‘পুলিশ কোথায় ছিল?’ যাদবপুরে বহিরাগত হামলার অভিযোগে সরব অধ্যাপকরা
Jadavpur University Violence: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতভর সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও বহিরাগত প্রবেশের অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার নন্দলাল বসুর নকশা করা ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার ঘটনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারা ভাঙল এই ঐতিহাসিক ফলক? বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও স্বাধিকার কি প্রশ্নের মুখে? পুলিশের ভূমিকা নিয়েই বা উঠছে কেন এত প্রশ্ন? ঘটনাটির পিছনে কি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে? একধিক অভিযোগে সরব যাদবপুরের অধ্যাপকরা।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দিনভর উত্তেজনা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং বহিরাগতদের প্রবেশের অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার এবিভিপি-র বিক্ষোভের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটে নন্দলাল বসুর নকশা করা ঐতিহ্যবাহী ফলক ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। গোটা ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রাক্তন অধ্যাপকদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও স্বাধিকারের প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই ফলক ভাঙার ঘটনাকে ঘিরে উঠে এসেছে ঐতিহ্য এবং জাতীয়তাবাদী ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জুটা-র সভাপতি পার্থ প্রতিম রায় ইনস্ক্রিপ্টকে বলেন, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মতাদর্শগত মতপার্থক্য বা সংঘাত নতুন নয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই এমন বহিরাগতদের ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর কথায়, “রাত সাড়ে বারোটার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়ে বাইরের কিছু লোক, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই, তারা এসে ভাঙচুর করা ও অগ্নিসংযোগ করাটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খুব খারাপ এবং সামগ্রিকভাবে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার জন্যও এটা ভালো বিজ্ঞাপন নয়।”
বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে পার্থ প্রতিম রায় আরও বলেন, “একদল বহিরাগতরা আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের উপরে উঠল, তারপরে ভেতরে জলের বোতল, ডিম ছুড়ল এবং তার সঙ্গে সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে লোগো, সেটাকে ভেঙে দিল। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়কেও কিন্তু অপমান করছে এরা।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে বাইরে থেকে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তাঁর বক্তব্য, “আমরা চাই পড়াশোনা, গবেষণার পরিবেশ বজায় থাকুক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে সমস্ত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হোক।”
গত রাতের অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের প্রসঙ্গেও সরব হন জুটা সভাপতি। তাঁর কথায়, “বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা গবেষণার জায়গা। নিশ্চয়ই বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকবে, চর্চা থাকবে, কিন্তু কখনওই এই রকম একটা ভ্যান্ডালিজম হতে পারে না, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আক্রমণ এরকম হতে পারে না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলেন পার্থ প্রতিম রায়। স্থানীয় বিধায়কের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু যাদবপুর যে কনস্টিটিউয়েন্সি, তার মধ্যে পড়ে না। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কসবা কনস্টিটিউয়েন্সির মধ্যে পড়ে। তাহলে হঠাৎ করে তিনি কেন বলছেন, কেন ঢুকছেন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সেটা জানা নেই।”
গোটা ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে জুটা। পার্থ প্রতিম রায়ের বক্তব্য, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আক্রমণ, বহিরাগতদের ওপর আক্রমণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ভেঙে দেওয়া—এই ধরনের আক্রমণের আমরা তীব্র বিরোধিতা করছি এবং নিন্দা করছি। আমরা দাবি জানাচ্ছি, যারা বাইরের এসব করছে তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।”
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হামলা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যাপক মানস ঘোষ। চলচ্চিত্র বিভাগের এই অধ্যাপকের বক্তব্য, “একটা বিশ্ববিদ্যালয় যদি এইভাবে বাইরে থেকে অছাত্ররা আক্রমণ করতে থাকে, তাহলে তো বিশ্ববিদ্যালয় চালানোটাই মুশকিল হয়ে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠন-পাঠন, গবেষণা তখনই ভালোভাবে হয়, যখন বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজের মতো করে তার স্বাধিকার রক্ষা করে চলতে পারে।”
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
August 19 violence in Jadavpur University: ১৯ আগস্ট রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদী ছাত্রসংগঠনের হামলায় আহত হলেন ২৩ জন শিক্ষার্থী। অরবিন্দ ভবনে আটক থাকলেন, 'জয় শ্রী রাম' ধ্বনি শুনলেন, পুলিশের নীরবতা প্রত্যক্ষ করলেন। এসব ঘটনা, এক শতাব্দী আগে নাৎসি জার্মানিতে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দেয়। ভারতীয় শিক্ষাক্ষেত্রের স্বায়ত্তশাসন কি আজ সেই পথে হেঁটেই বিপন্ন হওয়ার মুখে?
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মানস ঘোষ বলেন, “পুলিশের একটা ভূমিকা থাকার দরকার ছিল। পুলিশের অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে এই মব, এই উন্মত্ত জনতাকে আটকানো দরকার ছিল। সেটা তারা আটকায়নি।”
তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে আসা লোকজন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়ার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পদক্ষেপ হয়নি। তিনি বলেন, “ভেতরে এত মানুষ, তারা সশস্ত্র, তারা ঢুকে পড়লেন, ছাত্রদের আক্রমণ করলেন, এমনকি অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিংয়ের সামনে যে আগুন জ্বালিয়ে একটা ছাত্রদের মারধর করছেন, গেট ভাঙার চেষ্টা করছেন—এটা যদি চলতে থাকে তাহলে তো শিক্ষা-দীক্ষার ব্যবস্থাটা উঠে যাবে।”
স্থানীয় বিধায়কের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মানস ঘোষ। তাঁর কথায়, “একজন বিধায়ক তিনি তাঁর অঞ্চলে যাতে সুষ্ঠুভাবে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় চলে, যাতে নাগরিক ব্যবস্থা পরিষেবাগুলো ভালোভাবে চলে, সেটা দেখা তার কাজ।”
এরপরই তিনি বলেন, “তিনি যদি একটা মবকে নেতৃত্ব দেন দিয়ে এসে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন এবং তার ভূমিকা নিয়ে লোকে প্রশ্ন করতে থাকে, তাহলে সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তাহলে বলতে হবে যে গণতন্ত্র খুব বিপন্ন, কারণ বিধায়কের কাজ গণতন্ত্রকে রক্ষা করা, তার বদলে তিনি যে কাজ করেছেন তাতে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে।”
অন্যদিকে অধ্যাপিকা নন্দিনী মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও উঠে এসেছে অরবিন্দ ভবনে অগ্নিসংযোগ এবং বহিরাগতদের প্রবেশের অভিযোগ। তিনি বলেন, “বুধবার যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত নক্কারজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে যে অরবিন্দ ভবন আমাদের এত ঐতিহ্যের সাক্ষী, সেখানে আগুন জ্বালানো হচ্ছে—এটা আমাদের ভাবনার একেবারে বাইরে।”
ছাত্রদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, “বাইরে থেকে গুন্ডারা ঢুকে ছাত্রদের পোস্টার ও পতাকায় আগুন লাগানো এবং তা বাড়িয়ে চলেছে। এটি একপ্রকার তাণ্ডব। এর পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের ওপর বহিরাগত গুন্ডারা এসে হাত তুলছে। এটি চিন্তার বাইরে।”
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সেগুলো মিটিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষ আছেন। তাহলে বাইরে থেকে কেন লোক ঢোকানো হলো গুন্ডামি করার জন্য? এটি রাজ্য সরকারের কাছে এবং যাদবপুর থানার পুলিশের কাছে আমার প্রশ্ন।”
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Jadavpur University Violence: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার রাতের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত? ক্যাম্পাসে কীভাবে এত সংখ্যক বহিরাগত ঢুকল? নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কি কোনো গাফিলতি ছিল? এবিভিপি ও এসএফআইয়ের পৃথক বিক্ষোভে কেন ফের উত্তেজনা ছড়াল? সিসিটিভি ফুটেজে কি মিলবে ঘটনার আসল ছবি? উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি এবং পুলিশি অভিযোগের পর কি সামনে আসবে প্রকৃত সত্য?
নন্দিনী মুখোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, “পুলিশ কোথায় ছিল যখন বাইরে থেকে গুন্ডারা ঢুকছিল?”
বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে ৪ নম্বর গেটে নন্দলাল বসুর নকশা করা ঐতিহ্যবাহী ফলক ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় সরব হয়েছেন বাংলার অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিংহ। তিনি বলেন, “এই প্রতীকটা পায়ে মাড়ানো হয়েছে। এই প্রতীকটা জাতীয় গৌরবের প্রতীক। এটা শতদল, বিকশিত পদ্ম—যার একটা মানে আছে, তাৎপর্য আছে। এর মাঝে একটা প্রদীপ, তার তিনটে শিখা—এরও একটা অর্থ আছে।”
ফলক ভাঙার ঘটনায় আক্ষেপ প্রকাশ করে রাজ্যেশ্বর সিংহ বলেন, “যারা এই সম্মান, গৌরবকে পদদলিত করেন, মাড়িয়ে যান, তারা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যকে সম্মান করেন না; তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে স্পিরিট, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের লিগ্যাসি—তাকে তারা সম্মান করেন না।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষক হিসেবে এটা আমার কাছে খুবই অপমানকর, অবমাননার। আমি প্রশাসনের, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—এর যেন সুরাহা হয়, বিচার হয়।”
ফলকটি কারা ভেঙেছে, সে বিষয়ে অবশ্য সরাসরি কাউকে দায়ী করতে চাননি রাজ্যেশ্বর সিংহ। তাঁর বক্তব্য, “কে করেছেন আমি তাকে দেখিনি বা জানি না। কিন্তু যে মব এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাটাক করতে এসেছিল, তাদের দ্বারাই এটা করা। তারাই এটা ছুড়েছে।”
তাঁর মতে, ফলকটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব না বোঝার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যেশ্বর সিংহ বলেন, “এই ঐতিহ্যকে চিনতে হবে। যারা দেশের জাতীয়তাবাদের, আমার দেশের যারা ভাবাবেগ এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন, যারা জানেন না—তারা এই অসম্মাননা, অবমাননা করেন।”
তবে ফলক ভাঙার সঙ্গে এবিভিপি-র ছাত্রদের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি তাকে দেখিনি বা জানি না।” ফলে তাঁর বক্তব্যে ফলক ভাঙার ঘটনায় নির্দিষ্ট কোনও সংগঠনকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি।
গোটা ঘটনাকে আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধু নিরাপত্তার নয়, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধিকার এবং মুক্তচিন্তার পরিসরের সঙ্গেও যুক্ত।
তাঁর বক্তব্য, “এটা নিরাপত্তার বিষয় শুধু নয়। বিষয়টা হচ্ছে ভারতবর্ষে কেন্দ্রীয় সরকার, মোদীর নেতৃত্বে যে সরকার এবং আমাদের রাজ্যে অতীতে যে মমতা ব্যানার্জীর সরকার ছিল... তাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার যে সর্বগ্রাসী পরিকল্পনা, তার অঙ্গ হিসেবে কয়েকটি ইনস্টিটিউশনকে ওরা বেছে নিয়েছিল আক্রমণের লক্ষ্য হিসেবে।”
যাদবপুর, জেএনইউ, হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এবং প্রেসিডেন্সির মতো প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিয়ে অম্বিকেশ মহাপাত্র বলেন, “যেখানে তর্ক-বিতর্ক, মুক্তচিন্তার পরিসরটা অনেক বেশি দিন ধরে বেশি ভাবে চলছে... সেখানে শাসক দল তার দখলদারি কায়েম করতে পারছে না।”
২০১৪ সালের যাদবপুরের ঘটনার প্রসঙ্গও টেনে তিনি বলেন, “এর আগেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে গুন্ডাবাহিনী আক্রমণ করেছিল ২০১৪ সালে, যার প্রেক্ষিতে ‘হোক কলরব’ হয়েছিল।”
এবারের ঘটনাকেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর রাজনৈতিক দখলদারির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়, “সামগ্রিকভাবে সারা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা, মুক্তচিন্তার যে তর্ক-বিতর্ক করার যে বৌদ্ধিক জায়গাগুলো আছে, উৎকর্ষ কেন্দ্রগুলো আছে, সেগুলোতে কিন্তু তারা দখলদারি বাইরে থেকে নিতে পারছে না নিজেদের মতো করে, তখন তার চেষ্টাটা রাতের আঁধারে করার একটা প্রয়াস।”
নন্দলাল বসুর নকশা করা ফলক ভাঙার ঘটনাতেও একই রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রাক্তন অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র। তাঁর বক্তব্য, “এখন যে দখলদারি রাজনীতি চলছে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে নবনির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে, সেখানে তো এগুলো স্বাভাবিক।”
অতীতেও যাদবপুরে ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাতে মূলত ছাত্র সংসদ না থাকা সত্ত্বেও জিবি কেন হবে? এই নিয়েই ঝামেলার সূত্রপাত বলে খবর। এবিভিপি বান ছাত্র সংগঠনের উপর আক্রমণের অভিযোগ করে। পাল্টা ছাত্রদের অভিযোগ এবিভিপি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে রাতভর। যাদবপুরের বিধায়কের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। উপরোক্ত যাদবপুরের ৪ নম্বর গেটে ঐতিহাসিক ফলক ভাঙার ঘটনা বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছে। কারা সেটি ভেঙেছে এবং কীভাবে ঘটল সেই ভাঙচুর তদন্তে কী উঠে আসে সেদিকেই এখন তাকিয়ে সবাই। পাশাপাশি, অধ্যাপকদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার, নিরাপত্তা, বহিরাগতদের প্রবেশ এবং ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্ন।









