অথর ইজ ডেড, যে লেখে সে আমি নয় এআই?
Caine Prize winning story AI allegations: ১১ অক্টোবর লেখক ও সাংবাদিক ভোহিনি ভারা ‘দ্য আটলান্টিক’-এ একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন—যার শিরোনাম ছিল “Yet Another Literary Prizewinner Seems to Be AI”। সেখানে তিনি জানান, ‘পাংগ্রাম’ নামের একটি এআই-ডিটেকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে গল্পটি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে এটি প্রায় পুরোটাই কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত।
জিম্বাবুয়ের লেখক সিমবারাশে স্টেইন কুন্ডিজেজা এ বছরের ‘কেইন প্রাইজ ফর আফ্রিকান রাইটিং’ জেতার পর পরই এক বিতর্কের মুখে পড়েছেন। ‘দ্য আটলান্টিক’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, তাঁর বিজয়ী ছোটগল্প ‘দ্য ব্লু ফাইটার’ এআই দিয়ে লেখানো হয়েছে। আর এই অভিযোগ ঘিরেই আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহল তোলপাড়।
৬ অক্টোবর লন্ডনে কুন্ডিজেজার এই গল্পটিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং তাঁকে ১০,০০০ পাউন্ড অর্থমূল্য প্রদান করা হয়। এই গল্পটি মূলত ২০২৫ সালে ‘দ্য শ্যালো টেলস রিভিউ’-এ প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু এর মাত্র পাঁচ দিন পর, ১১ অক্টোবর লেখক ও সাংবাদিক ভোহিনি ভারা ‘দ্য আটলান্টিক’-এ একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন—যার শিরোনাম ছিল “Yet Another Literary Prizewinner Seems to Be AI”। সেখানে তিনি জানান, ‘পাংগ্রাম’ নামের একটি এআই-ডিটেকশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে গল্পটি পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে এটি প্রায় পুরোটাই কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল দক্ষিণ আফ্রিকান কবি ভ্যানগিলে গান্টশোর একটি অপ্রকাশিত কবিতার কিছু পঙ্ক্তি, যা গল্পের এপিগ্রাফে লেখা ছিল।
জিম্বাবুয়ের এক বালকের অর্থনৈতিক সংকট ও পারিবারিক টানাপোড়েনের চিত্র তুলে ধরেছে ‘দ্য ব্লু ফাইটার’। ভোহিনি ভারা দাবি করেছেন, গল্পটি যে এআই-লিখিত, তা চেনার কিছু লক্ষণ রয়েছে—যেমন গতানুগতিক প্রবচন, অতিরিক্ত রূপক এবং নির্দিষ্ট কিছু বাক্যগঠন (যেমন- not x, but y ধরনের বাক্য)। এমনকী সমালোচকরা এও বলছেন যে, লেখক এর আগে যে ধরনের রাজনৈতিক থ্রিলার লিখেছেন (যেমন ২০২১ সালের ‘দ্য হুইসলব্লোয়ার’ বা উপন্যাস ‘ফ্রিল্যান্স’), তার সঙ্গে এই গল্পের সুর ও শৈলীর কোনো মিল নেই।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।
তবে অভিযুক্ত লেখক ও পুরস্কার কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ মানতে নারাজ। কুন্ডিজেজা সামাজিক মাধ্যমে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গল্পটি সম্পূর্ণ তাঁর নিজের লেখা এবং এতে কোনো জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ঘানায় ‘লোয়াটাদ ব্ল্যাক আটলান্টিক রেসিডেন্সি’-তে থাকাকালীন ভ্যানগিলে গান্টশোর কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই গল্পটি সাজিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া পেরিয়ে তা সম্পাদকের হাত ধরে প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর মতে, একজন লেখক সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের লেখার হাত বদলাতে পারেন, নতুন স্টাইল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন, এটিকে কৃত্রিমতা বলা মানে লেখার মৌলিক শিল্পকলাকেই মৌলিকভাবে ভুল বোঝা।
অন্যদিকে প্রশ্ন উঠেছে এই সফটওয়্যারগুলির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও। কেইন প্রাইজ কর্তৃপক্ষের চেয়ার ইলা ওয়াকাতামা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিবিসি-র ‘ফ্রন্ট রো’ রেডিও শোতে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো রকম যথাযথ ও গভীর তদন্ত ছাড়াই ‘দ্য আটলান্টিক’ বা একটি এআই সফটওয়্যারের রিপোর্টের উপর ভরসা করে একজন লেখককে রাতারাতি ‘প্রতারক’ ঘোষণা করা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। বিশেষ করে প্রান্তিক বা কৃষ্ণাঙ্গ লেখকদের কাজকে কোনো কাঁচা প্রযুক্তির পরীক্ষাগার বানানোর বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।
তাছাড়া, পাংগ্রাম সফটওয়্যারটির নিজস্ব দাবি অনুযায়ী তাদের ফলস পজিটিভের হার অত্যন্ত কম এবং কিছু পিয়ার-রিভিউড জার্নালেও এর নির্ভুলতার কথা বলা হয়েছে। তবে ভিহা ভারাসহ অনেকেই স্বীকার করেছেন যে এআই ডিটেকশন সফটওয়্যারের নির্ভুলতা বা কার্যকারিতা নিয়ে তৃতীয় পক্ষের স্বাধীন গবেষণা এখনও বেশ সীমিত।
এআই দ্বারা লেখানোর বিতর্ক এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৬ সালেরই জুলাই মাসে কমনওয়েলথ শর্ট স্টোরি প্রাইজ জয়ী ত্রিনিদাদের লেখক জামির নাজিরের গল্প ‘দ্য সার্পেন্ট ইন দ্য গ্রোভ’ এবং সেপ্তেম্বর মাসে ফ্রান্সের মর্যাদাপূর্ণ ‘গনকুর’ প্রাইজ থেকে কানাডিয়ান-হাইতিয়ান লেখক থেলিসন ওরেলিয়েনের উপন্যাস ‘সেতা ও মুরির’-এর বিরুদ্ধেও এআই ও প্ল্যাগারিজমের অভিযোগ উঠেছিল। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে সাহিত্যিকদের মেধা ও সততা বারবার এআই-ডিটেক্টরের কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছে।
প্রযুক্তির যুগে দাঁড়িয়ে মানুষের সৃষ্টিশীলতাকে যখন মেশিনের মাপকাঠিতে মাপা শুরু হয়, তখন ফরাসি সাহিত্যিক রোঁ বার্থের বিখ্যাত তত্ত্ব ‘দ্য ডেথ অফ দ্য অথর’ যেন নতুন এক বাস্তবতায় এসে দাঁড়ায়।
সাহিত্যের মানদণ্ড নির্ধারণে সফটওয়্যারের ব্যবহার নিয়ে এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে এবং এর ফলে সাহিত্য পুরস্কারগুলির বিচারপদ্ধতিতে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।







