নেতানিয়াহুকে সরাতে ইহুদি-আরব জোট সরকারের দাবিতে ইজরায়েলে বিক্ষোভ
Benjamin Netanyahu: ৩১ অক্টোবর তেল আভিভে প্রায় ২ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলির যৌথ সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
৩১ অক্টোবর তেল আভিভে প্রায় ২ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলির যৌথ সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
ইজরায়েলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইহুদি ও আরবদের যৌথ সরকার গঠনের প্রশ্ন। সদ্য শেষ হওয়া সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরোধী শিবির সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেলেও সরকার গঠনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আরব রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে জোট করার প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে শনিবার, ৩১ অক্টোবর তেল আভিভে প্রায় ২ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ইহুদি ও আরব রাজনৈতিক দলগুলির যৌথ সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, একই জায়গায় নেতানিয়াহুর সমর্থকদের একটি পাল্টা সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রায় ২০০ জন অংশ নেন। তাঁদের দাবি, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে এবং আরব দলগুলির সমর্থনে সরকার গঠন করা হলে তা দেশের স্বার্থবিরোধী হবে। ফলে নির্বাচনের পর ইজরায়েলের রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তেল আভিভের হাবিমা স্কোয়ারে প্রথমে জমায়েত করেন ইহুদি-আরব ঐক্যের সমর্থকেরা। পরে তাঁরা রাবিন স্কোয়ার পর্যন্ত মিছিল করেন। এই কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিল বামপন্থী নাগরিক সংগঠন ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’। বিক্ষোভকারীদের স্লোগানে উঠে আসে বর্ণবাদের বিরোধিতা এবং ইহুদি ও আরবদের মধ্যে সমান অধিকারের দাবি। তাঁদের স্লোগান ছিল, ‘ইহুদি ও আরবরা শত্রু হতে অস্বীকার করে।’ অন্য একটি স্লোগানে বলা হয়, ‘বর্ণবাদ নয়, ঐক্য চাই।’ মিছিলে আরবি ভাষাতেও শান্তি, স্বাধীনতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, নির্বাচনে যে পরিবর্তনের পক্ষে মানুষ ভোট দিয়েছেন, সেই রায়কে বাস্তবে কার্যকর করতে হবে। শুধু ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সরকার গঠনের আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখলে নির্বাচনের প্রকৃত ফল প্রতিফলিত হবে না। আরব নাগরিকদের ভোটের মূল্য ইহুদি নাগরিকদের ভোটের সমান। তাই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তাঁদের সমান অংশীদার হতে হবে।
উল্লেখ্য, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শাসক জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের সম্মিলিত আসনসংখ্যা ৬৭। ইজরায়েলের সংসদ নেসেটের মোট আসন ১২০। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। অর্থাৎ বিরোধীরা সংখ্যার হিসাবে এগিয়ে থাকলেও তাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Israel election results: নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নেতানিয়াহুর টিকে থাকা ও আইজেনকটের ক্ষমতায় আসা অনিশ্চিত; এমতাবস্থায় আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া শেষ পর্যন্ত কে সরকার গঠন করবে?
বিরোধী শিবিরের ইহুদি-নেতৃত্বাধীন চারটি দল পেয়েছে মোট ৪৮টি আসন। অন্যদিকে, আরব-নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দলগুলির সম্মিলিত আসন ১৯। ফলে আরব দলগুলির সমর্থন ছাড়া বিরোধীদের পক্ষে সরকার গঠন করা কঠিন। নির্বাচনে আরব দলগুলির এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় ৮ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ রা'আম এবং জয়েন্ট লিস্টকে ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এই ভোটের সংখ্যা ৬৪ শতাংশ বেশি।
কিন্তু বিরোধী শিবিরের সব দল আরব রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে সরকার গঠনে আগ্রহী নয়। গাদি আইজেনকটের ইয়াশার, নাফতালি বেনেটের বি'ইয়াখাদ এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইজরায়েল বেইতেনু অতীতে আরব দলগুলির সঙ্গে জোট করার বিরোধিতা করেছে। ইয়াইর গোলানের নেতৃত্বাধীন ডেমোক্র্যাটস পার্টি অবশ্য এই ধরনের জোটের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। ফলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রশ্নে বিরোধীদের মধ্যে ঐকমত্য থাকলেও আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে তাদের অবস্থান এক নয়।
এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে নেতানিয়াহুর নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ। তাঁর লিকুদ পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিদেশি শক্তির মদতে আরব রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে আরব দলগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে। যদিও ইজরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, বিদেশি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের তদন্তের পরিধি সীমিত এবং নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা হয়নি। কাতারও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 
পাল্টা সমাবেশে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নেতানিয়াহুর সমর্থকেরা আরব দলগুলিকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থক বলে আক্রমণ করেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী বর্ণবিদ্বেষী স্লোগানও দেন। এমনকি এক পাল্টা বিক্ষোভকারী ইহুদি-আরব যৌথ সরকারের সমর্থকদের উদ্দেশে আউশভিৎস ও সোবিবোরের মতো নাৎসি বন্দিশিবিরের প্রসঙ্গ টেনে হুমকি দেন।
দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহু আরব রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য সরকার পরিচালনার অংশীদার হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অথচ নির্বাচনের ফলাফল দেখিয়েছে, তাঁদের সমর্থন ছাড়া ক্ষমতার সমীকরণ তৈরি করা কঠিন।
ফলে ইজরায়েলের সামনে এখন দুটি প্রশ্ন। একদিকে, বিরোধীরা কি নিজেদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে রেখে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে? অন্যদিকে, আরব নাগরিকদের ভোটের অধিকারকে কি কেবল নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে, নাকি রাষ্ট্র পরিচালনাতেও তাঁদের সমান অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে?







