SIR-এ নাম বাদ যাওয়া মহিলারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন না! যা জানালেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল
ইতোমধ্যেই জানানো হয়েছে, আগামী ১ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে কী করতে হবে?
ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আদলে তৈরি এই প্রকল্পে রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সরকার গঠনের পর এবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে প্রশাসন। ইতোমধ্যেই জানানো হয়েছে, আগামী ১ জুন থেকেই এই প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে কী করতে হবে?
যদিও এখনও পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। কোনও সরকারি পোর্টাল খোলা হয়নি, এমনকি অফলাইন ফর্ম বিলিও শুরু হয়নি। তবু সম্ভাব্য আবেদনপদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কমিশনার জানান, নির্বাচন চলাকালীন গর্গ চট্টোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, আবেদন করতে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুকের জেরক্স এবং সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি লাগতে পারে। যেহেতু টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে, তাই আবেদনকারীর নিজের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক বলেই মনে করা হচ্ছে।
যোগ্যতার ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হতে পারে। আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং এই প্রকল্প শুধুমাত্র মহিলাদের জন্যই চালু করা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। রাজ্যের নতুন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আওতায় থাকা সমস্ত মহিলাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন। তিনি জানান, পুরো প্রক্রিয়াটিই ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে হবে এবং ১ জুন থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছতে শুরু করবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তদন্তকারীদের হাতে এমন তথ্য এসেছে বলে দাবি, অন্তত ১৫০ জনকে বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন সুজিত বসু। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, সাফাইকর্মী, ড্রাইভার-সহ একাধিক পদে এই নিয়োগ হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
তবে টাকা পাঠানোর আগে একটি বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হবে বলেও জানান তিনি। অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের মধ্যে কেউ এখনও সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তি বা দেশের নাগরিক নন, এমন কেউ যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা না পান, তা নিশ্চিত করতেই এই বিশ্লেষণ করা হবে। তাঁর কথায়, যাঁরা প্রকৃত উপভোক্তা নন, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
সরকারি স্তরে এখনও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ না হলেও, প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ইতোমধ্যেই তুঙ্গে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলির মহিলারা এখন অপেক্ষা করছেন কবে শুরু হবে আবেদন প্রক্রিয়া এবং কবে প্রথম কিস্তির টাকা পৌঁছবে তাঁদের অ্যাকাউন্টে।
প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প তৃণমূলকে মহিলাদের ভোট পেতে সাহায্য করেছিল বলে মনে করা হয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের সমস্ত মহিলা (২৫ বছর বয়স থেকে) ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর কথাও রেখেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনুদানের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে দেড় হাজার টাকা করে দেওয়ায় অনুদানের পরিমাণ। পাল্টা বিজেপি বলেছিল, ক্ষমতায় এলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন মহিলারা। অর্থাৎ তৃণমূল সরকার প্রদত্ত অনুদানের দ্বিগুণ। দু’শোর বেশি আসন পেয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি। আর প্রতিশ্রুতি পূর্বক অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেই খবর।








