অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়ায় কোথায় কোথায় বিক্ষোভ?
Annapurna Bhandar Protest Timeline: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বারবার বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও মহিলারা বিডিও বা পুরসভা ঘেরাও করেছেন, কোথাও হয়েছে রাস্তা ও রেল অবরোধ। কোন কোন জায়গায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে, পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে এবং এই বিক্ষোভের পিছনে মূল অভিযোগগুলি কী?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলা ও শহরে বিক্ষোভের খবর সামনে এসেছে। কোথাও মহিলারা বিডিও অফিস বা পুরসভা ঘেরাও করেছেন, কোথাও রাস্তা অবরোধ হয়েছে, কোথাও আবার রেললাইনে নেমে প্রতিবাদ করার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে যেতে হয়েছে। সেপ্টেম্বরেও সেই ক্ষোভ পুরোপুরি থামেনি। এমনকি অক্টোবরের শুরুতে কলকাতার নিউ আলিপুর ও রাজারহাটের সেবা সেতু শিবিরেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন ও টাকা নিয়ে বিক্ষোভের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
২ জুলাই হাওড়ার ডোমজুড়, বীরভূমের বোলপুর ও রামপুরহাট এবং উত্তরবঙ্গের ধুপগুড়িতে মহিলাদের বিক্ষোভের খবর প্রকাশিত হয়। সময় কলকাতার প্রতিবেদনে বলা হয়, আবেদন করার পরও অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা ঢোকেনি। বোলপুরে মহিলারা পুরসভায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান।
৩ জুলাই আরামবাগ মহকুমায় ক্ষোভ আরও প্রকাশ্যে আসে। আবেদন করেও টাকা না পাওয়ার অভিযোগে বহু মহিলা এসডিও অফিসে ভিড় করেন। বর্তমান-এর প্রতিবেদনে সেই সময় আরামবাগ মহকুমা জুড়ে ক্ষোভ বাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। একই সময়ে রামপুরহাটেও আবেদন জমা দেওয়ার পর টাকা না পাওয়ার অভিযোগে মহিলাদের বিক্ষোভের খবর প্রকাশিত হয়।
৭ জুলাই ফের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ হয়। হিন্দুস্থান সমাচারের প্রতিবেদনে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি, ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এবং পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় বিডিও অফিসের সামনে মহিলাদের জমায়েতের কথা বলা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ ছিল, অনলাইন এবং অফলাইনে আবেদন করার পরও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি।
সেই দিনই পুরুলিয়া পুরসভার সামনে মহিলাদের বিক্ষোভের খবর প্রকাশিত হয়। আজ তক বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, আবেদন করার পর মাসের পর মাস টাকা না পাওয়ার অভিযোগে মহিলারা সেখানে বিক্ষোভ করেন।
ফাঁসিদেওয়াতেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর আসে। ৭ জুলাই বিডিও অফিস চত্বরে শতাধিক মহিলা বিক্ষোভ করেন বলে বর্তমান পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। একটি প্রতিবেদনে বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জের অভিযোগও তোলা হয়। এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশ বা প্রশাসনের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ; তাই ঘটনাটিকে লাঠিচার্জ ‘হয়েছে’ না বলে লাঠিচার্জের ‘অভিযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করাই নিরাপদ।
বনগাঁতেও ৭ জুলাই বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ এবং বনগাঁ-বাগদা সড়ক অবরোধের খবর প্রকাশিত হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইতোমধ্যেই জানানো হয়েছে, আগামী ১ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে কী করতে হবে?
এর পর অগাস্টে ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। ২০ অগাস্ট বালুরঘাটে শতাধিক মহিলা মহকুমাশাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ করেন। হিন্দুস্থান সমাচারের প্রতিবেদনে বলা হয়, বকেয়া টাকা না পাওয়ার অভিযোগে এই বিক্ষোভ হয় এবং পরে প্রশাসনিক ভবনের সামনের রাস্তা অবরোধের ঘটনাও ঘটে।
আনন্দবাজারের ২০ অগাস্টের প্রতিবেদনে বালুরঘাটের পাশাপাশি অন্নপূর্ণার টাকা নিয়ে আসানসোল ও মধ্যমগ্রামেও ক্ষোভের কথা বলা হয়। বালুরঘাটে বিক্ষোভকারীদের একাংশ এসডিও অফিসের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২১ অগাস্ট পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। পশ্চিম মেদিনীপুর, জলপাইগুড়ি, মালদহ, হুগলি ও বাঁকুড়া-সহ একাধিক জেলায় মহিলারা সরকারি দফতরের সামনে বিক্ষোভ করেন বলে হিন্দুস্থান সমাচার জানিয়েছে। কোথাও রাস্তা অবরোধ হয়। উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে মহিলাদের রেললাইনে নেমে বিক্ষোভের খবরও প্রকাশিত হয়।
মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরেও ২১ অগাস্ট পুরসভা ঘেরাও করে বিক্ষোভের খবর আসে। আজ তক বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, জঙ্গিপুরের পাশাপাশি সাগরদিঘি ও ডায়মন্ড হারবারেও ওই দিন বিক্ষোভ হয়েছিল। বিরাটিতে রেল অবরোধের ঘটনাটিও একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন-২ ব্লকেও কয়েকশো মহিলা বিডিও অফিসের সামনে জমায়েত করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়। ওই দিন জেলার প্রশাসনিক ভবনে একটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে অন্নপূর্ণার টাকা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে মহিলারা তাঁর কাছে নিজেদের সমস্যার কথা জানান। মন্ত্রী সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন বলে এই সময়ের প্রতিবেদনের পুনঃপ্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়।
হুগলির আরামবাগ মহকুমাতেও ২১ অগাস্ট
বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়। গোঘাট-২ বিডিও অফিসে একদল মহিলা টাকা না পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে বলে হিন্দুস্থান সমাচার জানিয়েছে।
অগাস্টের শেষ সপ্তাহেও বিক্ষোভ থামেনি। ২৭ অগাস্ট দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং-১ বিডিও অফিসের সামনে ক্যানিং-বাসন্তী রোড অবরোধ করে মহিলারা অন্নপূর্ণার টাকা দাবি করেন বলে, বর্তমান-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০ সেপ্টেম্বর মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক অফিসে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সংক্রান্ত একটি ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মহিলা জড়ো হন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন প্রথম কিস্তির টাকা পেলেও পরের কিস্তি পাননি বলে অভিযোগ করেছিলেন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
২৩ সেপ্টেম্বর হাওড়ার সাঁকরাইলের ধুলোগড় এলাকায় অন্নপূর্ণার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে মহিলাদের বিক্ষোভের খবর প্রকাশিত হয়। চার মাস ধরে টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝোলানো এবং রাজ্য সড়ক অবরোধের কথাও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। একই দিনে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরেও অন্নপূর্ণার সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগে মহিলারা বিক্ষোভ করেন বলে আনন্দবাজার জানিয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর হাওড়ার জয়পুরের কুলিয়া সোলবাগা এলাকার মহিলারাও অন্নপূর্ণার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে কুলিয়াঘাটের কাছে পথ অবরোধ করেন বলে গণশক্তির প্রতিবেদনে জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, জুলাইয়ে শুরু হওয়া ক্ষোভ অগাস্টে একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সেপ্টেম্বরেও তার রেশ দেখা যায়। এই বিক্ষোভগুলির মধ্যে কোথাও শুধুমাত্র সরকারি দফতরের সামনে জমায়েত হয়েছে, কোথাও পুরসভা বা বিডিও অফিস ঘেরাও হয়েছে, আবার কোথাও রাস্তা বা রেললাইন অবরোধের অভিযোগ উঠেছে।
এই ধারাবাহিকতার আরও সাম্প্রতিক ছবি দেখা যায় ২ অক্টোবর কলকাতায়। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ আলিপুর ও রাজারহাটের সেবা সেতু শিবিরে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নতুন আবেদন গ্রহণ এবং প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে ক্ষোভ দেখান অনেকে। নিউ আলিপুরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে চেয়ার-টেবিল ভাঙার অভিযোগ ওঠে এবং পুলিশ যায়। রাজারহাটে এক মহিলা ও এক পুরুষকে গ্রেফতার করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বারবার একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। আর অক্টোবরের শুরুতেও কলকাতার সেবা সেতু শিবিরে সেই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে। ফলে আবেদন, যাচাই, অনুমোদন এবং টাকা পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় কোথায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে, সেই প্রশ্নও ক্রমশ সামনে আসছে।







