বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই চোরবাগানে ছিলেন সম্পূর্ণা
পুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে গিয়ে ভিড় সামলানোর অব্যবস্থা দেখে আগেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল সম্পূর্ণার মনে। হাওড়ার বেলুড়ের বাসিন্দা, ৩০ বছর বয়সি সম্পূর্ণার কথায়, চোরবাগানে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ।
দুর্গাপুজোর আনন্দের মাঝেই চোরবাগান সর্বজনীনে আতঙ্কের ছবি। সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার ওই পুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, ৩৫ জনকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে প্রথমে ভর্তি করা হয় বলে খবর। পরে এসএসকেএম ট্রমাকেয়ারে ১৬জন স্থানান্তরিত করা হয়। চোরবাগানে প্রতিমা দর্শনে যাওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে উঠে এল ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা।
পুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে গিয়ে ভিড় সামলানোর অব্যবস্থা দেখে আগেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল সম্পূর্ণার মনে। সাত ও পাঁচ বছরের দুই সন্তানকে নিয়ে পুজো দেখতে বেরিয়ে নিরাপত্তার অভাব অনুভব করায় মাঝপথেই বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। হাওড়ার বেলুড়ের বাসিন্দা, ৩০ বছর বয়সি সম্পূর্ণার কথায়, চোরবাগানে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ।
চোরবাগানে ঘটনাটি ঘটে সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে সাতটার দিকে। তারই একটু আগে সেখানে ছিলেন সম্পূর্ণা। দুই সন্তানকে নিয়ে পুজো দেখতে বেরিয়েছিলেন তিনি। মণ্ডপে ভিড় থাকলেও তিনি নিজে পদপিষ্টের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি। তবে, ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থায় যে ঘাটতি ছিল, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি তাঁর। সন্তানদের নিয়ে সেখানে থাকা নিরাপদ নয় বলে মনে হওয়ায় দ্রুত বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
সম্পূর্ণার কথায়,
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Chorbagan Durga Puja incident: এই ঘটনার পর থেকেই পুজো কমিটির ব্যবস্থাপনা এবং এর পিছনের পট পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক ও তোলপাড় শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, পুজোর ঠিক আগেই চোরবাগান পুজো কমিটির রদবদল হয়েছিল এবং নতুন কমিটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিল।
উৎসব উদযাপন করতে গিয়ে মানুষের মনে নিজের জীবন নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হওয়া উচিত নয়। পুজো দেখতে বেরিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে পরিবারগুলিকে দুশ্চিন্তা করতে হওয়াও কাম্য নয়।
তাঁর মতে,
ভিড় নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। মণ্ডপের ভিতরে থাকা দর্শনার্থীরা বাইরে বেরিয়ে আসার পরেই নতুন দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুর্গাপুজো যে সব বয়সের মানুষের উৎসব, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন সম্পূর্ণা। তাঁর কথায়, পুজোর মণ্ডপে বয়স্ক দম্পতিদের একে অপরের হাত ধরে ঘুরতে দেখা যায়। একসঙ্গে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করেন তাঁরা। এই সর্বজনীন আনন্দই দুর্গাপুজোর সৌন্দর্য। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে নিরাপত্তার অভাব সেই আনন্দকে আতঙ্কে পরিণত করতে পারে।
একজন মা হিসেবে চোরবাগানের ঘটনার পর ভিড়ের মধ্যে থাকা শিশুদের কথা ভেবে উদ্বিগ্ন সম্পূর্ণা। যে উৎসবের জন্য শিশুরা সারা বছর অপেক্ষা করে, সেই উৎসবই মুহূর্তের মধ্যে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে— এই বাস্তবতা তাদের কীভাবে বোঝানো সম্ভব, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা,
এমন ঘটনার স্মৃতি আগামী বছরও পুজো দেখতে বেরোনোর সময় মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।
চোরবাগানের ঘটনার প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণার বক্তব্যে উঠে এসেছে পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্ন। উৎসবের আনন্দ যেন কোনও পরিবারের কাছে আতঙ্কের স্মৃতি হয়ে না থাকে, তার জন্য মণ্ডপগুলিতে যথাযথ ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।







