কেন তমলুক আসন থেকে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রার্থী করবে বিজেপি?

Justice Abhijit Ganguly Tamluk: কাঁথি উত্তর, কাঁথি দক্ষিণ, ভগবানপুর আর খেজুরি বিধানসভা ইতিমধ্যেই বিজেপির দখলে।

inscript
৩ মিনিট
কেন তমলুক আসন থেকে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রার্থী করবে বিজেপি?

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সাম্প্রতিককালে বাংলার সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ তাঁর মধ্যেই খুঁজে পেয়েছিল 'ত্রাতা'-কে। রাজ্যে শাসক তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন অভিজিৎ। বঞ্চিত, ক্ষুব্ধ মানুষের হয়ে কথা বলার লোক পাওয়া গেছে, যিনি শাসককে ভয় পান না- এমনটাই বিশ্বাস করেছিল আম জনতা। সব ঠিক থাকলে মঙ্গলবার বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেবেন সেই বিচারপতিই। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যাবেন। তৃণমূলে যে যাবেন না সে তো জানাই। সিপিএমের অনেকেই বাকি মানুষের মতো ‘মসিহা’ ভেবেছিলেন অভিজিৎকে। আসলে বিচারপতির ভাবগতিক দেখে তেমনটা মনে হওয়া অস্বাভাবিকও না। তবে বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন বিচারপতি এবং প্রার্থী হচ্ছেন পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক কেন্দ্র থেকে। এই কেন্দ্রে এখন তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারীর পুত্র তথা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। মোক্ষম চাল বিজেপির, নিঃসন্দেহে। কিন্তু তমলুক থেকেই কেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, যে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের মনে আশা জুগিয়েছিলেন অভিজিৎ, সেই প্রার্থীদের একটি বিরাট অংশই পূর্ব মেদিনীপুরের। অনেকে আবার বলছেন, শুভেন্দুর দুই ভাইকেই, সৌমেন্দু এবং দিব্যেন্দুকে লোকসভা ভোটে প্রার্থী করার কথা বিজেপির। সৌমেন্দু কাঁথি থেকে দাঁড়াচ্ছেনও কিন্তু দিব্যেন্দু এখনও তৃণমূলেরই সাংসদ। তবে শাসকদলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক টলমলে। বিচারপতি অভিজিৎকে তমলুকের প্রার্থী না করলে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তুলত তৃণমূল। আপাতত সেই সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দিতে চাইছে বিজেপি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কুণাল ঘোষের পরামর্শেই বিজেপিতে বিচারপতি অভিজিৎ?

Kunal Ghosh - Abhijit Ganguly: বিচারপতির উদ্দেশে কুণাল বলেছিলেন, ‘‘অবসরের বেশি দিন বাকি নেই। তার আগেই আপনি স্বেচ্ছাবসর নিয়ে আসুন না রাজনৈতিক ময়দানে।"

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তে কয়েকটি প্রশ্ন উঠছে স্বাভাবিকভাবেই। তিনি পেশাগতভাবে একজন বিচারপতি। হঠাৎ একদিন সকালে উঠে তিনি বিজেপি হয়ে গেলেন তাও নয়। কোনও রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি ব্যক্তির সমর্পণ বা সমর্থনের প্রক্রিয়া অনেকদিন ধরেই চলতে থাকে। এক্ষেত্রেও তেমনটা হওয়া স্বাভাবিক। তাহলে প্রশ্ন ওঠে মাথায় ও মনে বিজেপির প্রতি সমর্থন নিয়ে এই রাজ্যে শাসকের দুর্নীতির বিচার করছিলেন তিনি? বিচারপতি আসনে বসা অবস্থায় তাহলে তাঁর সব বক্তব্য, সব সিদ্ধান্ত, সব রায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিতই ছিল। আসলে বিজেপির বিচারপতি ছিলেন অভিজিৎ?

অভিজিৎ এর আগে একাধিক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন গেরুয়াপক্ষ সমর্থনের। বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা পুরসভার আইনজীবীর উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘‘দরকার পড়লে যোগী আদিত্যনাথের থেকে কিছু বুলডোজার ভাড়া করুন।’’ ইস্টার্ন কোল্ডফিল্ডের স্কুলের শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ ওঠায় অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় স্কুল কর্তৃপক্ষকে ভর্ৎসনা করে বলেছিলেন, "স্কুল চালাতে না পারলে আদানিকে বেচে দিন।" বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ে তিনি জিতলে বিজেপির বিধানসভা দখলের লড়াইটা সহজ হয়ে যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যোগী আদিত্যনাথ, আদানিই তবে 'আদর্শ' অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের?

Justice Abhijit Gangopadhyay: বিচারপতি অভিজিৎ কলকাতা পুরসভার আইনজীবীর উদ্দেশে বললেন, ‘‘দরকার পড়লে যোগী আদিত্যনাথের থেকে কিছু বুলডোজার ভাড়া করুন।’’

পূর্ব মেদিনীপুরে ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই জয়ের ধারা শুরু হয়েছিল অধিকারী পরিবারের। সেবার তমলুক কেন্দ্রে সেই সময়ের তৃণমূল প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী তৎকালীন সিপিএম সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন। আর কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী শিশির অধিকারীও সিপিএমকে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে তমলুক কেন্দ্রে ফের শুভেন্দু অধিকারী সিপিএম প্রার্থী ইব্রাহিম আলিকে হারিয়ে জেতেন। কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শিশির অধিকারীও জয়ী হন। এর প্রায় আড়াই বছর পর তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী সাংসদ পদ ছেড়ে বিধানসভায় লড়াই করার জন্য পদত্যাগ করায় উপনির্বাচনে তাঁর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী জয়ী হন। ২০১৯ সালের ভোটে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে দিব্যেন্দু অধিকারী জেতেন বিজেপির সিদ্ধার্থ নস্করকে হারিয়ে। আর কাঁথিতেও জেতেন শিশির অধিকারী।

কাঁথি উত্তর, কাঁথি দক্ষিণ, ভগবানপুর আর খেজুরি বিধানসভা ইতিমধ্যেই বিজেপির দখলে। কাঁথি লোকসভা আসনে বিজেপি সৌমেন্দু অধিকারীকে দাঁড় করাচ্ছে। তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে নন্দীগ্রাম, হলদিয়া, ময়না বিধানসভা আছে বিজেপির দখলে। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তমলুক লোকসভা আসনে জিতলে বিধানসভা নির্বাচনে অনেকটা এগিয়ে যাবে বিজেপি। তমলুক কাঁথি ধরেই পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপি নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে চাইছে বলেই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো প্রার্থীকে বাছা, বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।