যন্তর মন্তর বিক্ষোভ: অতিশী-বৃন্দা কারাত-সহ আটক ১১০০
Gyanesh Kumar resignation: দিল্লিতে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন রাস্তা সকাল থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশ। টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড এবং সংসদ মার্গে ছিল কড়া নজরদারি। নতুন দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। এর ফলে অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে দিল্লি মেট্রোতেও। রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, জনপথ, প্যাটেল চক এবং মাণ্ডি হাউস-সহ অন্তত ১২টি মেট্রো স্টেশনে পরিষেবা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত করা হয়।
২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন দেশের দুই শহরে মুখোমুখি হয়েছে প্রতিবাদ ও প্রশাসনিক বাধা। দিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের আটক করেছে পুলিশ। একই দিনে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কেও একই দাবিতে কর্মসূচি নিয়েছে ককরোচ জ়নতা পার্টি। দুই কর্মসূচির কেন্দ্রেই রয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম, ভোটার তালিকার সংশোধন এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে ওঠা প্রশ্ন।
দিল্লিতে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন রাস্তা সকাল থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশ। টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড এবং সংসদ মার্গে ছিল কড়া নজরদারি। নতুন দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। এর ফলে অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে দিল্লি মেট্রোতেও। রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, জনপথ, প্যাটেল চক এবং মাণ্ডি হাউস-সহ অন্তত ১২টি মেট্রো স্টেশনে পরিষেবা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত করা হয়।
তবু বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট দলে জড়ো হন। স্লোগান দিতে দিতে তাঁরা যন্তর মন্তরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের আটক করে বাসে তুলে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যায়। আটক হওয়াদের মধ্যে ছিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশী, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, AISA-র সভাপতি নেহা বোরা, আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ এবং আরজেডি-র সাংসদ মনোজ ঝা। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন বিক্ষোভকারী জনপথ এলাকায় কিছু সময় ধরে অবস্থান করেন।
নেহা বোরাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বাস আটকে বিক্ষোভকারীরা তাঁকে বের করে আনেন বলে দ্য কুইন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন ছাত্রনেতা, সমাজকর্মী এবং আইনজীবীদের একটি অংশ। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নেহা বোরা, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং মনোজ ঝা। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নাগরিকদের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
INDIA Bloc Meeting: ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে এসআইআর ও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে কী আলোচনা হলো? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কী কী নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হলো? ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের পর সংসদ ও রাজপথে কী কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে? ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ আন্দোলনের মাধ্যমে কি আরও বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী জোট?
এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে এসআইআর ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক। বিরোধী দল এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য হলো মৃত, স্থানান্তরিত, দ্বৈত এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল করা। রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগও কমিশন অস্বীকার করেছে।
বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে আসার পর। ২৩ সেপ্টেম্বর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী প্রায় ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার ভোটার তালিকা, ভোটার নিবন্ধন এবং কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই রিপোর্ট প্রকাশের পর কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
তবে নির্বাচন কমিশন এই ঘটনাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছে। কমিশনের বক্তব্য, তিন সদস্যের কমিশনে মতপার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয় এবং অভ্যন্তরীণ আলোচনাকে কমিশনের মধ্যে ভাঙন হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। একই সঙ্গে এসআইআর নিয়েও কমিশন জানিয়েছে, ভোটার তালিকাকে পরিষ্কার ও নির্ভুল করাই এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য।
দিল্লির পাশাপাশি মুম্বইয়েও ২ অক্টোবর প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির নেতা অভিজিৎ দিপকে শিবাজি পার্কে ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর ডাক দিয়েছেন। মুম্বই পুলিশ অবশ্য শিবাজি পার্কে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। পুলিশের তরফে শব্দদূষণ, যানজট এবং আশপাশের হাসপাতালগুলিতে যাতায়াতের বিষয়টি কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবু সংগঠনটি কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
সিজেপি-র দাবির মধ্যে রয়েছে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর-সংক্রান্ত ভোটার বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করা, ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভোটার তালিকা পুনর্বহাল করে তার ভিত্তিতে নির্বাচন করা এবং নির্বাচন কমিশনের সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনা। সংগঠনটি ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন নিয়েও পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে।
ভোটার তালিকা কীভাবে তৈরি ও সংশোধন হবে, কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা স্বচ্ছ, এবং ভোটাধিকার রক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থা থাকা উচিত—এই বৃহত্তর প্রশ্নগুলিও সামনে এসেছে। এখন নজর থাকবে এই প্রতিবাদ কতদূর গড়ায় এবং নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে তার কী প্রতিক্রিয়া আসে।






