কেন ফের শাস্তির মুখে জাফর পানাহি?
Panahi on Trial: কান-জয়ী ইরানি পরিচালক জাফর পানাহিকে তেহরানের রেভোলিউশনারি কোর্ট নতুন মামলায় পাঁচ বছর এক মাসের কারাদণ্ড ও সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে। দু'বছরের বিদেশ ভ্রমণ ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
প্যারিসের কান চলচ্চিত্র উৎসবে গত বছর ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ ছবির জন্য গোল্ডেন পাম জয়ী, ইরানি পরিচালক জাফর পানাহিকে নতুন করে পাঁচ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে তেহরানের রেভোলিউশনারি কোর্ট। আদালত তাঁর সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশও দিয়েছে। পাশাপাশি দু'বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে নতুন এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ এখনও প্রকাশ করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।
এই রায়ের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক, এটি পানাহির অনুপস্থিতিতে (ইন অ্যাবসেন্টিয়া) দেওয়া হয়েছে। তাঁর আইনজীবী মোস্তফা নিলির দাবি অনুযায়ী, শুনানির তারিখ সম্পর্কে পানাহিকে আগে জানানো হয়নি। গত সপ্তাহে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর তিনি এই রায়ের কথা জানতে পারেন। ইতোমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
৬৬ বছর বয়সি জাফর পানাহি ইরানের চলচ্চিত্র জগতের একজন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে তিনি একাধিক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতেছেন, কান থেকে গোল্ডেন পাম, ভেনিস থেকে গোল্ডেন লায়ন এবং বার্লিন থেকে গোল্ডেন বেয়ার। তবে তাঁর বানানো সিনেমাগুলির বেশিরভাগই, তার নিজের দেশে নিষিদ্ধ। ২০১০ সালে তাঁকে ২০ বছরের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ, চিত্রনাট্য লেখা এবং বিদেশ ভ্রমণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই তিনি গোপনে সিনেমা বানিয়ে যাচ্ছেন।
পানাহির বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, ‘সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা’। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এই অভিযোগেই তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই বছরের বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। নতুন এই রায়টি সেই মামলা থেকে আলাদা। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত তাঁকে ,ধরাছোঁয়ার বাইরে’ বলে উল্লেখ করেছে, যদিও তিনি এবছর ৩০ মার্চ ইরানে ফিরে আসেন। অগাস্ট মাসে একটি তদন্তকারী আদালতে হাজিরও হয়েছিলেন।
এই রায়কে অনেকেই ইরানের শাসনব্যবস্থার দ্বারা, ভিন্নমত দমনের একটি চলমান কৌশল হিসেবে দেখছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা’র অভিযোগটি প্রায়শই শিল্পী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশকে সাংবিধানিকভাবে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। কারণ এতে সম্পত্তির ভূমিকা ও অপরাধের মধ্যে স্পষ্ট আইনি সম্পর্ক দেখানো হয়নি।
এই রায়ের পর ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। নির্বাসিত ইরানি অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকি বলেছেন,
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Jafar Panahi: তাঁর ‘ইট অয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ সম্প্রতি কান ফিল্ম ফেস্টিভালের শ্রেষ্ঠ সম্মানে ভূষিত হয়েছে। তিরিশ বছর আগে, এক নিষ্পাপ শিশুগল্প নিয়ে পানাহি তৈরি করেছিলেন তাঁর প্রথম ছবি ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’।
একনায়কতন্ত্রের সবচেয়ে বড় ভয়, মানুষের বলা গল্পের উপর তার নিয়ন্ত্রণ হারানো। জাফর পানাহি তাঁর গল্প বলেছেন, আর তাঁর সাজা প্রমাণ করে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র এই গল্প বলার কাজটিকেও কতটা ভয় পায়।
ইরানের ভেতরে গোপনে সিনেমা নির্মাণরত এক পরিচালক জানিয়েছেন, পানাহি তাদের গর্বের প্রতীক, কারণ তিনি চুপ করে থাকেননি। পানাহি নিজে আগেই বলেছিলেন,
আমি এমন একজন মানুষ যাকে নিজের দেশে থাকতে হবে। আমি সেখানকার বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে চাই, কাজ করতে চাই। তারা যদি এই কারাদণ্ড কার্যকর করতে চায়, করতে পারে। দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আমি কখনও নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না।
তাঁর এই অবস্থান এবং চলমান সৃজনশীল প্রতিরোধ, ইরানে সাংস্কৃতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠছে।
সূত্র:
বাংলা টেলিগ্রাফ। ২০২৬, ২৮ অক্টোবর। ফের কারাদণ্ডের মুখে কানজয়ী নির্মাতা জাফর পানাহি।
টিবিএস নিউজ। ২০২৬, ২৮ অক্টোবর। স্বর্ণপামজয়ী ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহির নতুন করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ।
প্রথম আলো। ২০২৬, ২৯ অক্টোবর। ইরানে স্বর্ণপামজয়ী নির্মাতাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ।
দ্য হিন্দু। ২০২৬, ২৮ অক্টোবর। জাফর পানাহি সেন্টেন্সড টু ফাইভ ইয়ার্স ইন প্রিজন ইন ইরান, ফেসেস নিউ রুলিং অন টপ অব প্রিভিয়াস ওয়ান-ইয়ার কনভিকশন।
টিবিএস নিউজ। ২০২৬, ২৮ অক্টোবর। ইরানিয়ান ফিল্মমেকার জাফর পানাহি গেটস ফ্রেশ ৫-ইয়ার জেইল সেন্টেন্স, অ্যাসেট কনফিসকেশন অর্ডারড।
আউটলুক ইন্ডিয়া। ২০২৬, ২৮ অক্টোবর। কানস উইনার জাফর পানাহি হ্যান্ডেড ৫-ইয়ার সেন্টেন্স ইন ইরান।








