'নতুন তৃণমূল' পোস্টারে শহরজোড়া শোরগোল, আদি তৃণমূলের বিদায় ঘণ্টা বাজছে?

বঙ্গে প্রায় রাজনৈতিক শিহরণ জাগিয়েছে দক্ষিণ কলকাতার মতো তৃণমূল-ঘাঁটিতে শতাধিক এই পোস্টার ছড়ানোর সাহস নিয়েও! তাহলে কি তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে, প্রতীকের টানাটানি নিয়ে একসময়ে মুকুল রায়-তৃণমূলের ঠান্ডা যুদ্ধ এবার মমতা-অভিষেকের মধ্যে?

Ramen Das
৬ মিনিট
'নতুন তৃণমূল' পোস্টারে শহরজোড়া শোরগোল, আদি তৃণমূলের বিদায় ঘণ্টা বাজছে?

মুখ ঢেকেছে বিজ্ঞাপনে! এবারও বিজ্ঞাপনে মুখ ঢেকেছে ঠিকই। অলিগলির অলিন্দে বিজ্ঞাপন ভরে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তা অনন্য, খানিকটা মৌলিকও। কেন?

জমজমাট রাস্তা। মিনিটে মিনিটে গাড়ি, মানুষের আনাগোনা। ঠিক এর মাঝখানেই লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছে একটি নীল-সাদা হোর্ডিং। রেলিংয়ের দিকে খানিকটা ঝুঁকে থাকা ওই পোস্টারই যেন সগর্বে বলে উঠছে, ঝুঁকেগা নেহি! নাহ্, কোনও সিনেমার দৃশ্য নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের গড় দক্ষিণ কলকাতায় কিছু পোস্টার উদ্ধার নিয়েই শুরু হয়েছে এই চাপানউতোর। যে পোস্টারে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদকের ছবি-সহ লেখা, 'আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন তৃণমূল সামনে আসবে, ঠিক যেমন মানুষ চায়' (পোস্টারের নিচে পোস্টারদাতার নাম হিসেবে দেওয়া: আশ্রিতা এবং কলরব)।

মানে! তাহলে কি ভাঙছে তৃণমূল? কংগ্রেস ভেঙে মমতার তৃণমূল প্রতিষ্ঠার গড়ে তোলা ভিত্তিতে কি ফের বসছে কোদাল? নিজের ভাইপোর হাত ধরেই ভাঙতে চলেছে তৃণমূল? মমতার ছবিহীন পোস্টার কি এই ভাঙনেরই আভাস? না কি নতুন করে তৃণমূল কংগ্রেসকে সাজাতে চলেছেন অভিষেক?

তৃণমূলের তরফে এই পোস্টার না পড়লেও ওই দুই সংগঠনের দেওয়া শতাধিক পোস্টারে উত্তপ্ত বঙ্গের রাজনীতি। আরও একটি পোস্টারে '২৪-এর লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে। দল ভাঙার খেলায়, মানুষের চাওয়ার দোহাই দিয়ে দলবদল না করেও ভাঙানোর পথেই এগোচ্ছেন অভিষেক! এই পোস্টার-পর্বে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। যদিও ফের জুনের পরে, দুবাই সফরে গিয়েছেন 'যুবরাজ'। ১৮ অথবা ১৯ অগাস্ট তাঁর দেশে ফেরার কথা। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে পোস্টারকে খুব একটা আমল দিতে চাইছে না তৃণমূল নেতৃত্ব। কেউ আবেগের বশে এমন করেছেন বলে দাবিও উঠেছে। প্রকাশ্যে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। কিন্তু সমস্ত জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই ঘুরে ফিরে শুরু হয়েছে, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা। নয়া জল্পনা। কিন্তু কেন? এর গভীরে যেতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে কয়েকটি বছর। এক নজরে দেখা নেওয়া প্রয়োজন খেলা ভাঙার খেলা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবারতন্ত্র।

কোন লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই পোস্টার?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উদয়ের পথে অভিষেক, মমতা জমানা অস্তাচলে? প্রশ্ন ভাসছে হাওয়ায়

মমতার তৃণমূল কি ক্রমে ঝুঁকে পড়ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দিকে? তৃণমূলে আসতে চলছে বিরাট পরিবর্তন? যদি এমনটা হয়, তাহলে পরিবর্তনের ঢেউয়ে তৃণমূল হয়ে উঠতে পারে নতুন দল।

"অন্যায় করলে আমাকে চড় মারুন! সব আসনেই আমি প্রার্থী..." ২০২১ সাল, বঙ্গের নির্বাচনের টান টান উত্তেজনার মধ্যে প্রকাশ্যে এমনই বলছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র ১০ বছরের মধ্যেই ক্ষমতা হারানোর শঙ্কা, ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে জননেত্রী মমতার 'আঁতে আঘাত' এবং লোকসভা নির্বাচনের ফলে খানিকটা ব্যাকফুটে থাকা তৃণমূলকে অক্সিজেন জোগাতেই এমন মন্তব্য করেছিলেন মমতা, দাবি করেছিল রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কিন্তু সমস্ত আশঙ্কাকে হেলায় হারিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় ফেরে তৃণমূল। নন্দীগ্রামে হেরেও রাজ্যজুড়ে ভাঙা পায়ের রাজনৈতিক খেলা দেখিয়ে দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সবকিছু বেশ ভালোই চলছিল। কিন্তু ওই যে পুরনো ক্ষত! ফের সারদা, নারদা দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই মাথাচাড়া দিল শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, গরু পাচার, কয়লা পাচার, বালিপাচার-সহ একাধিক 'পাচার কাঁটা'-য় বিদ্ধ হতে থাকে তৃণমূল। সম্প্রতি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী, তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'প্রিয় পার্থদা', পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর 'ঘনিষ্ঠ বান্ধবী' অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ইডি-গ্রেফতারির ক্ষত সারার আগেই বীরভূমের 'বেতাজ বাদশা' অনুব্রত মন্ডলের গ্রেফতারি। যা ফের অস্বস্তিতে ফেলেছে তৃণমূলকে। বীরভূমের বগটুইয়ে জীবন্ত-দগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধারের পরেও যতটা অস্বস্তিতে পড়তে হয়নি শাসক দলকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এবার তার চেয়ে অনেক বেশিই চাপে পড়েছে তৃণমূল। বারবার দুর্নীতির অভিযোগ, শীর্ষ নেতা, মন্ত্রীর গ্রেফতারির ঘটনার পর জনমানসের একটা বড় অংশে মমতার একছত্র আধিপত্যের তৃণমূলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।

আর এখানেই রয়েছে ট‍্যুইস্ট! ইতিহাস স্মরণে রেখেই প্রশ্ন উঠেছে কয়লা, গরুপাচার দুর্নীতিতে নাম জড়ানো তৃণমূল সাংসদ, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক, দলনেত্রীর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি অন্য স্ট্র্যাটেজি তৈরি করছেন? পিকে-র খানিকটা প্রভাব, পরামর্শ কাজে লাগিয়ে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ? এই প্রশ্নের দোদুল্যমানতার মধ্যেই দক্ষিণ কলকাতাজুড়ে অভিষেকের ছবি-সহ ছ'মাসের মধ্যে মানুষের চাওয়া অনুযায়ী নতুন তৃণমূলের হঠাৎ পোস্টার জল্পনা বাড়িয়েছে। যে পোস্টারে শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এখানেই জোরালো হচ্ছে এক আকস্মিক আশঙ্কাও। কেন? রাজনৈতিক কারবারিদের একাংশের মত, দিকে দিকে নিজের তৈরি দলে নিজেরই অবস্থান ক্ষীণ হয়েছে, নিষ্ক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে দলেই; অন্য গোষ্ঠীর সক্রিয়তায়, যেখানে দলের প্রতিষ্ঠাতার পরিবারের সদস্যের হাত রয়েছে- এমন উদাহরণ রয়েছে বহু। সম্প্রতি যদি উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক ছবি দেখা যায়, সেখানে মুলায়ম সিং যাদব ক্রমশ নিষ্ক্রিয় হয়েছেন, তাঁর কাছের নেতারা নিষ্ক্রিয় হয়েছেন আর বেড়ে উঠেছেন অখিলেশ যাদব। নিন্দুকেরা বলেন, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং প্রভাব স্পষ্ট করতে বাবা মুলায়মের নিষ্ক্রিয়তায় বিরাট ভূমিকা পালন করেছেন পুত্র অখিলেশ! আবার ওই রাজ্যেই লিখিত বক্তৃতা পাঠ এবং তলানিতে থাকা দলের মুখ হিসেবেই শুধু রয়েছেন মায়াবতী! রাজনৈতিক মহলের অন্দরে কান পাতলেই শোনা যায়, সেখানেও দলের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ চলে গিয়েছে মায়াবতীর ভাইপো আকাশের হাতে। এমনকী, বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে যদি আমরা নজর দিই, সেখানে স্পষ্টতই দেখা যায়, আগাগোড়া দুর্নীতি-বিপদের সম্মুখীন হয়ে ক্ষমতা হারানো লালুপ্রসাদ যাদব, তাঁর জেলবন্দি অবস্থা এবং দল বাঁচাতে নতুন করে লড়াই শুরুর পথে উঠে এসেছেন লালু-পুত্র তেজস্বী যাদব। যেখানে তেজপ্ৰতাপ এবং লালুর সাংসদ কন্যা মিসা ভারতী প্রায় প্রভাবহীন। অর্থাৎ, একই পরিবারে একাধিক হাল ধরার মতো রাজনৈতিক সদস্য থাকলেও লালুর ইমেজে ঘুণ ধরিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন তেজস্বী।

দক্ষিণ ভারতও কম যায় কীসে! তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে-প্রধান করুনানিধির নাম দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়ার পর, তাঁর সাংসদ কন্যা কানিমোজির জেলযাপনের পর দলের রাশ হাতে নিয়েছেন করুণানিধি-পুত্র এমকে স্ট্যালিন। যিনি এখন ওই দলের সুপ্রিমো। এমনকী, এই রাজ্যেই জয়ললিতা এবং শশীকলা সংঘাত, আবার জয়ললিতা দলের প্রতিষ্ঠাতার পরিবারের সদস্যদের পিছনে ফেলে এআইডিএমকে-র রাশ নিজের হাতে নিয়েছিলেন।

সমগ্র ভারতে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচাতে, প্রতিষ্ঠা করতে এগিয়ে যাওয়ার এমন উদাহরণ প্রচুর রয়েছে। কিন্তু তাই বলে পশ্চিমবঙ্গ? একই দলে প্রতিষ্ঠাতাকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার চেষ্টা কি এখানেও? এমন প্রশ্ন কেউ কেউ তুললেও, এর পিছনে এমন কোনও ছুরি মারার কৌশল দেখছেন না রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। তাঁদের দাবি, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতার সামনেই প্রকাশ্যে নতুন তৃণমূলের কথা বলেছিলেন অভিষেক। দাবি করেছিলেন, মানুষ যেমন তৃণমূল চান, তেমন হবে। অভিষেকের এই মন্তব্যের পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, মমতার তৈরি তৃণমূল, এই পরিস্থিতির তৃণমূল কি মানুষ চায়নি? তাহলে এই বিপুল জনসমর্থন কেন? মমতা কি ভুল ছিলেন? যদিও এই প্রশ্নের জবাবে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একথা বলতে চাননি, তিনি আসলে মমতা বন্দ্যাপাধ্যের নেতৃত্বেই একটু গোছানো, বিভিন্ন অভিযোগ থেকে মুক্ত তৃণমূল গঠনের কথা বলেছেন, যা মানুষ আগেও চেয়েছেন, এবারও তেমনই হবে! কিন্তু এত সহজে বিষয়টি উপস্থাপিত হয়নি বলেই দাবি করা হয়, কেউ কেউ বলেন, কয়লা-কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে অভিষেকের। সেখানে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের একাধিক অভিযুক্ত নেতা, মন্ত্রী এবং পঞ্চায়েত সদস্য, সংগঠক, পদাধিকারিদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগের ভিত্তিতেই কি সরিয়ে দেওয়া সম্ভব! প্রত্যন্ত এলাকায় দক্ষ সংগঠককে সরিয়ে দিয়ে দলের ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা রাজনৈতিকভাবে সঠিক? পার্থ-কাণ্ড এবং তৃণমূলের তরফে ব্যবস্থা গ্রহণ, এমনই জল্পনা দানা বাঁধায়, তাহলে কি অভিষেকের কথাই এখন শেষ কথা! পরবর্তীতে মমতা-মোদি বৈঠক, অনুব্রত-কাণ্ড এবং বীরভূমের নেতার পাশে তৃণমূলের দাঁড়ানো নিয়ে ফের মমতাই যে সব, সেটাই উঠে আসে ফের। কিন্তু যখন অভিষেক দুবাই সফরে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই প্রকাশ্যে, দু'টি সংগঠনের নামে কেন এই পোস্টার? তৃণমূলের ভবিষৎ কি ওই পোস্টারেই লুকিয়ে? যদিও কুণাল ঘোষের দাবি, মমতার নেতৃত্বে অভিষেকের সেনাপতিত্বে তৃণমূল চলছে। এখানে অন্য কোনও জল্পনা নেই। ওই পোস্টারের সঙ্গে দলের সম্পর্কও নেই বলে জানান মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

তবে এত সহজে বিষয়টি দেখছেন না রাজনৈতিক মহলের অনেকেই। কেন?

প্রথমত, দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। বলা হয়, মমতার গড়। সেখানে দাঁড়িয়ে, মমতাময় তৃণমূলের জন্য অভিষেকের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শুধুই অভিষেককে নিয়ে পোস্টার!

দ্বিতীয়ত, তৃণমূলের যে-কোনও কর্মসূচি, পোস্টারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া হয় না- এমন কল্পনাতেও আসে না। সেখানে শুধুমাত্র দলের এক সাংসদ, নেতা অভিষেকের ছবি!

তৃতীয়ত, দক্ষিণ কলকাতার আনাচকানাচে ছড়িয়ে থাকা অভিষেকের ছবি দিয়ে ওই পোস্টার তৃণমূলের তরফে না হলেও শক্ত সংগঠন না থাকলে কীভাবে সম্ভব! কলকাতা পুরসভা বা কলকাতা পুলিশের প্রচ্ছন্ন অনুমতি না থাকলে এমন কী করে ঘটল, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।

চতুর্থত, যাঁরা অর্থাৎ যে সংগঠন এই পোস্টার লাগিয়েছেন, তাঁদের সভাপতি এই পোস্টারের বিষয়ে 'প্রতিষ্ঠিত নেতা অভিষেক'-এর কথা জানিয়েছেন। যেখানে মমতা রয়ে গিয়েছেন প্রায় উহ্য!

প্রশ্ন এখানেই! জল্পনা-কল্পনা, তৃণমূলের সঙ্গে এই পোস্টারের কিঞ্চিৎ যোগাযোগের দাবি না থাকলেও বঙ্গের বর্তমান রাজনীতিতে উঠে এসেছে নানা প্রশ্ন। বঙ্গে প্রায় রাজনৈতিক শিহরণ জাগিয়েছে দক্ষিণ কলকাতার মতো তৃণমূল-ঘাঁটিতে শতাধিক এই পোস্টার ছড়ানোর সাহস নিয়েও! তাহলে কি তৃণমূলের ভাঙন নিয়ে, প্রতীকের টানাটানি নিয়ে একসময়ে মুকুল রায়-তৃণমূলের ঠান্ডা যুদ্ধ এবার মমতা-অভিষেকের মধ্যে! কেন, কী, না বুঝতে পেরে খানিকটা খেই হারাচ্ছেন কেউ কেউ! দাবি, দুবাই থেকে ফিরেই এই বিষয়ে সমস্ত জল্পনা শেষ করবেন অভিষেক স্বয়ং। জানাবেন সত্য। তার আগেই যদিও কুণাল ঘোষের তরফে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, মমতাহীন পোস্টার এবং অভিষেক-বাণী সহ পোস্টারের রাস্তা-যাপনের পরেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! আদৌ এই পোস্টার কেন, কী কারণে পড়ল। এর সঙ্গে কীসের সম্পর্ক বা জল্পনা উসকে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে! সেটি সত্যি না মিথ্যে, বারবার এই একাধিক প্রশ্ন উঠলেও, অভিষেকময় পোস্টার লাগানোর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই উঠেছে প্রশ্ন। তাহলে কি সত্যিই...!

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?