মোদি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা? সমীক্ষার দাবি কতটা সত্য
Narendra Modi popularity: নরেন্দ্র মোদিকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে দেখানো সাম্প্রতিক মর্নিং কনসাল্ট সমীক্ষা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই রিপোর্টের পদ্ধতি, নমুনা নির্বাচন ও সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে দাবিটির বাস্তব ভিত্তি কতটা শক্তিশালী এবং এটি সত্যিই বৈশ্বিক জনমতের প্রতিনিধিত্ব করে কিনা।
কয়েক মাস অন্তর ভারতীয় মিডিয়ায় একই শিরোনাম ঘুরে ফিরে আসে—‘মোদি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা’। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ডেটা অ্যানালিটিক্স সংস্থা মর্নিং কনসাল্টের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষে অনুমোদনের হার ৬৮ শতাংশ দেখিয়ে তাঁকে শীর্ষে রাখা হয়েছে। এএনআই, ট্রিবিউন ইন্ডিয়া, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ একাধিক সংবাদমাধ্যম এই খবর প্রচার করেছে। একবার খতিয়ে দেখা উচিত, এই দাবির ভিত্তি কতটা মজবুত?
মর্নিং কনসাল্টের ‘গ্লোবাল লিডার অ্যাপ্রুভাল রেটিং ট্র্যাকার’ নামে এই সমীক্ষাটি ২০টির বেশি দেশের নেতাদের অনুমোদন মাপে। মার্চ ২ থেকে ৮ তারিখে তাদের সমীক্ষার তথ্য অনুসারে মোদির অনুমোদন ৬৮ শতাংশ, অসমর্থন ২৬ শতাংশ। সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং দুজনেই ৬২ শতাংশে দ্বিতীয় স্থানে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Narendra Modi Vishwaguru: ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধে ভারত কেন মধ্যস্থতা করতে পারছে না? বিশ্বগুরু হিসেবে তাঁর ভূমিকা শুধুই কল্পনা?
কিন্তু কী ভাবে এই অনুমোদন দেওয়া হয়, একটি মার্কিন অনলাইন নন-প্রোব্যাবিলিটি পোলিং ফার্মের প্রোপ্রাইটারি ট্র্যাকার কি এই কাজে আদৌ সিদ্ধহস্ত?
মনে রাখতে হবে, স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণকারীরা সমীক্ষায় যোগ দেন— সমীক্ষার জন্যে সংগৃহীত তথ্য র্যান্ডম স্যাম্পেল নয়। অর্থাৎ দেশের সমস্ত জায়গার প্রতিনিধিত্ব এই নমুনা করে না। ভারতে ইন্টারনেটের প্রসার অসমান। শহুরে, উচ্চবিত্ত, স্মার্টফোন-ব্যবহারকারী এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় মানুষের প্রতিনিধিত্ব এই ধরনের সমীক্ষায় বেশি হয়। গ্রামীণ, নিম্নবিত্ত, বয়স্ক এবং ডিজিটাল-বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী অনেকাংশে বাদ পড়ে। ফলে এই জরিপ ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না—শুধু অনলাইন ব্য়বস্থাপনায় অতি স্বচ্ছন্দ জনগোষ্ঠীর মতামত প্রতিফলিত করে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Modi Govt’s Advertisement: সরকারি প্রকল্প থেকে কর্মসূচী, প্রচারের ক্ষেত্রে যে ভাবে বিজ্ঞাপনের হাত ধরেছে সরকার, তা কার্যত অভাবনীয়। আর তার পিছনে কোষাগার থেকে খরচ হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
দ্য ওয়্যারের একটি প্রতিবেদন দেখায়, আন্তর্জাতিক তুলনা করাটাও সমস্যাসঙ্কুল। বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনা, জনসংখ্যা, প্যানেলের গুণগত মান, মিডিয়া পরিবেশ এবং উত্তরদাতাদের আচরণ আলাদা। এক দেশের ট্রেন্ড অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে ভুল হতে পারে। আর, সমীক্ষাটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই তৈরি—পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি প্রকাশ করা হয় না। প্যানেলের রচনা, ভাষা-সমর্থন, উত্তরের হার, প্রশ্নের ক্রম—সবকিছুর বিস্তারিত তথ্য সর্বসাধারণের জন্য উপলব্ধ নয়। কাজেই এই তথ্যটি অস্বচ্ছ, একথা বললে ভুল হবে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের সমীক্ষা দেশের ভিতরকার প্রবণতা বোঝার জন্য কাজে লাগলেও, ‘বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা’ বলে ঘোষণা করা অতিরঞ্জিত। যদি বস্তুনিষ্ঠ হতে হতো তবে শিরোনামটি লেখা উচিত ছিল—একটি মার্কিন অনলাইন নন-প্রোব্যাবিলিটি জরিপ সংস্থার ট্র্যাকার অনুসারে মোদি যে দেশগুলির নেতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ অনুমোদন পেয়েছেন।
এই বিতর্ক আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, জনমত সমীক্ষা, একজিট পোলের ফলাফল বোঝার সময় পদ্ধতি ও সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করা চলে না। ভোট আসছে বেশ কয়েকটি রাজ্যে। এখন এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমীক্ষার রিপোর্ট সামনে আসবে আরও বেশি। চোখ কান খোলা রাখা ছাড়া দ্বিতীয় উপায় নেই।






