বাগানের মাটিতে শিশুকন্যার অলীক পায়ের ছাপ! যেভাবে শুরু হল শিবপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো

Durgapuja: রাজা রামব্রহ্ম রায়চৌধুরীর কন্যা প্রতিদিন বাড়ি সংলগ্ন বাগানে তাঁর বন্ধু পদ্মাবতীর সঙ্গে খেলত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, জমিদার বাড়ির কেউ পদ্মাবতীকে দেখেননি।

Ravhali Biswas
৫ মিনিট
বাগানের মাটিতে শিশুকন্যার অলীক পায়ের ছাপ! যেভাবে শুরু হল শিবপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো

বাঙালির প্রাণের উৎসব দুর্গাপুজো। শুধুই কি বাঙালির! দুর্গা পুজো তো সার্বজনীন। এই পুজো মানেই ‘বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের এক অমলিন ছোঁয়া’। বাঙালির উৎসব, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দুর্গাপুজো। আর এখন দুর্গাপুজো মানেই প্রায় বারোয়ারি পুজো। অলিতে গলিতে শুধু থিমের লড়াই। তবে থিম আর বিজ্ঞাপনের ভিড়ে হারিয়ে না গিয়ে এখনও কিছু বনেদি বাড়ির পুজো টিকে আছে শতাব্দী পেরিয়ে। কলকাতার পাশাপাশি জেলার পুজোগুলির সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে কিছু তাক লাগানো গল্প। তেমনই এক বনেদি বাড়ির পুজো হল হাওড়ার শিবপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো। সাবেকিয়ানা এবং ঐতিহ্যের অপরূপ মেলবন্ধন এই পুজো। আনুমানিক ৩৪০ বছর ধরে চলে আসছে এই পুজো।

রায়চৌধুরী পরিবারের ইতিহাস

হাওড়া জেলার শিবপুরের রায়চৌধুরী বংশের প্রতিষ্ঠাতা রাজা রামব্রহ্ম রায়ের (মুখোপাধ্যায়) আদি বাসভূমি ছিল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুর মহকুমার চানক মণিরামপুর। এঁদের সাবেকি বাড়ি পলতার জলাধার তৈরির সময় অবলুপ্ত হয়ে যায়। আবার ভিন্নমতে, এই বংশের একাংশ গোবিন্দপুর (ফোর্ট উইলিয়ামের আদি কেন্দ্রস্থল) গ্রামে বাস করতেন। আনুমানিক ১৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে ভরদ্বাজ গোত্রীয় ব্রাহ্মণ জমিদার রাজা রামব্রহ্ম রায়চৌধুরী পৈতৃক জমিদারির তেরোটি গ্রাম (শিবপুর, রামকৃষ্ণপুর, ব্যাতাইতলা, ভাসি, সলপ, নিবড়া, মাঝের হাটি, বাঁকড়া, গোদা, বেতড়, চামরাইল, নিতাঙ্কুর ও দেবীপাড়া প্রভৃতি) নিজের ভাগে পেয়ে শিবপুরে বসতি শুরু করেন। ‘হাওড়া জেলার ইতিহাস’-এর লেখক অচল ভট্টাচার্যের মতে মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের (১৬৫৮-১৭০৭ খ্রি) ফরমানে রায়চৌধুরীরা এই অঞ্চলের জমিদারির মালিক হন এবং ‘রাজা’ উপাধি পান। শিবনারায়ণ শাস্ত্রীর মতে, নবাব আলীবর্দীর (১৭৪০-৫৬ খ্রি) আনুকুল্যে হাওড়ার এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের স্বত্ব পান রামব্রহ্মের পুত্র সুকদেব। সাত্ত্বিক রাজা রামব্রহ্ম রায়চৌধুরী সংসারী হয়েও ব্রহ্মচারীর মতো জীবন যাপন করতেন। অনেকে মনে করেন, শিবপুরের বেত্রচণ্ডিকা মন্দিরটি রায়চৌধুরী বংশের পূর্বপুরুষদেরই প্রতিষ্ঠিত।

রায়চৌধুরী বাড়ির এক সদস্য অরুণবাবুর কথায়, তাঁদের প্রকৃত পদবি মুখোপাধ্যায়। তাঁরা আগে জমিদার ছিলেন। বাংলার নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ব্রিটিশ সেনাদের বিরুদ্ধে তাঁর পূর্বপুরুষরা লড়াই করেছিলেন। সে সময় মুর্শিদকুলি খাঁ সাহসিকতার পুরস্কার স্বরূপ তাঁদের ‘রায়চৌধুরী’ খেতাব দেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পোড়া ল্যাটা মাছের ভোগ, ইতিহাসবিজড়িত সাবর্ণদের দুর্গাপুজো

Durga Puja 2026: সাবর্ণ পরিবারের পুজোর অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল মাষভক্তবলি অর্থাৎ পশু এবং অপদেবতার জন্য ১৮০টি মাটির খুঁড়িতে মাষকলাই ঘি দিয়ে মাখিয়ে নিবেদন করা হয়।

পুজোর ইতিহাস

রায়চৌধুরী বাড়ির পুজো আনুমানিক কবে থেকে শুরু হয়েছিল তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। তবে নানা মতভেদ থাকলেও ১৬৮৫ সাল থেকে এই পুজো শুরু হয়েছে বলে মনে করা হয়। পুজো শুরু করেছিলেন রাজা রামব্রহ্ম রায়চৌধুরী। রায়চৌধুরী বাড়ির ঠাকুরদালানে শুরু হয় এই পুজোর।

কথিত আছে, একটা সময় এই পরিবার দেবী চণ্ডীর ভক্ত ছিল। রাজা রামব্রহ্ম রায়চৌধুরীর কন্যা প্রতিদিন বাড়ি সংলগ্ন বাগানে তাঁর বন্ধু পদ্মাবতীর সঙ্গে খেলত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, জমিদার বাড়ির কেউ পদ্মাবতীকে দেখেননি। প্রতিদিনই নিজের মেয়ের মুখ থেকে এই কাল্পনিক বন্ধুর কথা শুনে রামব্রহ্মের একদিন ইচ্ছে হল তাঁর সঙ্গে দেখা করার। মেয়েদের খেলার ফাঁকে একদিন তিনি নিজেই চলে যান পদ্মাবতীকে দেখতে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, রামব্রহ্ম পৌঁছনোর আগেই পদ্মা সেই স্থান ছেড়ে চলে যায়। আদতে পদ্মা বলে কেউ নেই, মনে মনে ভেবে নেন রামব্রহ্ম। কিন্তু বাগানের নরম মাটিতে সেই মেয়ের পায়ের ছাপ তাঁর ধারণা ভুল প্রমাণ করে দেয়। সেদিন রাতেই তিনি স্বপ্নাদেশ পান যে তাঁর মেয়ের বন্ধু পদ্মা আর কেউ না স্বয়ং মা দুর্গা। বলা হয়, সেই থেকেই নাকি পুজোর শুরু।

আবার আরেক মতে, রাজা রামব্রহ্ম ছিলেন দেবী চণ্ডীর উপাসক। তিনি স্বপ্নাদেশ পান দুর্গাপুজো করার জন্য। সেইমতো রাজা রামব্রহ্ম তৎকালীন পণ্ডিতদের সঙ্গে কথা বললেন কারণ তিনি তো চণ্ডীর উপাসক। কী করে তিনি দুর্গাপুজো করবেন! এই ভেবেই মানসিক দ্বন্দ্বে পড়েন তিনি। কিন্তু তিনি নাকি স্বপ্নে দেখেছিলেন, দেবী দুর্গা তাঁকে বলছেন, তিনি দেবী চণ্ডীর আরেক রূপ। তখন স্বপ্নের মধ্যেই রামব্রহ্ম জিজ্ঞেস করেছিলেন, দেবী কতদিন তাঁর বাড়িতে থাকবেন। দেবী বলেছিলেন, “যতদিন তোর বংশধরেরা আমায় ভক্তিভরে ডাকবে ততদিন আমি এখানে আসব”। এরপর রামব্রহ্ম তাঁর সমস্ত দ্বিধা কাটিয়ে বাড়িতে মহাসমারোহে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ধূম জ্বর গায়েই পুজো! বেলুড় মঠের দুর্গাপুজোয় দ্বিতীয়বার রইতে পারেননি খোদ স্বামীজিই

Belur Math Durgapuja: স্বামীজির খুব ইচ্ছে পশুবলি হয়। কিন্তু সারদার প্রবল অমতে সেটি বাদ দিতে হল। এখনও বেলুড় মঠের পুজোতে ফলবলি হয়, কিন্তু পশুবলি নিষিদ্ধ।

মূর্তির বৈশিষ্ট্য এবং পুজোর রীতি-বিশেষত্ব

রায়চৌধুরী বাড়ির দুর্গা মূর্তি সাবেক তিনচালা ডাকের সাজের। সাঁজের আটচালায় মায়ের বোধন হয় মহালয়ার আগের নবমীতে। পুজো হয় প্রাচীন রীতিনীতি মেনে অর্থাৎ বৃহত্তর নান্দিকার মতে। বেলুড় মঠে এই রীতি অনুসরণ করেই পুজো করা হয়। দো-মেটে প্রতিমা সম্পন্ন হওয়ার পরে অঞ্চলের বহু ব্রাহ্মণ আমন্ত্রিত হন এই বাড়িতে। মায়ের মূর্তি দর্শন করে সেখানে কোনও ত্রুটি আছে কিনা তাঁরা তা দেখে নেন। নিখুঁত মূর্তির ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই শুরু হয় চূড়ান্ত পর্বের মূর্তি গড়ার কাজ। এই বাড়িতে পুজোর জন্মলগ্ন থেকেই এই প্রথা চলে আসছে।

রায়চৌধুরী বাড়ির পুজোয় মূর্তির সামনে কোনও ঘট বাঁধা হয় না। ঘট বাঁধা হয় আটচালা সংলগ্ন একটি বেলগাছে। বেলগাছের জন্য একটি আলাদা ঘরও আছে। কথিত আছে, দুর্গা ওই বেলগাছের মধ্যে দিয়ে ধরাতলে নেমে আসেন। সেই জন্য ওই বেলগাছকে ঘিরেই রামব্রহ্ম দুর্গাপুজোর উপাসনা শুরু করেন। তবে প্রাচীন বেলগাছ অনেকদিন আগেই নষ্ট হয়ে গেছে এখন সেখানে নতুন বেলগাছ লাগানো।

এই বাড়ির পুজোর আরেকটি রীতি হল পাঁঠাবলি। সেই প্রথা এখনও চালু আছে। সপ্তমীর দিন একটি এবং নবমীর দিন দুটো করে পাঁঠাবলি হয় এবং পুজোর সংকল্প করা হয় বাড়ির প্রবীণতম ব্যক্তির নামে। এই বাড়ির আরেকটি বড় রীতি হল, ব্যাতাইচণ্ডীর মুকুট এনে দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে ঠাকুর দালানে পুজো করা হয়। তারপর দুর্গার মাথার মুকুট দশমীর দিন ব্যাতাইচণ্ডীর মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ব্যাতাইচণ্ডীর পুরনো মুকুটটি ঠাকুরদালানের পাশে বেলগাছের তলায় রেখে দেওয়া হয়। দক্ষিণা কালী পুজোর সময় এই মুকুট বিসর্জন দিয়ে দেওয়া হয়।

পুজোর ভোগ

নবমীর দিন হোম সম্পন্ন হলে, হাঁড়িকাঠ উঠিয়ে বাড়িতে পংক্তিভোজনের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়াও নানা রকম মিষ্টান্ন, ঘরে তৈরি নারকেল নাড়ু, বিভিন্ন রকম ফল থাকে ভোগ হিসেবে। দুর্গাকে প্রত্যেকদিন অন্নভোগ দেওয়া হয়, খিচুড়ি, ১২ রকম ভাজা, তরকারি, মাছ, পরমান্ন, মিষ্টি ও ভাত, এর সঙ্গে অন্যান্য পদ, মাছ ও বলির মাংস রান্না করে নিবেদন করা হয়। পুজোর দায়িত্বে থাকা অরুণ রায়চৌধুরী জানান, আগের মতো আড়ম্বর না থাকলেও এখনও যথেষ্ট নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতি বছর পুজো করে চলেছে রায়চৌধুরী পরিবার। শুধু পরিবারের সদস্যরাই নয়, অঞ্চলের বহু মানুষ ভিড় জমান শতাব্দী প্রাচীন এই পুজো দেখতে। দশমীতে পুজোর শেষে পুজোর ঘট ও দুর্গার মুকুটের বিসর্জন হয় না। ওই মুকুট ও জলভরা ঘট চলে যায় অনতিদূরের ব্যাতাইচণ্ডীর মন্দিরে। বলা হয়, এই মন্দির রায়চৌধুরীদের পরিবারিক মন্দির।

এইভাবেই প্রাচীন রীতিনীতি মেনে মুঘল জমানার সাক্ষী শিবপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির এই পুজো। থিমের পুজো আর বারোয়ারি পুজোর থেকে যদি অন্য দিকে একটু মন দিতে চান তাহলে বনেদি বাড়ির এই পুজো দেখতে যেতে পারেন। প্রাচীন আর আধুনিকতার এক মিশেল এই পুজো গ্রামবাংলার ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেছে আজও।

কীভাবে যাবেন– হাওড়া স্টেশন থেকে মেদিনীপুর লোকাল ধরে রামরাজাতলা স্টেশন। তারপর টোটো করে মন্দিরতলার দিকে এগোলেই হিন্দু গার্লস স্কুল। সেখান থেকে ডানদিকের রাস্তা ধরে মিনিট খানেক এগোলেই দেখা মিলবে আটচালার দেবী দুর্গার।

লিখেছেন
Ravhali Biswas
Ravhali Biswas
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।