খ্রিস্টধর্ম পালন করায় পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকি, ভাটোরায় আক্রান্ত দম্পতি
Howrah Christian family: হাওড়ার ভাটোরায় প্রায় আট বছর ধরে খ্রিস্টধর্ম পালন করা এক পরিবারের উপর হামলা, মারধর ও গ্রাম ছাড়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। কেন ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিয়ে এমন প্রশ্ন উঠছে? স্থানীয়দের একাংশের আচরণের অভিযোগ কতটা সত্য?
হাওড়ার শেষ প্রান্তে দ্বীপাঞ্চল ভাটোরা। চারপাশ ঘিরে রূপনারায়ণ ও মুণ্ডেশ্বরী নদী। যাতায়াতের প্রধান ভরসা নদীপথ। হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষেরই বসবাস এই এলাকায়। অভিযোগ, এই গ্রামেরই একটি পরিবার প্রায় আট বছর ধরে খ্রিস্টধর্ম পালন করায় গত কয়েক দিন ধরে প্রতিবেশীদের একাংশের আক্রমণ ও হুমকির মুখে পড়েছে।
দক্ষিণ ভাটোরার মিনি বাজার এলাকায় থাকেন পুতুল মান্না ও কাঞ্চন মান্না। তাঁদের দুই পুত্রসন্তান। পুতুলের অভিযোগ, গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশীদের একাংশ তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয়ে খ্রিস্টধর্ম পালন নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কেন সনাতন ধর্ম ছেড়ে তাঁরা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন, তা নিয়ে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বাড়ি এবং গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার পাশাপাশি ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। যিশুখ্রিস্টের জন্মস্থানেই তাঁদের চলে যেতে বলা হয় বলেও দাবি পরিবারের।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মুখ্যমন্ত্রী ও সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা। স্মারকলিপিতে গত তিন মাসে অন্তত ২৬টি নির্যাতনের ঘটনা এবং ১১টি এফআইআর নথিভুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, আরও বেশ কিছু ঘটনা ভুক্তভোগীদের ভয় বা নানা কারণে পুলিশের কাছে নথিভুক্ত হয়নি। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে প্রার্থনা সভায় হামলা, উপাসনাস্থলে ভাঙচুর, ধর্মীয় সামগ্রী নষ্ট করা এবং খ্রিস্টান ধর্মযাজক ও উপাসকদের হেনস্থা।
পুতুলের আরও অভিযোগ, ওই দিন পাড়ার কয়েক জন মহিলা তাঁকে মারধর করেন। তাঁকে ঘরে তালাবন্দি করে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা রাখা হয় বলেও দাবি তাঁর। সেই সময় তাঁর স্বামী কলকাতায় কর্মরত ছিলেন। তাঁকে বাড়িতে আসতে বলা হয়। পরের দিন কাঞ্চন মান্না বাড়িতে ফিরলে ফের প্রতিবেশীদের সঙ্গে বচসা বাধে এবং তাঁকে মারধরের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। কাঞ্চনের দাবি, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তাঁর প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা ছিল।
পরিবারটির দাবি, প্রায় আট বছর ধরে তাঁরা খ্রিস্টধর্ম পালন করছেন। এত দিন তাঁদের নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি পরিস্থিতি বদলেছে। পুতুল ও কাঞ্চনের অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাঁদের উপর অত্যাচার শুরু হয়েছে। পুতুল মান্নার বক্তব্য, তিনিও বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, এই দল ক্ষমতায় এলে যে তাঁদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটবে ভাবতে পারেননি। পুতুল মান্না আরও বলেন, পাড়া প্রতিবেশীকে তিনি ভালোবাসেন। সবার সঙ্গে মিলেমিশেই থাকতে চান।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Tantra of Bengal: শিবচন্দ্র উডরফের মধ্যে তন্ত্রসাধনার উপযুক্ত লক্ষণগুলি দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি উডরফকে তন্ত্রমতে দীক্ষা দেন।
১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পরপর তিন দিন আক্রমণ ও হুমকির অভিযোগের পর পুলিশকে বিষয়টি জানান পুতুল-কাঞ্চন। বর্তমানে তাঁদের বাড়ির সামনে দু’জন সিভিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। খ্রিস্টীয় সংগঠনের কাছ থেকেও আইনি সহায়তা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগ, মান্না পরিবারের দেখাদেখি গ্রামের আরও একটি পরিবার প্রায় তিন-চার বছর ধরে খ্রিস্টধর্ম পালন করছিল। সেই পরিবারের উপরেও স্থানীয়দের একাংশ চড়াও হয় বলে দাবি পুতুলের। ভয়ের কারণে ওই পরিবার সনাতন ধর্মে ফিরে আসার কথা জানিয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ, গত তিন মাসে রাজ্যজুড়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের উপর প্রায় ২৬টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বহু ঘটনা ভয়ের কারণে পুলিশের কাছে নথিভুক্ত হয়নি বলেও দাবি খ্রিস্টান সংগঠনগুলির।
দক্ষিণ ভাটোরার মান্না পরিবারের অভিযোগ সামনে আসার পর তাই শুধু একটি পরিবারের নিরাপত্তাই নয়, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে খ্রিস্টীয় সংগঠনের তরফে।








