বাড়িতে এক নারীর আগমন, তারপর স্বপ্নাদেশ: যেভাবে শুরু হয়েছিল দে বাড়ির দুর্গাপুজো
Dey Bari Durga Puja Bhawanipur: কথিত আছে, একবার ২৬ নম্বর চন্দ্রনাথ স্ট্রিটের বাড়িতে লালপাড়-সাদা শাড়ি পরিহিতা একজন সধবা নারী তাঁর ছেলেমেয়েদের নিয়ে এই বাড়িতে এসেছিলেন চাল-ডাল ভিক্ষা করতে। বাড়িরই এক সদস্যা অন্দরমহল থেকে চাল-ডাল নিয়ে আসার পর আর সেই সধবা মহিলাকে দেখতে পাননি।
"মা এসে গয়না পরেন শিবকৃষ্ণ দাঁর বাড়িতে, ভোজন করেন কুমোরটুলির অভয়চরণ মিত্রের বাড়িতে, আর রাত জেগে নাচ দেখেন শোভা বাজারের রাজবাড়িতে"
—মহানগরীর পুজোকে কেন্দ্র করে এই প্রবাদটি যুগ যুগ ধরে প্রচলিত। কলকাতার দুর্গাপুজোর আলোচনায় যখন বনেদি বাড়ির পুজোর মাহাত্ম্য জড়িয়ে যায়, তখন তা নিয়ে আর দ্বিমত পোষণের অবকাশ থাকে না।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Durgapuja: রাজা রামব্রহ্ম রায়চৌধুরীর কন্যা প্রতিদিন বাড়ি সংলগ্ন বাগানে তাঁর বন্ধু পদ্মাবতীর সঙ্গে খেলত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, জমিদার বাড়ির কেউ পদ্মাবতীকে দেখেননি।
দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের দে বাড়ির পুজো ১৫৩ বছরের পুরনো। কিন্তু দেড় দশক পেরিয়েও পুজোর ঐতিহ্য ও বনেদিয়ানায় এতটুকুও ছেদ পড়েনি। ১৮৭০ সালে দে বাড়ির সদস্য রামলাল দে এই একান্নবর্তী পরিবারে প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করেন।
১৮৪৬ সালে গোবরডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন রামলাল দে। ব্যবসায়িক সূত্রে তিনি চলে আসেন ভবানীপুরে। কথিত আছে, একবার ২৬ নম্বর চন্দ্রনাথ স্ট্রিটের বাড়িতে লালপাড়-সাদা শাড়ি পরিহিতা একজন সধবা নারী তাঁর ছেলেমেয়েদের নিয়ে এই বাড়িতে এসেছিলেন চাল-ডাল ভিক্ষা করতে। বাড়িরই এক সদস্যা অন্দরমহল থেকে চাল-ডাল নিয়ে আসার পর আর সেই সধবা মহিলাকে দেখতে পাননি। পরবর্তীতে একই বেশে মা দুর্গার স্বপ্নাদেশ পান রামলাল দে। তখনই তিনি এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গা পুজোর সূচনা করেন।
নিয়ম অনুযায়ী, চতুর্থীর দিন থেকে পুজো শুরু হয় দে বাড়িতে। এদিন থেকেই বাড়িতে নারকেল নাড়ু তৈরি হয়। পঞ্চমীর দিন বোধন হয় দেবীর। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত মাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। টেরোটা লুচির সঙ্গে ১৩ রকম মিষ্টি দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয় দেবীকে। অষ্টমীর দিন কুমারী পুজো, সধবা পুজো ও ধুনো পোড়ানোর রীতিও রয়েছে এই বাড়িতে।






