বাংলাদেশে ফেরানোর প্রস্তুতি, পশ্চিমবঙ্গে আনা হলো ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে

Bangladeshi deportation: তামিলনাড়ুর বিশেষ আটক শিবির থেকে ৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে ট্রেনে করে পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি চলছে।

inscript
৩ মিনিট
বাংলাদেশে ফেরানোর প্রস্তুতি, পশ্চিমবঙ্গে আনা হলো ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে

ভারতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে আটক ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে তামিলনাড়ু থেকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদের চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ুর সেলম জেলার বিশেষ আটক শিবিরে দীর্ঘদিন ধরে রাখা হয়েছিল ওই ব্যক্তিদের। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাঁদের ট্রেনে করে হাওড়ায় পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দলে রয়েছেন ৪৪ জন পুরুষ এবং ৬ জন মহিলা। তাঁরা সবাই তামিলনাড়ুর সেলম জেলার আত্তুর তালুক অফিস চত্বরে অবস্থিত বিশেষ আটক শিবিরে ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাসনের নির্দেশ জারি করার পর পুরো প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমে তিনটি গাড়িতে করে তাঁদের তিরুচিরাপল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর হাওড়াগামী ট্রেনের একটি নির্দিষ্ট কোচে তাঁদের তোলা হয়। পুরো যাত্রাপথে প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

তামিলনাড়ু পুলিশের একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। যাত্রাপথে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের একজন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্টের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী ট্রেনে তাঁদের পাহারা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত নিয়ে আসছে।

হাওড়ায় পৌঁছানোর পর তামিলনাড়ু পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ৫০ জনকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেবে। এরপর বিএসএফ তাঁদের পশ্চিমবঙ্গের হরিদাসপুর সীমান্তে নিয়ে যাবে। সেখানে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের হস্তান্তর করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতিতে সমস্যায় পড়বেন কারা?

detention deportation policy India: সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (CAA) কার্যকর হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে ও সারা দেশে নতুন করে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা কি সত্যিই উদ্বাস্তুদের সুরক্ষা দেবে, নাকি নথি-নির্ভর নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও অনিশ্চয়তা, বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে এনআরসি-র সঙ্গে এর সম্পর্ক কীভাবে প্রভাব ফেলবে?

তামিলনাড়ুর আত্তুর বিশেষ আটক শিবির বহু বছর ধরেই বিদেশি নাগরিকদের রাখার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। যাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং যাঁদের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে অথবা যাঁদের মামলা বিচারাধীন, তাঁদের এই শিবিরে রাখা হয়। বর্তমানে সেখানে এখনও ১৩০ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের কারও মামলা আদালতে বিচারাধীন, আবার কেউ জামিনে মুক্ত থাকলেও প্রশাসনিক কারণে শিবিরেই অবস্থান করছেন।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করার অভিযান গত কয়েক বছরে আরও জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁকে নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমান ঘটনাটিও সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

ভারত থেকে বাংলাদেশে কাউকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্থলপথে বাংলাদেশে প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত। সেই কারণে দেশের অন্য রাজ্যে আটক হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদেরও শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে এসে সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় রাজ্য প্রশাসন, বিএসএফ এবং বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে হয়।

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রত্যেকটি নির্বাসনের ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, নাগরিকত্ব এবং আইনি নথিপত্র একাধিক ধাপে যাচাই করা হয়। কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি সীমান্তে নিয়ে গিয়ে ফেরত পাঠানো হয় না। আদালতের নির্দেশ, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে অনেক সময় লেগে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরেও আলোচনা বেড়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং বৈধ নথিপত্র ছাড়া সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা ঠেকাতে দু'দেশই বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতা করছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তামিলনাড়ু থেকে হাওড়ায় ৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে নিয়ে আসার ঘটনাটি সেই বৃহত্তর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। এখন তাঁদের পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার পর বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের শেষ ধাপ সম্পন্ন হবে। প্রশাসনের দাবি, আইন মেনেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও একই পদ্ধতিতে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

বরফের গভীরে নিউট্রিনোর খোঁজ: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এবারের পদার্থবিদ্যায় নোবেল

IceCube Neutrino Observatory: অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে কীভাবে কাজ করে আইসকিউব টেলিস্কোপ? কীভাবে অদৃশ্য নিউট্রিনো কণার সংকেত ধরে কৃষ্ণগহ্বর, ব্ল্যাজার এবং মহাবিশ্বের গভীর রহস্য উন্মোচন করছেন বিজ্ঞানীরা?

ইন্ডিয়া জোটের মিছিলে বাধা, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো রিট

INDIA bloc's march towards supreme court: সোমবার কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ইন্ডিয়া ব্লকের ‘চলো দিল্লি’ মিছিল অনুষ্ঠিত হলো। রাহুল গান্ধীর দুই পাশে ছিলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও নেহা বোরা। মিছিলে অংশ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ডি রাজা, সুপ্রিয়া সুলে। ভগবান দাস রোডে মিছিল পুলিশি বাধার সম্মুখীন হয়। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টে ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিট পিটিশন দাখিল হয়।

ব্যারিকেড ঘেরা দিল্লি, নজরদারির চোখে নাগরিক: নিরাপত্তা নাকি নিয়ন্ত্রণ?

Delhi Under Siege: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে। ৩৫ হাজার পুলিশ, কাঁটাতারের ব্যারিকেড, ড্রোন নজরদারি, ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ২৪ ঘণ্টার ইন্টারনেট শাটডাউন, ৭ হাজারের বেশি আটক। ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতির অভিযোগ তুলেছেন, দিল্লিতে 'কাশ্মীর মডেল'-এর প্রয়োগ চলছে।

প্রতিবাদের মানচিত্র থেকে মুছে গেল যন্তর মন্তর

Jantar Mantar protest site: আঠারো শতকে নির্মিত যন্তর মন্তর মূলত একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণকেন্দ্র। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক এই স্থাপনার পাশের রাস্তা হয়ে ওঠে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবাদীদের মিলনস্থল।

‘দুই নেহা’-র কাণ্ডে বিভ্রান্ত দিল্লি পুলিশ! AISA নেত্রী-কে আটকানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই

AISA-র সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করতে গিয়ে তাঁরই মতো দেখতে এক মেয়েকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। অথচ সেই সময় আসল নেহা বোরা দিল্লির কনট প্লেসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যারিকেড পেরিয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছিলেন।