কেন বেকার যুবদের ‘পরজীবী’, ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করলেন প্রধান বিচারপতি?

CJI Surya Kant: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, অনেক তরুণ আইনজীবী কাজ না পেয়ে সামাজিক মাধ্যম, আরটিআই আন্দোলন বা নানা ধরনের অ্যাক্টিভিজমের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং সেখান থেকে 'সবাইকে আক্রমণ' করতে শুরু করছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি 'তেলাপোকা'র মতো শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন।

inscript
৩ মিনিট
কেন বেকার যুবদের ‘পরজীবী’, ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য করলেন প্রধান বিচারপতি?

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার শুনানির সময় তিনি কিছু বেকার তরুণ আইনজীবী সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন,

কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজে এমন কিছু 'পরজীবী' রয়েছে যারা বিচারব্যবস্থাকে আক্রমণ করে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির মুখে এমন ভাষা শোনা মাত্রই আইনজীবী মহল, নাগরিক সমাজ এবং সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে সুপ্রিম কোর্টে একটি অবমাননার আবেদন শুনানির সময়। আবেদনটি করেছিলেন আইনজীবী সঞ্জয় দুবে। তাঁর অভিযোগ ছিল, সিনিয়র অ্যাডভোকেট নিয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, দিল্লি হাই কোর্ট তা ঠিকভাবে মানছে না। এই বিষয় নিয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন এবং আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলেন।

মামলাটি শুনছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। শুনানির শুরু থেকেই প্রধান বিচারপতি আবেদনকারীর অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এই ধরনের আবেদন আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করে। তিনি বলেন, আইনজীবীদের নিজেদের পেশার মর্যাদা বজায় রাখা উচিত। আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা না থাকলে বাইরের মানুষও আইনপেশাকে সম্মান করবে না।

এই সময়েই তিনি বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, সমাজে এমন কিছু 'পরজীবী' রয়েছে যারা বিচারব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্রমাগত আক্রমণ চালায়। এরপর তিনি বলেন, অনেক তরুণ আইনজীবী কাজ না পেয়ে সামাজিক মাধ্যম, আরটিআই আন্দোলন বা নানা ধরনের অ্যাক্টিভিজমের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং সেখান থেকে 'সবাইকে আক্রমণ' করতে শুরু করছে। সেই প্রসঙ্গেই তিনি 'তেলাপোকা'র মতো শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন।

এই মন্তব্য খুব দ্রুত সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আইনজীবীদের একটি অংশের মতে, প্রধান বিচারপতির বক্তব্য অত্যন্ত অবমাননাকর। বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন দেশে শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব বড় সমস্যা, তখন এই ধরনের তুলনা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর বলে মনে হয়েছে।

সমালোচকদের বক্তব্য, বেকারত্ব কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার ফল। ফলে কর্মসংস্থান না পাওয়া তরুণদের 'তেলাপোকা' বলে তুলনা করা অত্যন্ত অপমানজনক। বিচারব্যবস্থার শীর্ষপদে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে আরও সংযত ভাষা প্রত্যাশিত বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।

অন্যদিকে, কিছু আইনজীবী ও পর্যবেক্ষকের মতে, প্রধান বিচারপতির বক্তব্যকে আক্ষরিক অর্থে না দেখে তাঁর ক্ষোভের প্রেক্ষাপট বোঝা উচিত। তাঁদের মতে, বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ, সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচার এবং অযৌক্তিক মামলা দায়ের নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তোলেন। তিনি বলেন, আইন পেশায় ভুয়ো ডিগ্রিধারীদের সংখ্যা বাড়ছে বলে তাঁর গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তের প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর এই মন্তব্যে আইন পেশার মান এবং স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত সঞ্জয় দুবের আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালত জানিয়ে দেয়, এই ধরনের আবেদনকে গুরুত্ব দেওয়ার মতো কোনো কারণ তারা দেখছে না। একই সঙ্গে আবেদনকারীর সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। জনসমাজ বলছে, বিচারব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষা যেমন জরুরি, তেমনই বিচারপতিদের কথাবার্তায়ও সংযম ও সংবেদনশীলতা থাকা উচিত। বিশেষ করে বেকার তরুণদের নিয়ে মন্তব্য করার সময় শব্দচয়নে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

ভারতে বেকারত্ব বহুদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। উচ্চশিক্ষিত বহু তরুণ পছন্দসই কাজ পাচ্ছেন না। অনেকেই আইন, সাংবাদিকতা, গবেষণা বা সামাজিক আন্দোলনের মতো ক্ষেত্র বেছে নিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যম বা আরটিআই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের এভাবে মন্তব্য করার জন্যও তিনি অনেকের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন।

আরটিআই কর্মী ও নাগরিক সমাজের অনেকেই বলেছেন, তথ্য জানার অধিকার এবং জনস্বার্থে কাজ করা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সব ধরনের সমালোচনাকে বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ব্রাজিলের ভোটে লুলার ধাক্কা, ফ্লাভিওর উত্থান: কেন বদলাচ্ছে সমীকরণ?

Brazil presidential election 2026: প্রথম দফায় ফ্লাভিওর প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ছিল কার্যত অপ্রত্যাশিত। কারণ, অধিকাংশ প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষাতেই লুলাকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের এই সংখ্যার আড়ালে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—কেন বোলসোনারোবাদ এখনও এতটা শক্তিশালী?

‘দিল্লিতে রক্ত ঝরলে কলকাতাও আঘাত পায়’: যাদবপুরে নেহা বোরার কণ্ঠে প্রতিরোধের ঐক্যের বার্তা

Neha Bora Jadavpur University: নেহার কথায়, “আমার গলার অবস্থা, আমার শরীরের অবস্থা যা—ঠিক একই পরিস্থিতি আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI)। আর এই যন্ত্রণা যদি কেউ বুঝতে পারে, তবে দিল্লির রাজপথে যাদের রক্ত ঝরেছে, যাদবপুরে যাদের উপর হামলা হয়েছে, এসআরএফটিআই-তে যাদের উপর আক্রমণ হয়েছে—আমরাই একে অপরের ব্যথা সবচেয়ে ভালো বুঝি।”

‘যেই আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’: আসলে কেমন শাসক ছিলেন আসলে লঙ্কেশ?

Ravana character analysis: ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন মানুষ কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিতে জেরবার, তখন ১৮৬১ সালে প্রকাশিত 'মেঘনাদ বধ কাব্য' সমাজকে একদম গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিল। শিক্ষিত যুবক সমাজকে ভাবতে বাধ্য করল এই মহাকাব্য।

‘ভাই’ থেকে ‘বিরোধী’, কুড়ি বছর পর ফের একসঙ্গে: SIR যেভাবে কাছে আনল উদ্ধব ও রাজকে

Uddhav Thackeray Raj Thackeray: জনসভা থেকে রাজ ঠাকরে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বাদ পড়া এই দুই কোটি মানুষ আসলে কারা? দিল্লির দরবারে যখন এই বিষয়ে আলোচনা হবে, তখন সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত এই এসআইআর প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানানো। একই সঙ্গে তিনি ইভিএমের বদলে পুরনো ব্যালট পেপারে ভোট করানোর জোরালো দাবি তোলেন।

গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে কংগ্রেসের ব্লুপ্রিন্ট কী?

Electoral demands of congress leaders: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ৩ সেপ্টেম্বর, সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’, অমিত শাহ ‘অবৈধ মন্ত্রী’, সকল মুখ্যমন্ত্রীরা ‘অবৈধ’। কংগ্রেসের দাবি, লোকসভা ও সকল বিধানসভা ভেঙে ব্যালট পেপারে পুনঃনির্বাচন করানো হোক। এসআইআরে ১৩ কোটি নাগরিকের নাম বিলোপ, ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, ২০২৩-এর সিইসি নিয়োগ আইন চ্যালেঞ্জ, এই সকল বিষয় উঠে এসেছে সাংবাদিক সম্মেলনটিতে। সামনে রয়েছে ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলির ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের অফিসের দিকে পদযাত্রা। ইতোমধ্যে, কালই রাহুল গান্ধী দেশজুড়ে বিভিন্ন গণআন্দোলনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘সত্যাগ্রহ’ নামক একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছেন।

আরও চাপে জ্ঞানেশ কুমার, দু'দশকের পুরনো মামলায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ

Gyanesh Kumar Under Scrutiny: ২০০৬ সালে কেরলের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সচিব থাকাকালীন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরল সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

যন্তর মন্তর বিক্ষোভ: তিন মহিলা সাংবাদিকের হেনস্থার অভিযোগ, তদন্তে ক্রাইম ব্রাঞ্চ

Delhi Protest: দিল্লির যন্তর মন্তরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের খবর করতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন তিন মহিলা সাংবাদিক। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগগুলি নিউ দিল্লি জেলা পুলিশ থেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের কামলা মার্কেট শাখায় পাঠানো হয়েছে।

মুম্বই বিক্ষোভে অভিজিৎ দীপকে-সহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর

CJP Protest Against Gyanesh Kumar: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভ ঘিরে কেন এফআইআর দায়ের করল পুলিশ? সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকে-সহ ৪০০-র বেশি মানুষের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?