রাত পোহালেই ক্ষমতার হস্তান্তর, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্যে কেমন প্রস্তুতি বিজেপির
৯ মে ২০২৬ (২৫শে বৈশাখ), কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার। রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্য লগ্নে আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠানকে ঘিরে তিলোত্তমায় এখন সাজো সাজো রব। ইতোমধ্যেই এসে পৌঁছেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে শহর।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। ৪ মে এসেছিল জনতার রায়। ৯ মে ২০২৬ (২৫শে বৈশাখ), কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার। রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্য লগ্নে আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠানকে ঘিরে তিলোত্তমায় এখন সাজো সাজো রব। ইতোমধ্যেই এসে পৌঁছেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে শহর। মূল অনুষ্ঠানে আসবেন নরেন্দ্র মোদীও। থাকবেন বিজেপিশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। শেষ মুহূর্তে চলছে পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের কাজ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই কাজে সাহায্য করছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। ২০৭জন বিধায়কের সঙ্গে আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক। এই বৈঠকে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নামও চূড়ান্ত হবে।
পঁচিশে বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী। ৭ তারিখের পরিবর্তে বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে। বার্তা একটাই— বিজেপি কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং তারা বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। মনেপ্রাণে বাঙালি। মনে রাখতে হবে, আজ নয়, ২০২১ থেকেই নরেন্দ্র মোদি বিজেপির প্রচারে নিয়ে এসেছেন রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গে। আউড়েছেন তাঁর কবিতার অংশ। এবার এই মাহেন্দ্রক্ষণ তাই হাতছাড়া করতে নারাজ বিজেপি।
৯ মে ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ। শপথ অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চের পাশেই তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক মঞ্চ। সেখানে প্রখ্যাত শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হবে রবীন্দ্রসঙ্গীত। ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ থেকে শুরু করে কবিগুরুর দেশপ্রেমের গানে মুখরিত হবে ব্রিগেড।
শুক্রবার বিকেল ৪টেয় নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে বাংলাজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, তবে দলীয় সূত্রে খবর, দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই নাম চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। আজকের বৈঠকে সেই নামেই আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়বে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Amit Shah fact check: পশ্চিমবঙ্গ কি সত্যিই ‘ড্রাই স্টেট’ হতে চলেছে? অমিত শাহ কি মদ নিষিদ্ধের ঘোষণা করেছেন? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ‘ব্রেকিং নিউজ’ দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত। কিন্তু আদৌ কি সত্যি সেই দাবি? নাকি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমের আদলে তৈরি করা হয়েছে ভুয়ো গ্রাফিক্স?
বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে জাতীয় স্তরে একটি বড় উৎসবে পরিণত করতে চাইছে দল। এই সমারোহে ব্রিগেডের মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার সকালে বিশেষ বিমানে কলকাতায় নামবেন। তার বিমান অবতরণের কথা সকাল ১০টা ২৫ মিনিট নাগাদ। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে আরসিটিসি হয়ে ব্রিগেড। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ছাড়াও থাকছেন রাজনাথ সিং, নীতিন গড়করি, জেপি নড্ডা এবং নীতিন নবীনের মতো হেভিওয়েট নেতারা। বিজেপি ও এনডিএ শাসিত প্রায় ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবীস.ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়াও আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে, পদ্মশ্রী, পদ্মবিভূষণ জয়ী বিশিষ্টজনেদের।
সূত্রের খবর, শনিবার সব বিধায়ক নয়, বরং মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য শপথ নেবেন। শোনা যাচ্ছে, প্রশাসনের ভারসাম্য রক্ষায় ২ জন উপ-মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রিত্বেরর দৌড়ে নাম ভেসে আসছে শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্যের। বড় পদ প্রায় নিশ্চিত দিলীপ, রুদ্রনীল ঘোষ, সুকান্ত মজুমদারদের। ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে অগ্নিমিত্রা পাল বা রূপা গঙ্গোপাধ্যায়দের। তবে চমক দেওয়াই বিজেপির নীতি, তাই নতুন কোনো মুখকে সামনে এনে বিজেপি সবাইকে অবাক করে দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত সামাল দিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে নজিরবিহীন।
পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী: কয়েক হাজার পুলিশ কর্মীর পাশাপাশি কয়েক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছে।
আকাশপথে নজরদারি: ড্রোন ব্যবহার করে পুরো ময়দান মনিটর করা হবে।
বড় স্ক্রিনের আয়োজন: সাধারণ মানুষ যাতে অনুষ্ঠানটি ভালোভাবে দেখতে পারেন, তার জন্য ময়দান জুড়ে কয়েকশো বড় LED স্ক্রিন লাগানো হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বাস ও ট্রেন ভরে কর্মী-সমর্থকদের আনার টার্গেট দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক বিধায়ককে।
ইতিমধ্যেই বর্তমান রাজ্যপাল আর.এন. রবি বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। ফলে আইনিভাবে নতুন সরকার গঠনের পথে আর কোনো বাধা নেই। শুক্রবার বিকেলের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন এবং রাজ্যপাল তাঁকে শপথের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন।
৯ মে ২০২৬ তারিখটি বাংলার রাজনীতির মোড় ঘোরানোর দিন হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে। একদিকে মোদি-শাহের উপস্থিতি এবং অন্যদিকে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুর— সব মিলিয়ে এক অনন্য আবহে পশ্চিমবঙ্গ পেতে চলেছে তার নতুন শাসকদলকে। এখন সারা রাজ্যের নজর শুক্রবার বিকেলের বৈঠকের দিকে, যেখান থেকে উঠে আসবে বাংলার আগামী পাঁচ বছরের মুখ্যমন্ত্রীর নাম।








