অভিযোগ কতটা সত্য?

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

কুমোরটুলিতে কেন এখনও হাতে গোনা মহিলা মৃৎশিল্পী?

Women in Kumartuli’s Idol-Making Tradition: কুমোরটুলিতে দুর্গার প্রতিমা গড়ার কাজে এখনও কেন হাতে গোনা মহিলা শিল্পী? ‘মেয়েদের কাজ নয়’—এই ধারণা, কাজের শারীরিক পরিশ্রম এবং পুরুষ-প্রধান পরিবেশ পেরিয়ে কীভাবে নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন চায়না পাল, মালা পাল, কাকলি পালরা?

ঋষি অগস্ত্যের ব্যাটারি! সংঘ পরিবারের স্কুলগুলোর আজগুবি শিক্ষা ঢুকে পড়ছে সরকারি উচ্চশিক্ষায়

From Vidya Bharati Textbooks to Universities: রাজ্যে বিদ্যাভারতী পরিচালিত স্কুলের সংখ্যা বেড়ে হাজার হোক, চান মুখ্যমন্ত্রী। সংখ্যায় যতই বাড়ুক, তাদের পাঠ্যক্রম বহির্ভূত শিক্ষা ইতোমধ্যেই সরকারি পাঠক্রমে ঢুকে গিয়েছে। উচ্চশিক্ষাতেও।

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ব্রিকস: অর্থনীতির হিসেব-নিকেশ

BRICS Economic Power: মার্কিন শুল্কনীতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ডলারের আধিপত্য ও পশ্চিমী নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে কি ব্রিকস সত্যিই বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে? গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় ব্রিকসের ঘোষিত নীতিগুলি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে? নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক, ডি-ডলারাইজেশন, বৈশ্বিক করব্যবস্থা এবং সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থের সংঘাত কি ব্রিকসের সেই সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করছে? ভবিষ্যতে এর ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে?

১৯৬৯-এর কংগ্রেস থেকে ২০২৬-এর তৃণমূল: যেভাবে ভারতে দল ভেঙেছে বারবার

Politics of Party Splits in India: ১৯৬৯ সালে কংগ্রেস ভাঙার মধ্য দিয়ে যে প্রক্রিয়া শুরু, ২০২৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন তারই ধারাবাহিকতা। নেতৃত্বের লড়াই, মতাদর্শিক সংঘাত ও নির্বাচনী কৌশল—প্রতিটি ভাঙনের পিছনে একাধিক কারণ। দশম তফসিল ও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ভাঙনকে আইনি কাঠামোয় বাঁধতে চেয়েছে, তবুও 'প্রকৃত দল' বা আদি প্রতিষ্ঠাতা নির্ণয়ে বিভ্রান্তি রয়ে গিয়েছে বহুবার।

মমতা ফিরে পাবেন তাঁর আঁকা জোড়াফুল?

Mamata Banerjee TMC Symbol: তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী জোড়াফুল প্রতীক কি শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ফিরবে? জোড়াফুলের ভবিষ্যৎ কী? কী বলছে আইন?