সোনারপুরে বিক্ষোভের মুখে অভিষেক, মৃত কর্মীর বাড়িতে অবস্থান
Abhishek Banerjee: ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুরে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। কালো পতাকা ও ‘গো ব্যাক’ স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।
সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে অবস্থান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের, পুলিশের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত সেখান থেকে না যাওয়ার ঘোষণা তাঁর। ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে শনিবার নিজেই বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে যাওয়ার পথে বিজেপি সমর্থকদের বিক্ষোভের জেরে একসময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয়। ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁর শার্টের বোতামও ছিঁড়ে যায় বলে অভিযোগ।
শনিবার ছিল বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর অভিষেকের প্রথম বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি। ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে তিনি প্রথমে বেলেঘাটা এবং পরে সোনারপুরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সোনারপুরে পৌঁছনোর আগেই তাঁর সফর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।
বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কালো পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কোথাও ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে, কোথাও আবার হাতে ডিম নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। পাটুলির ঢালাই ব্রিজ থেকে সোনারপুরের কামরাবাদ পর্যন্ত একাধিক জায়গায় বিজেপি নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই চারচাকা গাড়ির বদলে বাইকে চড়ে সোনারপুরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কিন্তু সোনারপুরে ঢোকার মুখেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, কয়েকজন বিক্ষোভকারী তাঁর গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও অভিষেক পিছিয়ে আসেননি। মাথায় ক্রিকেটের হেলমেট পরে তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন। সেই সময় তাঁর দিকে ডিম ও জুতো ছোড়া হয়। জামার বোতাম ছিঁড়ে গেলেও তিনি হেঁটেই এগিয়ে যান। বিক্ষোভকারীদের সামাল দিতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, আমি হাইকোর্ট ও রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ওরা আমার মৃত্যু চায়। গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার থেকে আইসি— সকলকেই আগাম সতর্ক করা হয়েছিল। তবুও ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ ছিল না। আমি হেলমেট পরে ছিলাম বলেই মাথায় গুরুতর আঘাত লাগা থেকে রক্ষা পেয়েছি। যত শক্তি লাগাক
মাথা ঝোঁকাব না।
এদিকে এই রাজনৈতিক সফরের দিনই অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডির একটি দল। বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সই-কাণ্ড সংক্রান্ত তদন্তে নোটিস দিতেই ওই দল গিয়েছিল বলে জানা যায়। যদিও বাড়ির কর্মীরা প্রথমে জানান, অভিষেক বাড়িতে নেই। পরে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেন, অভিষেক বাড়িতেই ছিলেন এবং তিনি সিআইডির নোটিস গ্রহণ করেছেন।
তবে এই গোটা ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে অন্য একটি প্রশ্নও সামনে এসেছে। ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত বা আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও আর জি কর-কাণ্ডের নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসক, যাঁকে বিরোধীরা ‘অভয়া’ নামে উল্লেখ করে থাকেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গে অভিষেক কখনও দেখা করতে যাননি কেন, সেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির। বিজেপির দাবি, রাজনৈতিক কারণে নিহত বা আক্রান্তদের বাড়িতে যাওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতৃত্ব যতটা সক্রিয়, ততটাই নীরব ছিল রাজ্যজুড়ে আলোড়ন তোলা ওই ঘটনার ক্ষেত্রে। প্রশ্ন এও উঠছে, মানুষের রায়ে ক্ষমতায় এলে এত ভয় কীসের?
অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়গুলিকে একসঙ্গে মিশিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছে বিরোধীরা। ফলে সোনারপুরের বিক্ষোভের পাশাপাশি এই বিতর্কও নতুন করে রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।







