রাষ্ট্রের স্বৈরাচারের সামনে আজও একরোখা জাফর পানাহি

Jafar Panahi: তাঁর ‘ইট অয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ সম্প্রতি কান ফিল্ম ফেস্টিভালের শ্রেষ্ঠ সম্মানে ভূষিত হয়েছে। তিরিশ বছর আগে, এক নিষ্পাপ শিশুগল্প নিয়ে পানাহি তৈরি করেছিলেন তাঁর প্রথম ছবি ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’।

Abhirup Mukhopadhyay
৪ মিনিট
রাষ্ট্রের স্বৈরাচারের সামনে আজও একরোখা জাফর পানাহি

নানা ভাবে তাঁর ওপর নজরদারি করে রাষ্ট্র। তবু তিনি তাঁর কাজে অচল। তাঁর কাজ কী? সিনেমা বানানো। সেই সিনেমার মধ্যে দিয়ে নিজের শৈল্পিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে প্রকাশ করা। যে-কোনো আর্টিস্টের ক্ষেত্রে এমনই হওয়া তো উচিত! কিন্তু হয় কি? আজকের গা-বাঁচিয়ে চলা পৃথিবীতে শাসকের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বক্তব্যকে স্পষ্টভাবে ক-জন বলতে পারেন? তিনি পারেন। ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থার বহু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পারেন। তিনি, জাফর পানাহি।

সকলেই জানেন, জাফর পানাহি-র নতুন ছবি ‘ইট অয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ সম্প্রতি কান ফিল্ম ফেস্টিভালের শ্রেষ্ঠ সম্মানে ভূষিত হয়েছে। তিরিশ বছর আগে, এক নিষ্পাপ শিশুগল্প নিয়ে পানাহি তৈরি করেছিলেন তাঁর প্রথম ছবি ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’। একটি বাচ্চা মেয়ের রঙিন মাছ কিনতে যাওয়াকে ঘিরে ঘটে-যাওয়া নানা ঘটনাক্রম সারা পৃথিবীর সিনেমাদর্শকের কাছে এক বিশেষ মুগ্ধতার আসনে বসিয়ে দিয়েছিল পরিচালককে। বলা বাহুল্য, ১৯৯৫ সালে রিলিজ হওয়া এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ইরানের আরেক সিনেমা-জাদুকর আব্বাস কিয়ারোস্তামি। জাফর পানাহি তাঁর পরিচালক-জীবনের প্রথম দিকে বেশ কিছু দিন কিয়ারোস্তামি-র ছবিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছিলেন। এবং কিয়ারোস্তামিকে নিজের শিক্ষকও মনে করতেন পানাহি। ইরানের এই সিনেমা-ঐতিহ্য বেশ অবাক করে দেয়। একজন নতুন পরিচালক, যে ভবিষ্যতে সারা পৃথিবীর সিনেমার ক্ষেত্রে এক বিশেষ নাম হয়ে উঠবে, তাঁর প্রথম ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন সেই একই ভূখণ্ডের এবং সমগ্র সিনেমার ইতিহাসের এক প্রবাদপ্রতিম পরিচালক। এমন শিল্পসংযোগ এদেশে কি সেভাবে দেখতে পাই?

প্রথম ছবি: 'দ্য ওয়াইট বেলুন'

১৯৯৭ সালে পানাহির ‘দ্য মিরর’-এর মূল-কেন্দ্রে আবারও দেখতে পাওয়া যায় একটি বাচ্চা মেয়েকে, যে স্কুল থেকে নিজের বাড়িতে ফেরার রাস্তা খুঁজছে। এর আগে, ১৯৯৫ সালে ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’ পেয়েছিল কান ফিল্ম ফেস্টিভালের বিশেষ সম্মান ‘ক্যামেরা ডি-অর’। এবার, লোকার্নো ফিল্ম ফেস্টিভালে ‘দ্য মিরর’ লাভ করে ‘গোল্ডেন লেপার্ড’ সম্মান। পানাহির কেরিয়ারের দিকে তাকালে ঠিক এরপরই দেখা যায় বদলে যাচ্ছে তাঁর ছবির বিষয়-জগৎ। ইরানে মেয়েদের প্রতি সমাজের নিপীড়নমূলক মনোভাবকে সামনে রেখে ২০০০ সালে পানাহি তৈরি করছেন ‘সার্কেল’। রাষ্ট্রক্ষমতার ধর্মান্ধ মুখচ্ছবি বেরিয়ে পড়ায় ইরান সরকার তৎক্ষণাৎ ছবিটিকে নিষিদ্ধ করলেও ‘সার্কেল’ সে-বছর আন্তর্জাতিক ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালে ‘গোল্ডেন লায়ন’ পুরস্কার পায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নিরাপদ নির্মাণ: শ্যাম বেনেগালের সিনেমা

Shyam Benegal: যখন নেতাজি সুভাষচন্দ্রের জীবনীচিত্রের কথা ওঠে তখন তিনি বাঙালি চিত্তের মিশেল দিয়ে ফরগটেন হিরো তৈরি করেন কিন্তু তাতে তাঁর নিজের সংরক্তি কতটুকু?

এরপরই একটা আশ্চর্য জিনিস ঘটতে থাকে পানাহির জীবনে। দেখা যায়, একের পর এক ছবি বানাচ্ছেন পানাহি আর ইরান সে-ছবির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি, সেসব ছবি অর্জন করছে বহু আন্তর্জাতিক সম্মান। যেমন, পানাহির ‘ক্রিমসন গোল্ড’-কে ‘ডার্ক’ অভিধায় রিলিজই করতে দেয়নি ইরান। অথচ কান ফিল্ম ফেস্টিভালে ছবিটি ‘পিক্স ডু জুরি’ সম্মান লাভ করে।

'অফসাইড'-এর পোস্টার

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের পর খেলার ম্যাচে মেয়েদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। ইরান সরকারের মতে, খেলার মাঠে মেয়েরা উপস্থিত থাকলে তাদের দিকে ছুটে আসতে পারে নানারকমের কটূক্তি, এমনকী যৌন-হিংসাও। এই নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে জড়িয়ে আছে পানাহির এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। জাফর পানাহির নিজের মেয়েকে একটি খেলার ম্যাচে ঢুকতে দেওয়া হয়নি কেবলমাত্র সে একজন ‘নারী’ বলে। এই অসাম্যমূলক আচরণের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় ২০০৬ সালে পানাহি তৈরি করেন ‘অফসাইড’ ছবিটি। বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালে ‘অফসাইড’ ‘দ্য সিলভার বিয়ার’ পুরস্কার পায় এবং পানাহির জন্ম-ভূখণ্ড ইরানে এবারেও ছবিটিকে ব্যান করে দেওয়া হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলা সিনেমার উচ্চতা থেকে পতন নিয়ে দু'চার কথা

Future of Bengali Movies : উন্নত মানের সিনেমা থাকতে গেলে উন্নত মানের সিনেমা চাইতে হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির কি আদপেও সিনেমা থেকে কিছু চাহিদা আছে?

লক্ষ করার মতো বিষয় হল, পানাহির নিজের দেশের মানুষ তাঁর তৈরি সিনেমা দেখতে পাচ্ছেন না। অথচ তাঁর ছবির মধ্যে দিয়ে সমগ্র পৃথিবীর দর্শকের কাছে ছড়িয়ে পড়ছে ইরানের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন, দেশের ক্ষমতাতন্ত্রের মধ্যে বসবাসকারী ধর্মীয় অন্ধতার দিকগুলি। পাশাপাশি, পানাহির ব্যক্তিগত জীবনে তখন শুরু হয়ে গেছে রাষ্ট্রের নিগ্রহ, সারাক্ষণের নজরদারি। কারণ, কোনও শাসকই চাইবে না তাঁর নিপীড়ন-পরিচয় প্রকাশ্যে আসুক। ‘সার্কেল’ তৈরির পর থেকেই ইরান সরকার নানা অজুহাতে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করেছিল তাঁকে। শেষ পর্যন্ত, ২০১০ সালে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে ইরানের ইসলামিক কোর্ট তাঁকে ছ-বছরের কারাদণ্ড এবং কুড়ি বছরের জন্য তাঁর ছবি তৈরি, চিত্রনাট্য লেখা, দেশের বাইরে যাওয়া, এমনকী সাক্ষাৎকার প্রদানের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

জাফর পানাহি

তখন জেলে যেতে না হয়নি পানাহিকে, কিন্তু পরিচালকের ওপর বাকি নিষেধাজ্ঞাগুলি বহাল রাখে রাষ্ট্র। “ইফ উই কুড টেল আ ফিল্ম, দেন হোয়াই মেক আ ফিল্ম?” বলেছিলেন পানাহি। এবারে তাঁর এই চিন্তার কাছেই আশ্রয় নিলেন তিনি।পরিচালক মোজতবা মিরতাহমসবের সঙ্গে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে বসে তাঁর গৃহবন্দি অবস্থাকে ক্যামেরায় তুলে রাখতে আরম্ভ করলেন। সেখানে দেখা গেল পানাহি নিজের বন্দি-জীবন ও চারপাশের সময়কে মিলিয়ে কথা বলে চলেছেন তাঁর সিনেমাচিন্তা সম্পর্কে। নজরদারির বদলে চাইছেন প্রত্যক্ষ কারাবাস। রাষ্ট্রের দ্বারা নিষিদ্ধ হওয়ার পর এভাবেই তিনি নিজেই নিজের জীবনের ওপর তৈরি করলেন একটি ছিয়াত্তর মিনিটের ডকুমেন্টারি, ‘দিস ইজ নট আ ফিল্ম’। ছবি তো তৈরি করলেন কিন্তু তাকে দেশের বাইরে পাঠাবেন কী করে? ‘দিস ইজ নট আ ফিল্ম’ ছবিটিকে জন্মদিনের কেকের ভেতর লুকিয়ে ফ্ল্যাশ ড্রাইভে ইরান থেকে কান ফিল্ম ফেস্টিভালে পাঠিয়েছিলেন পানাহি। পরে নিউওয়ার্ক ফিল্ম ফেস্টিভালেও দেখানো হয় ছবিটি। এবং ২০১২ সালের অস্কারের শ্রেষ্ঠ ডকুমেন্টারি ফিচার বিভাগে তা মনোনয়ন লাভ করে।

এরপরেও তিনি গোপনে বানিয়েছেন ‘ক্লোজড কার্টেন’, ‘থ্রি ফেসেস’-এর মতো ছবি। ২০১৫ সালে তৈরি করেছেন ‘ট্যাক্সি’। ছবিটিতে দেখা যায় জাফর পানাহি একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার হিসেবে সারা ইরান ঘুরে-ঘুরে বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে শুনছেন দেশের দারিদ্র, লিঙ্গ-বৈষম্য ও মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কে তাঁদের স্বাধীন মতামত। ছবিটি সে-বছর বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালে ‘গোল্ডেন বিয়ার’ পুরস্কারে সম্মানিত হয়।

'দিস ইজ নট আ ফিল্ম'-এর পোস্টার

এক সময়, সোভিয়েত ইউনিয়ন বরিস পাস্তেরনাকের মৌলিক রচনা প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ‘ডক্টর জিভাগো’ লেখার পর বরিস পাস্তেরনাককে নোবেল পুরস্কার নিতে যেতে দেয়নি তাঁর নিজের রাষ্ট্র। আলেকজান্ডার সোলঝিনিৎসিনকে পাঠানো হয়েছিল শ্রমশিবিরে। তিনিও নোবেল পুরস্কার পান এবং দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এখন জাফর পানাহির জীবনচিত্র অনেকটা সেরকমই। তবু, ইরানের স্বৈরাচারী শাসন-ব্যবস্থা পানাহিকে নানাভাবে অত্যাচার করে চললেও, শিল্পের ক্ষমতা আসলে কী তার পরিচয় সারা পৃথিবীর কাছে ক্রমান্বয়ে দিয়ে চলেছেন জাফর পানাহি!

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।