অভিজিৎ একা নন, আদালত থেকে সরাসরি রাজনীতিতে এসেছেন যে সব বিচারপতিরা

Judges in Politics : সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বহরুল ইসলাম অবসর নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে পদত্যাগ করে বরপেটা থেকে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে লড়েন।

inscript
৩ মিনিট
অভিজিৎ একা নন, আদালত থেকে সরাসরি রাজনীতিতে এসেছেন যে সব বিচারপতিরা

কলকাতা হাইকোর্টে এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু বিচারপতি থাকা অবস্থাতেই পদত্যাগ ঘোষণা করে রাজনৈতিক ময়দানে নামার ঘটনা ভারতে নতুন নয়। এর আগেও যে তর্ক হয়েছে, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের অবসর ও রাজনীতিতে যোগদানের ঘোষণায় সেই তর্কই উঠেছে ফের। আদালতের প্রাক্তন বিচারকরা কি অবসরের বা পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই কোনও রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দিতে পারেন? ১৯৪৯ সালের ৭ জুন কে টি শাহ গণপরিষদের সামনে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি জানান, সাংবিধানিক আদালতের বিচারকদের অবসর গ্রহণের পরে কোনও কার্যনির্বাহী পদ গ্রহণে বাধা দেওয়া উচিত।

বলা হয়, যিনি সুপ্রিম কোর্ট বা ফেডারেল কোর্ট বা কোনও হাইকোর্টের বিচারক পদে থেকেছেন ৫ বছর ধরে, তাকে কেন্দ্রের কোনও রাজ্যের সরকারের অধীনে ভারত সরকারের অধীনস্থ কোনও নির্বাহী অফিসে নিয়োগ করা হবে না। অর্থাৎ রাষ্ট্রদূত, মন্ত্রী, হাইকমিশনার, ট্রেড কমিশনার, হতে পারবেন না। আম্বেদকর কিন্তু বলেছিলেন, “বিচারব্যবস্থা অনেকাংশে নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়: এটি জনগণের অধিকার এবং কিছুটা ভারত সরকারের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত…"। আম্বেদকর উল্লেখ করেছিলেন, ভারতীয় বিচারকরা অপেক্ষাকৃত কম বয়সে অবসর নেন। তাই কোনও পদে থাকার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়াটা আখেরে বোঝা বাড়াবে। তবে, আলোচনা-বিতর্ক সত্ত্বেও অবসর-পরবর্তীকালে বিচারকদের বিষয়ে সাংবিধানিক নীরবতার ইতি ঘটেনি।

১৯৫২ সালে নেহেরু ওড়িশার রাজ্যপাল হিসাবে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি স্যার সৈয়দ ফজল আলিকে নিযুক্ত করেন। এম সি চাগলা ১৯৫৮ সালের ২৬ অক্টোবর বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসাবে অবসর গ্রহণ করেছিলেন। নেহেরু অবিলম্বে চাগলাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং পরে ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার নিযুক্ত করেন। চাগলা নেহেরুর মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রীও হন পরে। ১৯৬৬ সালে ইন্দিরা গান্ধির মন্ত্রিসভায় বিদেশমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন চাগলা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন তমলুক আসন থেকে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রার্থী করবে বিজেপি?

Justice Abhijit Ganguly Tamluk: কাঁথি উত্তর, কাঁথি দক্ষিণ, ভগবানপুর আর খেজুরি বিধানসভা ইতিমধ্যেই বিজেপির দখলে।

ষাটের দশকের শেষের দিকে বিচার বিভাগের সঙ্গে ইন্দিরার দ্বন্দ্ব বাড়তে শুরু করলে, প্রধান বিচারপতি কে সুব্বা রাও ১৯৬৭ সালের ১১ এপ্রিল পদত্যাগ করেন এবং রাষ্ট্রপতি পদে বিরোধী প্রার্থী হন। তবে ইন্দিরার মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেনের কাছে হেরে যান তিনি। সাংবিধানিক আদালতের বিচারক পদত্যাগ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশের এটাই প্রথম বড় ঘটনা। জাকির নিজেও ছিলেন বিচারক।

বিচারপতি কে এস হেগডেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, লোকসভার স্পিকার হিসাবেও কাজ করেছেন। হংস রাজ খান্না এডিএম জবলপুরের মামলার পরে পদত্যাগ করে তিন দিনের জন্য চরণ সিং সরকারের কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কংগ্রেসের আমলে বহরুল ইসলাম, রঙ্গনাথ মিশ্রের মতো বিচারপতিরাও সরাসরি সংসদীয় রাজনীতিতে আসেন।

সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বহরুল ইসলাম ছিলেন অসমের মানুষ। অবসর নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে পদত্যাগ করে বরপেটা থেকে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে লড়েন বহরুল। আটের দশকের সেই সময় অসমে তখন জাতিদাঙ্গার লড়াই, বাঙালিদের উপর নিপীড়ন চলছে। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি চরম বিপাকে। বহরুল ইসলাম ছিলেন রাজ্যসভার সদস্য। তারপরে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগের পর অসম ও নাগাল্যান্ড হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন তিনি। পরে আবার প্রধান বিচারপতিও হন। সেখান থেকে পদত্যাগ করার পর তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট থেকে পদত্যাগ করে তিনি নির্বাচনে লড়েন। তাই দেশের অন্যত্র এমন নজির আগে থেকেই ছিল তবে কলকাতা হাইকোর্টে এর আগে এমনটা ঘটেনি।

১৯৯২ সালে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসাবে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ফাতিমা বেভি এবং ২০১৪ সালে কেরলের রাজ্যপাল হিসাবে সাথশিবমের যোগদান প্রমাণ করে বিচার ব্যবস্থা থেকে সরে এসে অনেকেই দেশের নানা রাজ্যেরই রাজ্যপাল হয়েছেন। বিচারপতি এস আব্দুল নাজিরও ২০২৩ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যপাল হিসাবে নিযুক্ত হন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সরে আসার চার মাসের মধ্যে রঞ্জন গগৈও রাজ্যসভার মনোনয়ন পান।

এই সমস্ত ক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠেছিল বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও তাই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে তাঁর রায়, সিদ্ধান্ত সবই কি তাহলে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ছিল? সাধারণ মানুষ যাকে আইনের 'দেবতা' ভেবেছেন তিনি কি আসলে রাজনীতির আখের গোছাতেই এমন করলেন?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।