বাংলাদেশে ফেরানোর প্রস্তুতি, পশ্চিমবঙ্গে আনা হলো ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে
Bangladeshi deportation: তামিলনাড়ুর বিশেষ আটক শিবির থেকে ৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে ট্রেনে করে পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি চলছে।
ভারতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে আটক ৫০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে তামিলনাড়ু থেকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদের চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ুর সেলম জেলার বিশেষ আটক শিবিরে দীর্ঘদিন ধরে রাখা হয়েছিল ওই ব্যক্তিদের। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাঁদের ট্রেনে করে হাওড়ায় পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দলে রয়েছেন ৪৪ জন পুরুষ এবং ৬ জন মহিলা। তাঁরা সবাই তামিলনাড়ুর সেলম জেলার আত্তুর তালুক অফিস চত্বরে অবস্থিত বিশেষ আটক শিবিরে ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাসনের নির্দেশ জারি করার পর পুরো প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমে তিনটি গাড়িতে করে তাঁদের তিরুচিরাপল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর হাওড়াগামী ট্রেনের একটি নির্দিষ্ট কোচে তাঁদের তোলা হয়। পুরো যাত্রাপথে প্রায় ৪০ জন পুলিশ সদস্য তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।
তামিলনাড়ু পুলিশের একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। যাত্রাপথে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের একজন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্টের নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনী ট্রেনে তাঁদের পাহারা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত নিয়ে আসছে।
হাওড়ায় পৌঁছানোর পর তামিলনাড়ু পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ৫০ জনকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেবে। এরপর বিএসএফ তাঁদের পশ্চিমবঙ্গের হরিদাসপুর সীমান্তে নিয়ে যাবে। সেখানে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের হস্তান্তর করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ভারত ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
detention deportation policy India: সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (CAA) কার্যকর হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে ও সারা দেশে নতুন করে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা কি সত্যিই উদ্বাস্তুদের সুরক্ষা দেবে, নাকি নথি-নির্ভর নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও অনিশ্চয়তা, বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে এনআরসি-র সঙ্গে এর সম্পর্ক কীভাবে প্রভাব ফেলবে?
তামিলনাড়ুর আত্তুর বিশেষ আটক শিবির বহু বছর ধরেই বিদেশি নাগরিকদের রাখার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। যাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং যাঁদের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে অথবা যাঁদের মামলা বিচারাধীন, তাঁদের এই শিবিরে রাখা হয়। বর্তমানে সেখানে এখনও ১৩০ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের কারও মামলা আদালতে বিচারাধীন, আবার কেউ জামিনে মুক্ত থাকলেও প্রশাসনিক কারণে শিবিরেই অবস্থান করছেন।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করার অভিযান গত কয়েক বছরে আরও জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁকে নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমান ঘটনাটিও সেই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
ভারত থেকে বাংলাদেশে কাউকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্থলপথে বাংলাদেশে প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত। সেই কারণে দেশের অন্য রাজ্যে আটক হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদেরও শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে এসে সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় রাজ্য প্রশাসন, বিএসএফ এবং বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে হয়।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রত্যেকটি নির্বাসনের ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়, নাগরিকত্ব এবং আইনি নথিপত্র একাধিক ধাপে যাচাই করা হয়। কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি সীমান্তে নিয়ে গিয়ে ফেরত পাঠানো হয় না। আদালতের নির্দেশ, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে অনেক সময় লেগে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরেও আলোচনা বেড়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং বৈধ নথিপত্র ছাড়া সীমান্ত অতিক্রমের ঘটনা ঠেকাতে দু'দেশই বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতা করছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তামিলনাড়ু থেকে হাওড়ায় ৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে নিয়ে আসার ঘটনাটি সেই বৃহত্তর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। এখন তাঁদের পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার পর বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের শেষ ধাপ সম্পন্ন হবে। প্রশাসনের দাবি, আইন মেনেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও একই পদ্ধতিতে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






