রাজ্য থেকে বিদায় ধনকড়ের, পুরস্কার না শাস্তি?
এদিন নাড্ডা তাঁর নাম ঘোষণার সময়ই জানিয়ে দেন, তিনি কৃষক সন্তান। এবার তাঁকে উপরাষ্ট্রপতি প্রার্থী করছে এনডিএ। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও চাপে তৃণমূল। তৃণমূল এমপি শান্তনু সেন বলেন, আমরা ২১ জুলাই নিয়ে ব্যস্ত।

বারবার বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে দেখা গেছে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন। তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিব্রত হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এবার সেইজন্য কি তাঁর প্রোমোশন?
বাংলা থেকে বিদায় নিতে চলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির নতুন চমক। উপরাষ্ট্রপতি পদের জন্য পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে প্রার্থী করল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন জেপি নাড্ডা। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নাড্ডা বলেন, "কৃষকপুত্র জগদীপ ধনকড় এনডিএ-এর উপরাষ্ট্রপতি প্রার্থী।"
শনিবারই দিল্লি যান ধনকড়। দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর সঙ্গে। পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে টুইট করে একথা জানানো হয়।
ধনকড়ের কর্মকাণ্ড
আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন রাজস্থান হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করেছেন ধনকড়। ১৯৮৯ সালে রাজস্থানের ঝুনঝুনু থেকে জনতা দলের হয়ে লোকসভা ভোটে জয়ী হন তিনি। এরপর ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ রাজস্থানের কিষাণগড়ের বিধায়ক ছিলেন জগদীপ ধনকড়। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদে বসার পরই বারবার শিরোনামে এসেছেন। তাঁর সঙ্গে রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের সংঘাত গত ৩ বছর ধরেই চলছে। তৃণমূল সরকারকে বারবার বিড়ম্বিত করার পুরস্কার দিলেন মোদি?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এই মুহুর্তে আলোচ্য বিষয়, কোনও ভাবে ধনকড়ের নামও কি বিজেপির তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে? যদিও এ সব কথার সত্যতা কোনও মহলই স্বীকার করেনি, তবুও এটি বড়সড় জল্পনা তো বটেই৷
রাজ্যের সঙ্গে সংঘাত
একাধিক ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে তাঁর সংঘাত হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা শোনা গেছে তাঁর মুখে। রাজ্যপালের ভূমিকায় অবশ্য শুরু থেকে ক্ষুব্ধ ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ধনকড়কে 'পদ্মপাল’ আখ্যা দিয়েও কটাক্ষ করেছিল রাজ্যের শাসক দল। বিজেপির প্রতিনিধি হয়ে ধনকড় এই রাজ্যে এসেছেন বলে বারবার অভিযোগ করেছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতেই উপরাষ্ট্রপতি পদে ধনকড়কে প্রার্থী করছে বিজেপি।
ট্যুইটারে কিছুদিন আগে রাজ্যপালকে ব্লক করে দেন মমতা। বলেন, "কখনও অফিসারদের, কখনও আমাকে, রোজই রাজ্যপাল কাউকে না কাউকে খারাপ কথা বলছেন। অসাংবিধানিক কথা বলছেন। আমি দুঃখিত ক্ষমা চেয়ে নিয়ে বলছি, আমি আজ আমার ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে রাজ্যপালকে ব্লক করে দিয়েছি।"
রাজভবনে নিয়মিত দরবারও বসিয়েছেন রাজ্যপাল। বহুবার তৃণমূল দাবি করেছে, বিজেপি নেতার মতো আচরণ করেন ধনকড়। পাল্টা জগদীপ ধনকড় ও বিজেপির দাবি, রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করার, তা তিনি করেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালের বাগযুদ্ধ থেকে পত্রযুদ্ধ বারবার সামনে এসেছে। তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। এর পাশাপাশি কলকাতার রাজভবন থেকে দার্জিলিংয়ের রাজভবন পর্যন্ত দু'জনের সৌজন্যমূলক ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি দার্জিলিংয়ে গিয়ে রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন রাজ্যপাল। পরক্ষণেই রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জগদীপ ধনকড়ের বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন বিজেপি-শাসিত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। যদিও রাজভবন থেকে বাইরে এসে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। নেহাতই সৌজন্য সাক্ষাৎকার হয়েছে। এমন ঘটনা ইতিহাসে ক'টা ঘটেছে, তা মনে করে দেখতে হবে। কারণ তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর বিবাদের খবরেই সরগরম হয়েছে মিডিয়া।
জুন মাসে রাজস্থানে গিয়ে বাংলার সমালোচনায় মুখর হন রাজ্যপাল। এই নিয়ে তাঁকে একহাত নিতে ছাড়েনি তৃণমূল। কী ঘটেছিল?
রাজস্থানে একটি অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে খোলাখুলি আক্রমণ করেন বাংলার রাজ্যপাল। রাজস্থানের উদয়পুরে গিয়ে বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন ধনকড়। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় আইনের শাসন নেই। শাসকের আইন নেই। এমন ঘটনার কড়া নিন্দা করা হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। রাজ্যের রাজ্যপাল ভিনরাজ্যে গিয়ে কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, "এটা অত্যন্ত নিন্দাজনক। ঘুরে ঘুরে বাংলার কুৎসা করছেন উনি। বিজেপি হেরেছে বলে ওঁর রাগ।"
৩০ জুলাই, ২০১৯ সালে তিনি বাংলার রাজ্যপাল পদে বসেছিলেন। তবে আইনজ্ঞ বলেও তিনি বেশি পরিচিত। এদিন নাড্ডা তাঁর নাম ঘোষণার সময়ই জানিয়ে দেন, তিনি কৃষক সন্তান। এবার তাঁকে উপরাষ্ট্রপতি প্রার্থী করছে এনডিএ। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও চাপে তৃণমূল। তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, আমরা ২১ জুলাই নিয়ে ব্যস্ত। আমরা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বিশ্বাস করি।
গত তিন বছরে নবান্ন-রাজভবন বিরোধ কবে কবে বন্ধ ছিল, তা হাতে গোনা। তাই কিছুদিন আগে কেন্দ্রের কাছে তাঁকে সরানোর দরবারও করে রাজ্য। কিন্তু ধনকড় প্রথম থেকে এই রাজ্যের রাজ্যপালের দায়িত্ব নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিড়ম্বিত করার কাজ সুচারুভাবে করে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। তাই কি বিজেপির কাছ থেকে তাঁর এই পুরস্কার পাওনা ছিল? বাংলা থেকে বিদায় একদিন না একদিন হতেই হতো রাজ্যপালের। কিন্তু এবার প্রোমোশন নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন তিনি।







