কলকাতায় সত্যিই বন্ধ গো-মাংস বিক্রি?
West Bengal Beef Sale: কলকাতায় সত্যিই বিফ বিক্রি বন্ধ হয়ে গিয়েছে? নাকি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দাবির সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই? পশ্চিমবঙ্গে গো-মাংস বিক্রি নিয়ে বর্তমানে কী আইন কার্যকর রয়েছে? হোটেল-রেস্তোরাঁ ও মাংসের দোকানগুলিতে আসলে কী পরিস্থিতি?
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে গো-মাংস বিক্রি ও খাওয়া নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, কলকাতার হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে মাংসের দোকান, সর্বত্রই নাকি বিফ বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সত্যিই কি তাই?
পার্ক স্ট্রিট, মারকুইজ স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস, বেকবাগান-সহ কলকাতার একাধিক এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং গো-মাংসের দোকানে ঘুরে যে তথ্য মিলেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বিফ বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে আগের তুলনায় সরবরাহ কমেছে এবং তার প্রভাব পড়েছে বিক্রিতেও।
আসলে পশ্চিমবঙ্গে গো-মাংস বিক্রির উপর কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। রাজ্য সরকার ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ প্রাণীসম্পদ সুরক্ষা আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। এই আইন বহু দশক ধরেই রয়েছে। ২০২৪ সালেও কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর একই আইন কার্যকর করা হয়েছিল।
বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে গাফিলতি করা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই আইনই কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে।
আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সি গবাদি পশুকে জবাই করা যাবে না। এছাড়া কোনো পশু জবাইয়ের আগে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রাণীসম্পদ দফতরের অনুমতি প্রয়োজন। পশুর বয়স ১৪ বছরের বেশি কি না, অথবা সেটি অক্ষম বা প্রজননে অযোগ্য কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় শংসাপত্র দেওয়ার বিধান রয়েছে। কোনো আবেদন অকারণে খারিজ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রাজ্য সরকারের কাছেও অভিযোগ জানাতে পারেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Beef Exporter Electoral Bond: বিজেপি মুখে গো-হত্যা বিষয়ক কড়া নীতির কথা যতই বলুক না কেন গোমাংস রপ্তানিকারকদের থেকে টাকা নিতে কিন্তু কোনও বাধা রাখেনি।
আইনে পশু বলতে গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর এবং মোষকে বোঝানো হয়েছে। পাশাপাশি মাংস ঢেকে বিক্রি করা এবং বাসি মাংস বিক্রি না করার মতো স্বাস্থ্যবিধিও কার্যকর করা হচ্ছে।
বাস্তব পরিস্থিতি জানতে পার্ক স্ট্রিট ও পার্ক সার্কাসের একাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁয় গিয়ে কথা বলল ইনস্ক্রিপ্ট। অলি পাবের হেড অ্যাকাউন্ট নারায়ণ চন্দ্র দাস জানান, বাজারে বিফ পাওয়া গেলে তাঁরা মেনুতেও রাখছেন। গত দু'সপ্তাহ মাংসের সরবরাহ না থাকায় বিফ পরিবেশন বন্ধ ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে এবং বিক্রিও আগের মতো হচ্ছে।
অন্যদিকে ছোট রেস্তোরাঁ ও রোল কাউন্টারগুলির চিত্র কিছুটা আলাদা। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর অনেকেই বিফ নিয়ে কথা বলতে চাননি। পরিচয় গোপন রেখে কিছু গো-মাংস বিক্রেতারা জানান, আগের তুলনায় সরবরাহ অনেক কমে গিয়েছে। এখন তাঁরা ১০ থেকে ১৫ কেজি করে মাংস এনে বিক্রি করছেন।
শহরের একাধিক গো-মাংসের দোকান বাইরে থেকে বন্ধ দেখা গেলেও ভিতরে আলো জ্বলতে দেখা গিয়েছে। কোথাও কোথাও ফাঁক দিয়ে মাংসের টুকরোও চোখে পড়েছে। প্রকাশ্যে গো-মাংস কাটার উপর কড়াকড়ির কারণেই এমন পরিস্থিতি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বেকবাগানের একটি ছোট হোটেলে বিফ আইটেমের খোঁজ করলে কর্মীরা জানান, সবই পাওয়া যাবে। কিন্তু কলকাতায় সরবরাহের অবস্থা জানতে চাওয়া মাত্রই তাঁরা আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি। কিছু দোকান আবার সরাসরি দাবি করেছে, তাদের কাছে এখন বিফ নেই।
এই পরিস্থিতিতে অনেক বিক্রেতারই দাবি, আইন নিয়ে বাড়তি নজরদারি এবং বিতর্কের আবহে তাঁরা প্রকাশ্যে ব্যবসা করতে অস্বস্তি বোধ করছেন। ফলে আগের তুলনায় বিক্রিও কমেছে।
বেকবাগানের এক বিরিয়ানি দোকানদার এমডি জাফার বলেন,
বিফ বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের থেকে কম। মুসলিমরাও বিফ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে, কারণ এটা নিয়ে হিন্দু-মুসলিম হচ্ছে। হিন্দুরা যেহেতু ভগবান মনে করে গরুকে। তাই মুসলিমরা বলছে ঠিক আছে আমরা খাব না। কোরবানি ঈদে আমরা অন্য কিছু কোরবানি দিয়ে দেব।
ফলে কলকাতায় বিফ বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার দাবি বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। তবে সরবরাহে ঘাটতি, প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং সামাজিক বিতর্কের জেরে ব্যবসায়ীদের একাংশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তার প্রভাব পড়েছে বাজারে এবং বিক্রিতেও।









