মীনাক্ষী-কলতান-দীপ্সিতা, প্রচারে ঝড় তোলা বামপ্রার্থীরা কেমন ফল করলেন?
West Bengal Assembly Election 2026: মীনাক্ষী, দীপ্সিতা, আফরিন—প্রচারে যাঁদের সামনে রেখেছিল বামেরা, গণনাযে কেন পিছিয়ে সেই তরুণ মুখরাই? বাংলায় কি এখনও বামেদের জন্য জায়গা তৈরি হলো না?
বাংলার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের প্রচারের মুখ হিসেবে যাঁদের সামনে আনা হয়েছিল, গণনার দিন তাঁদের ফল আপাতত খুব আশাব্যঞ্জক নয়। রাজ্যের সামগ্রিক ছবিতেই বামফ্রন্ট কার্যত পিছিয়ে, আর বেশিরভাগ কেন্দ্রে লড়াই সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল বনাম বিজেপি দ্বৈরথে। দুপুরের ট্রেন্ডে বিজেপি ১৯০-র বেশি আসনে এগিয়ে থাকলেও বামেদের উপস্থিতি হাতে গোনা কয়েকটি কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ।
সবচেয়ে বেশি নজর ছিল উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের দিকে। গত তিন মাস ধরে টানা প্রচার এবং তরুণ নেতাদের সামনে রেখে আলিমুদ্দিন এই কেন্দ্রটিকে বামেদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু ৭ দফা গণনার পর মীনাক্ষী পেয়েছেন ১৪ হাজার ২৩১ ভোট। সেখানে বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন চক্রবর্তী প্রায় ২৭ হাজার ভোটে এগিয়ে। অর্থাৎ প্রচারের জোর থাকলেও তা ভোটে রূপান্তরিত হয়নি।
একই ছবি উত্তর দমদমে। দীপ্সিতা ধর শান্তিপূর্ণ ভোটের কথা বলেছিলেন, মানুষের ভোট মানুষ দিতে পেরেছে, এই দাবি করেছিলেন ভোটের দিনই। কিন্তু ১৫ দফা গণনার মধ্যে প্রথম ৩ দফা গণনার ফলাফলে তাঁর ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৬ হাজার ৭৪২ ভোট। শহরতলির শিক্ষিত মধ্যবিত্ত এলাকায় যাঁকে বামেদের নতুন মুখ বলা হচ্ছিল, সেই দীপ্সিতার ক্ষেত্রেও এখনও পর্যন্ত বড় সাড়া মিলছে না।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নির্বাচন কমিশনের এই 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি' বা তথাকথিত যৌক্তিক অসংগতির আড়ালে কি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে? অনেকের মতে, এর লক্ষ্য হলো যেনতেন প্রকারেণ এই রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতায় বসানো। কিন্তু কেন?
আফরিন বেগম সিপিএমের নতুন প্রজন্মের অন্যতম মুখ। দীর্ঘদিন বাম ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও রাজ্যজুড়ে খুব বেশি পরিচিত ছিলেন না। তবে এ বারের বিধানসভা ভোটে প্রার্থী ঘোষণার আগেই মহম্মদ সেলিম ও শমীক লাহিড়ীর সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থেকে তিনি আলোচনায় আসেন। তারপর তাঁকে প্রার্থী করা হয় বালিগঞ্জে। কলকাতার অভিজাত বালিগঞ্জেও বামেদের প্রত্যাবর্তনের আশা ধাক্কা খাচ্ছে। এই কেন্দ্র একসময় সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি ছিল, ১৯৭৭ থেকে ২০০১ পর্যন্ত টানা সাতবার জিতেছিল বামেরা। কিন্তু ১৩ দফা গণনার পর তৃণমূল প্রার্থী এগিয়ে, আর বাম ভোট সেভাবে জমাট বাঁধতে পারেনি। পুরনো সংগঠনের স্মৃতি থাকলেও নতুন সামাজিক বাস্তবতায় সেই জমি আর ফিরছে না, এই ইঙ্গিতই স্পষ্ট।
মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে বাম প্রার্থী ইউনুস আলী সরকার ১৪ রাউন্ড শেষে ১৭ হাজার ভোটে পিছিয়ে। পানিহাটিতে কলতান দাশগুপ্ত ১৪ হাজার ৭২৯ ভোট পেয়েও ৪১ হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে। তবে ডোমকলে মহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান জয়ী হয়েছেন।
অর্থাৎ এ বারের ভোটে বামেদের যে তরুণ মুখেরা প্রচারে আলো কেড়েছিলেন, গণনার টেবিলে সেই আলো ম্লান। শান্তিপূর্ণ ভোট, ঘরে ঘরে প্রচার, তরুণ মুখ সবই ছিল; যা ছিল না, তা হলো ভোট সংগ্রহের শক্তি। বাংলার ভোটার আপাতত বামেদের প্রত্যাবর্তনের ডাকের চেয়ে বড় লড়াই হিসেবে দেখেছেন তৃণমূল-বিজেপির ক্ষমতার সং
ঘর্ষকেই।






