পরিচারিকাকে গরম তাওয়ার ছ‍্যাঁকা, প্রস্রাব চাটানো! অভিযুক্ত খোদ 'বেটি বাঁচাও'-এর কাণ্ডারি, কে এই সীমা পাত্র?

দলিত মহিলার নিগ্রহে অভিযুক্ত নেত্রী 'বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও' প্রকল্পের একজন অন্যতম আহ্বায়ক।

Ramen Das
৩ মিনিট
পরিচারিকাকে গরম তাওয়ার ছ‍্যাঁকা, প্রস্রাব চাটানো! অভিযুক্ত খোদ 'বেটি বাঁচাও'-এর কাণ্ডারি, কে এই সীমা পাত্র?

বিজেপির জাতীয় মহিলা মোর্চার কার্যকরী কমিটির সদস্যের বিরুদ্ধেই এবার মহিলা নির্যাতনের অভিযোগ। বাড়ির পরিচারিকাকে নির্মম অত্যাচারে অভিযুক্ত হলেন ঝাড়খণ্ডের বিজেপি নেত্রী সীমা পাত্র। যাঁর স্বামী মহেশ্বর প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক। গেরুয়া নেত্রীর এই কাণ্ড প্রকাশ্যে আসতেই ঝাড়খণ্ডে 'অপারেশন লোটাস' বিতর্কের মধ্যেই ফের অস্বস্তিতে বিজেপি। তড়িঘড়ি নেত্রীকে সাসপেন্ড করে দল। বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনার নিন্দা করা হয় নেতৃত্বের তরফে। ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারাণ্ডি মুখ খোলেন এই ঘটনার বিরুদ্ধে। অত্যাচারিত ওই পরিচারিকার ভিডিও ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় ওঠে সব মহলে। হেমন্ত সোরেনের সরকার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের আগেই পুলিশের গাফিলতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন রাজ্যপাল রমেশ বাইস। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সীমার গ্রেফতারির পাশাপাশি এই ঘটনায় তাঁর ছেলে-সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পরিচারিকা নির্যাতন-কাণ্ডে স্বতঃপ্রণোদিত উদ্যোগ নিয়েছে মহিলা কমিশন। তৎপর হয়েছে অনগ্রসর শ্রেণির জন্য নির্ধারিত কমিশনও। প্রসঙ্গত, এই নেত্রী প্রধানমন্ত্রীর 'বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও' প্রকল্পের একজন অন্যতম আহ্বায়ক।

এখানেই উঠেছে প্রশ্ন। ঘটনার পরেই সরব হয়েছে বিরোধীরা। প্রশ্ন উঠেছে ঝাড়খণ্ড সরকার ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও, বিশেষত যেখানে একজন দলিত মহিলার ওপর অত্যাচারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। গরম তাওয়া দিয়ে ছ্যাঁকা থেকে শুরু করে মারধর, মেঝেতে থাকা প্রস্রাব চাটনোর মতো নৃশংস অভিযোগ একজন প্রতিষ্ঠিত পরিবারের রাজনৈতিক নেত্রীর বিরুদ্ধে ওঠায় হতবাক মনোবিদরাও। বিজেপি-বিরোধীদের অভিযোগ, মুখে মহিলাদের সুরক্ষা আর ভালো রাখার কথা বললেও, মোদি-শাহর দলের নেতারা আসলে মহিলাদের কেমন করে ভাল রাখতে পারেন, এই ঘটনা তারই প্রমাণ! পাল্টা, বিজেপি-বিরোধী ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-র সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, এত বড় অভিযোগের পরেও কেন ব্যবস্থা নিল না হেমন্ত সোরেনের পুলিশ, প্রশাসন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'বেটি বাঁচাও'-এর দেশে নির্বিচারে হয় ভ্রুণহত‍্যা, পুত্রসন্তানের নির্লজ্জ চাহিদা কমেনি আজও

ভারতীয় সমাজে পুত্রসন্তানের চাহিদা কার্যত কুসংস্কারের পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।

প্রশ্ন উঠছে এখানেই, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের দাবদাহে কীভাবে লঘু হয়ে যেতে পারে এই মারাত্মক অপরাধ! ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পরিচারিকা হিসেবে কাজ করা একজন মহিলার ওপরে এমন অত্যাচার করা যায় কতটা অমানবিক হলে! দিনের পর দিন অকথ্য নৃশংস অত্যাচারে জর্জরিত করা যায় বাড়ির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে। কেউ কেউ বলছেন, এক মহিলার দলিত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি অভিযুক্ত ওই বিজেপি নেত্রী। অমানুষিক শ্রমের পরেও এই অত্যাচার চালিয়েছেন দিনের পর দিন। যা প্রকাশ্যে আসেনি। ট‍্যুইটার এবং 'দলিত ভয়েস'-এর সূত্রে হঠাৎ প্রকাশ্যে এসেছে এই দলিত মহিলার ওপর অত্যাচারের আর এক করুণ ছবি। যা শোরগোল ফেলেছে আবার! যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের একটি অংশের দাবি, এর শেষ নেই, যতদিন না মানুষের পরিচয় তাঁর জাত নয়, মানবিকতা দিয়ে হবে, ততদিন নিস্তার নেই এর থেকে।

এই ঘটনার পরেই দেশজুড়ে দলিত অর্থাৎ তথাকথিত অনগ্রসর শ্রেণির সামগ্রিক অবস্থান নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। যেখানে প্রায় প্রতি মুহূর্তেই অভিযোগ উঠছে দলিতের প্রতি অত্যাচার নিয়ে। দেশের প্রায় সব রাজ্যে, বিশেষত, গো-বলয়ের রাজ্যে এর প্রভাব বাড়ছে ক্রমশ! সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, দেশের রাষ্ট্রপতি অধিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়লেও দেশজুড়ে আসলে কেমন আছেন দলিতরা, মহিলারা; নাকি প্রভাবশালী সীমা, মহেশ্বরদের অত্যাচারে ক্রমশ পিছিয়েই চলেছে অনগ্রসররা- প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি দলিত অথবা অনগ্রসর শ্রেণির। শাসকের ক্ষমতায় টিকে থাকা অথবা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এই অংশের ভূমিকা স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেখানে দাঁড়িয়ে এই অংশের মন রাখতে বারবার সোচ্চার হন শাসকরা। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, মোদি কৌশল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন থেকে শুরু করে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প, সব ক্ষেত্রেই বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে। এই অবস্থায় লোকসভা নির্বাচনের আবহ, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের মধ্যেই ঝাড়খণ্ড রাজ্যের মতো দলিত, আদিবাসী-অধ্যুষিত রাজ্যে এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই চাপে ফেলেছে বিজেপিকে।

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।