যাদবপুরে বুধবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? ভয়ঙ্কর বর্ণনা উঠে এল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর জবানবন্দীতে

Jadavpur University Violence: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার রাতের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত? ক্যাম্পাসে কীভাবে এত সংখ্যক বহিরাগত ঢুকল? নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কি কোনো গাফিলতি ছিল? এবিভিপি ও এসএফআইয়ের পৃথক বিক্ষোভে কেন ফের উত্তেজনা ছড়াল? সিসিটিভি ফুটেজে কি মিলবে ঘটনার আসল ছবি? উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি এবং পুলিশি অভিযোগের পর কি সামনে আসবে প্রকৃত সত্য?

Sangita Ghorai
৩ মিনিট
যাদবপুরে বুধবার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? ভয়ঙ্কর বর্ণনা উঠে এল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর জবানবন্দীতে

আরও একবার সংবাদ শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ, ক্যাম্পাসে ভাঙচুর এবং বৃহস্পতিবার এবিভিপি ও এসএফআইয়ের পৃথক বিক্ষোভকে ঘিরে দিনভর উত্তপ্ত রইল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসে ভাঙচুর এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে যাদবপুর থানায় পুলিশি অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের তরফে জানানো হয়েছে, ১৯ অগাস্ট রাত এবং ২০ অগাস্টের ঘটনাগুলির তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে। শুক্রবার ২১ অগাস্ট দুপুরের আগেই কমিটি গঠন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের চিহ্নিত করতে ১৯ অগাস্ট রাতের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে। পরে সেই ফুটেজ তদন্ত কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে। বেআইনিভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা বহিরাগতরা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, কারা ভাঙচুরে জড়িত ছিল, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তায় ত্রুটি ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য।

বুধবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনে ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র সংগঠন ফেটসুর ডাকে একটি জিবি মিটিং চলছিল। এবিভিপির অভিযোগ, যেহেতু ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি, তাই কীভাবে জিবি মিটিং ডাকা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই প্রথমে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং এবিভিপির মধ্যে বচসা শুরু হয় বলে অভিযোগ। পরে পরিস্থিতি হাতাহাতি এবং সংঘর্ষের দিকে গড়ায়।

অভিযোগ, এরপর একদল মানুষ অরবিন্দ ভবনে ঢুকে পড়েন। সেখানেও উত্তেজনা ছড়ায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যাদবপুর থানার সামনেও বিক্ষোভ শুরু হয়। ছাত্র সংগঠনগুলির নেতাদের মধ্যে চলতে থাকে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যাদবপুরের র‍্যাগিং সংস্কৃতি: মুখে বিপ্লব বুলি, রাত বাড়লেই শুরু দাদাগিরি

Jadavpur University Ragging: বারবার, রোজ রোজ ঘটে এমন ঘটনা। দু-চারদিন আলোচনা হয়, তার পর সেই চর্চায় পলি পড়ে যায়। আবার কোনও স্বপ্নদীপের মৃত্যু তুলে দিয়ে যায় প্রশ্ন, ফের তা ধামাচাপা পড়ে যায়।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। সেখান থেকে তিনি যাদবপুরের শিক্ষক সংগঠন এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিকে নিশানা করে কড়া মন্তব্য করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অনুষ্ণা দাসের বক্তব্য, ঘটনাটি শুধুমাত্র দুই পক্ষের মধ্যে বচসা বা হাতাহাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর অভিযোগ, বুধবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বাইরে থেকে একদল লোক ক্যাম্পাসে এসে পড়ুয়াদের উপর হামলা চালায়।

অনুষ্ণার দাবি, হামলাকারীদের হাতে বাঁশ ছিল। এমনকী ক্যাম্পাসের বাইরে খাবার খেতে থাকা কয়েকজন পড়ুয়াকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। গুরুতর আহত হয়ে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এরপর প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি বাইকে করে প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জনের একটি দল ক্যাম্পাসের চার নম্বর গেটের দিকে জড়ো হয়েছিল বলে দাবি ওই ছাত্রীর। তাঁর বক্তব্য, ওই দলটি পড়ুয়াদের দিকে তেড়ে আসায় নিরাপত্তার কারণে অনেকে পালিয়ে অরবিন্দ ভবনে আশ্রয় নেন।

অরবিন্দ ভবনে আশ্রয় নেওয়া পড়ুয়াদের অভিযোগ, বাইরে থেকে আসা লোকজন সেখানে গেট খুলে ঢোকার চেষ্টা করে। তাঁদের দিকে গালিগালাজের পাশাপাশি ইট-পাটকেল, বোতল এবং জ্বলন্ত কাঠের টুকরো ছোড়ার অভিযোগও করেছেন অনুষ্ণা। তাঁর দাবি, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ধরে এই পরিস্থিতি চলে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সিসিটিভি বসালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অসুবিধাটা কোথায়?

Jadavpur University CCTV: প্রগতিশীলতার বা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার নামে আসলে কী চলে এখানে? নজর রাখা দরকার।

অনুষ্ণার অভিযোগ, হামলাকারীরা ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘জয় শ্রী রাম স্লোগান’ দিতে দিতে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। তাঁর দাবি, কয়েকজন গেরুয়া পতাকা নিয়ে এসেছিলেন এবং পতাকা জ্বালিয়ে পড়ুয়াদের দিকে ছোড়া হয়।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে হামলাকারীদের সঙ্গে বিজেপি, আরএসএস বা এবিভিপির যোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। যদিও বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এবিভিপি-র সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই। বিজেপির ছাত্র সংগঠন নেই।

রাতের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়ারা। অনুষ্ণার দাবি, ক্যাম্পাসে একাধিক নিরাপত্তারক্ষী থাকার কথা থাকলেও হামলার সময় সেখানে কোনও নিরাপত্তারক্ষীকে দেখা যায়নি।

কীভাবে এত সংখ্যক বহিরাগত ক্যাম্পাসে ঢুকল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের আটকানো গেল না কেন, এই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে। পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ফোন করেও তাঁরা সাড়া পাননি।

পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও পুলিশ কিছুটা দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বলে দাবি করেছেন অনুষ্ণা। পরে পড়ুয়াদের ক্যাম্পাস ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলা হলেও বাইরে জড়ো হয়ে থাকা লোকজনের কারণে নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁরা অরবিন্দ ভবনেই থেকে যান বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার রাতের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে উত্তেজনা বজায় থাকে। নিজেদের দাবিতে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করে এবিভিপি এবং এসএফআই। দুই পক্ষের মিছিলকে কেন্দ্র করেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং দুপক্ষের মধ্যে সম্মুখ সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার পড়ুয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর এবং রেজিস্ট্রারের কাছে নিরাপত্তা নিয়ে জবাবদিহি দাবি করেন। পড়ুয়াদের অভিযোগ, এত বড় ঘটনা ঘটার পরও উপাচার্যকে তাঁরা ক্যাম্পাসে পাননি। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের কাছেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি বলে দাবি তাঁদের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে এবার তদন্তের পথে হাঁটছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৯ অগাস্ট রাতের ঘটনার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে। বহিরাগতদের বেআইনি প্রবেশ, ভাঙচুর, সম্পত্তি নষ্ট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য গাফিলতি, সবকিছুই খতিয়ে দেখা হবে।

কর্তৃপক্ষের তরফে থানায় অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ফলে সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনায় কারা যুক্ত ছিল, তদন্তে কী উঠে আসে সেদিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে আপাতত।

এদিকে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরাতে আগামী সোমবার দুপুর ৩টেয় সিআর-১-এ বৈঠক ডেকেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সমস্ত পক্ষকে সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য ডাকা হয়েছে।

লিখেছেন
Sangita Ghorai
Sangita Ghorai
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘গ্রাহক পঞ্চায়েত’-এর সভায় ছুরি কোথা থেকে এল?

SRFTI Kolkata clash: সমাজমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে—এক ব্যক্তি হঠাৎ পিছন থেকে এসে এক শিক্ষার্থীকে সজোরে লাথি মারছে। অথচ ঠিক সেই মুহূর্তেও পিছনের দেওয়ালে ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া ব্যানারটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঝুলছিল। অর্থাৎ, যে ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগকে সামনে এনে এত প্রচার চালানো হচ্ছে, তখনো পর্যন্ত সেই ব্যানারে কোনো আঁচড়ও পড়েনি।

চার-পাঁচ বছর নিয়েছিল তৃণমূল, বিজেপি মাত্র চারমাস

SRFTI incident: গোটা দেশে যখন মানুষের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ ঘটতে শুরু করেছে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এল। অথচ একসময় গর্বের সঙ্গে বলা হতো—“হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো।” আজ তা যেন উল্টে গিয়েছে।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রভাবেই বদলে গিয়েছিল ভোটের অঙ্ক?

West Bengal SIR and Election Results: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ২১৫ থেকে ৮০ আসনে নেমে যাওয়া এবং বিজেপির ২০৭ আসনে জয়—এই ফলের সঙ্গে SIR-এর প্রভাব কতটা?

প্রযুক্তির যুগেও কেন জরুরি বিজ্ঞানমনস্কতা, দাভোলকার যে প্রশ্ন তুলে দেয়

Narendra Dabholkar: নরেন্দ্র দাভোলকারের হত্যার ১৩ বছর পরেও কেন প্রাসঙ্গিক বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবাদ? কুসংস্কার, ভুয়ো তথ্য ও অন্ধ আনুগত্যের বিরুদ্ধে কীভাবে গড়ে উঠবে মানবিক, যুক্তিনির্ভর সমাজ?

মাতঙ্গিনী হাজরা ও তমলুকের বিদ্রোহ: এক বৃদ্ধার মৃত্যু যেভাবে বদলে দিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ

Matangini Hazra death: ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২। তমলুক শহরের দিকে পাঁচ দিক থেকে ধেয়ে এল জনতার উত্তাল মিছিল। সরকারি দপ্তর ঘিরে ফেলতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের এক বিরাট বাহিনী এগিয়ে আসছিল শহরের উত্তর দিক থেকে—ফৌজদারি আদালতের পথ ধরে। আর সেই বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন প্রায় বাহাত্তর বছর বয়সি মাতঙ্গিনী হাজরা।

কুম্ভের রাস্তা চওড়া করতে ভাঙা পড়ল মসজিদ, উজ্জয়িনীর ঘটনায় উঠছে যে প্রশ্ন

Legal Battle of ujjain's Shahi masjid: ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার প্রস্তুতিতে উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদের তিন ফুট অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের ২৭২টি ভবনের তালিকায় রয়েছে ৮০টিরও বেশি ধর্মীয় স্থাপনা। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও রাতভর আলোচনার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। ছত্রি চকে ছোড়া হয় পাথর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে ছুড়তে হয় কাঁদানে গ্যাস।

তিন বছরেও থামেনি, মণিপুরে ফের যেভাবে বাড়ছে সহিংসতা

Manipur Violence 2026: গত ২৬ সেপ্টেম্বর সেনাপতি জেলায় দুই নাগা নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনা সামনে আসে। তার দু'দিন আগে কামজং জেলার পিলং এলাকায় পৃথক হামলায় চার জন টাংখুল নাগা নাগরিক নিহত হন। এই পরিস্থিতিতে নাগা সংগঠন ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (ইউএনসি) চার মাস ধরে চলা জাতীয় সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করলেও রাজ্যে হিংসা থামার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।

নাৎসি জার্মানি থেকে FTII–SRFTI: ফিল্ম স্কুল কেন ক্ষমতার চোখে এত গুরুত্বপূর্ণ?

History of Film school's against Fasicsm: ১৯৩৩ সালে নাৎসিরা ভাঙচুর করেছিল বার্লিনের ফিল্ম স্কুল টনফিল্মশুলে। ১৯৩৫ সালে মুসোলিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন ইতালির ফিল্ম স্কুল সিএসসি। ২০১৫ সালে ভারতে পুনের এফটিআইআইতে মোদী সরকারের নিয়োগ বিষয়ক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৩৯ দিনের ধর্মঘট হয়েছিল। ২০২৬-এ কলকাতার এসআরএফটিআইতে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইট-পাথরের হামলা সেই ইতিহাসকেই পুনরাবৃত্ত করল। হামলার পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের উদ্দেশ্য আজও একই, স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চাকে নিয়ন্ত্রণ করা। যদিও ইতিহাস বলে, ফিল্ম স্কুল কেবল একটি ভবন নয়, একটি ধারণা, একটি মতাদর্শিক বলয়।