আবারও সিআইডির ডাকে অভিষেক, কেন রবিবার বেলা ১২টায় হাজিরা দিতে হবে?
Abhishek Banerjee: রবিবার বেলা ১২টায় ফের সিআইডির তলব পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলার তদন্তে তাঁকে আবারও হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে সরাসরি দীর্ঘ জেরার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে চলা মামলায় গতকাল প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রাজ্যের সিআইডি। তবে দীর্ঘ এই ম্যারাথন জেরার পরও তদন্তকারীরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বলে সূত্রের দাবি। সেই কারণেই আগামী ১৪ জুন তাঁকে আবারও হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বহুদিন আগেই, যখন বিধানসভায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও রেজোলিউশন সংক্রান্ত স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিধানসভা সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে কিছু বিধায়কের স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং সেই স্বাক্ষর আদৌ বৈধ কি না, তা নিয়েই শুরু হয় তদন্ত। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই সক্রিয় হয় West Bengal CID।
তদন্তের স্বার্থে এর আগেও একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করা হয়েছিল। সূত্রের দাবি, মোট তিনবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি তখন পর্যন্ত সশরীরে হাজির হননি। পরে বিষয়টি পৌঁছে যায় আদালতে। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেয়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাঁকে সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতেই হবে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Jayalalithaa, Mayawati, Mamata Banerjee: জয়ললিতা, মায়াবতী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ভাবে ভারতীয় আঞ্চলিক রাজনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী নারী নেত্রীদের মধ্যে স্থান করে নিয়েছিলেন? কী ভাবে তাঁরা প্রত্যেকেই ক্ষমতা হারালেন? এই তিন নেত্রীর মধ্যে মিল ও অমিল কোথায়?
আদালতের সেই নির্দেশের পরই গতকাল চিত্রটা বদলায়। দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে বিমানবন্দর থেকে সোজা কালীঘাটে তাঁর বাসভবনে যান। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর নির্ধারিত সময় মেনে বিকেল পৌনে ছ’টার দিকে তিনি পৌঁছে যান ভবানী ভবনে, যেখানে সিআইডির সদর দফতর অবস্থিত। সেখানেই শুরু হয় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর্ব।
বিকেল পৌনে ছ’টা থেকে শুরু হয়ে জেরা চলে টানা রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তদন্তকারী আধিকারিকরা একাধিক প্রশ্ন করেন তাঁকে। মূলত বিধানসভা সংক্রান্ত রেজোলিউশন, নথি প্রক্রিয়া এবং স্বাক্ষর যাচাইয়ের বিষয়গুলো নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা বিভিন্ন দিক থেকে ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে চান এবং একাধিক নথি সংক্রান্ত ব্যাখ্যাও তলব করা হয় বলে জানা যাচ্ছে।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই জিজ্ঞাসাবাদের পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি সন্তোষজনক হয়নি বলে তদন্তকারী মহলের একাংশের দাবি। বিশেষ করে ‘রেজোলিউশন কপি’ সংক্রান্ত প্রশ্নে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়াতেই তদন্তকারীদের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সূত্রের ইঙ্গিত। এই রেজোলিউশন কপি মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা, কারণ সেখানেই স্বাক্ষরের সত্যতা এবং প্রক্রিয়ার বৈধতা নির্ভর করছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mamata Banerjee defeat 2026: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের প্রধান কারণ হলো মুসলিম ভোটারদের একটি বড় অংশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে কাঠামোগত ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে বাদ পড়ে যাওয়া।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ১১টা ২৮ মিনিট নাগাদ ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাইরে তখন সাংবাদিকদের ভিড়। ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হলেও তিনি কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দেননি। সম্পূর্ণ নীরব থেকে গাড়িতে উঠে সেখান থেকে সোজা চলে যান কালীঘাটে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা। তদন্তকারীদের একটি অংশ মনে করছে, এই মামলার তদন্ত এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ যেমন গুরুতর, তেমনই এর সঙ্গে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার একাধিক দিক জড়িত। ফলে প্রতিটি তথ্য খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই বারবার জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন পড়ছে বলে তাদের দাবি।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র আইনি তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর রাজনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। রাজ্যের শাসক দল এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে চলমান চাপানউতোরের মধ্যেই এই ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হওয়ায় এই মামলার প্রতিটি অগ্রগতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।
গতকালের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর আবা।রও ১৪ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের আশা, পরবর্তী দফার জিজ্ঞাসাবাদে কিছু প্রশ্নের আরও পরিষ্কার উত্তর পাওয়া যেতে পারে। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নতুন করে কোনো প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।








