রাজ্য থেকে বিদায় ধনকড়ের, পুরস্কার না শাস্তি?

এদিন নাড্ডা তাঁর নাম ঘোষণার সময়ই জানিয়ে দেন, তিনি কৃষক সন্তান। এবার তাঁকে উপরাষ্ট্রপতি প্রার্থী করছে এনডিএ। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও চাপে তৃণমূল। তৃণমূল এমপি শান্তনু সেন বলেন, আমরা ২১ জুলাই নিয়ে ব্যস্ত।

tiasa gupta
৩ মিনিট
রাজ্য থেকে বিদায় ধনকড়ের, পুরস্কার না শাস্তি?

বারবার বাংলার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে দেখা গেছে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন। তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিব্রত হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এবার সেইজন্য কি তাঁর প্রোমোশন?

বাংলা থেকে বিদায় নিতে চলেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির নতুন চমক। উপরাষ্ট্রপতি পদের জন্য পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে প্রার্থী করল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন জেপি নাড্ডা। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নাড্ডা বলেন, "কৃষকপুত্র জগদীপ ধনকড় এনডিএ-এর উপরাষ্ট্রপতি প্রার্থী।"

শনিবারই দিল্লি যান ধনকড়। দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর সঙ্গে। পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে টুইট করে একথা জানানো হয়।

ধনকড়ের কর্মকাণ্ড

আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন রাজস্থান হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করেছেন ধনকড়। ১৯৮৯ সালে রাজস্থানের ঝুনঝুনু থেকে জনতা দলের হয়ে লোকসভা ভোটে জয়ী হন তিনি। এরপর ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ রাজস্থানের কিষাণগড়ের বিধায়ক ছিলেন জগদীপ ধনকড়। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদে বসার পরই বারবার শিরোনামে এসেছেন। তাঁর সঙ্গে রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের সংঘাত গত ৩ বছর ধরেই চলছে। তৃণমূল সরকারকে বারবার বিড়ম্বিত করার পুরস্কার দিলেন মোদি?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বিদায় নিচ্ছেন বাংলা থেকে? মমতার 'সৌজন্যে' চূড়ান্ত জল্পনা

এই মুহুর্তে আলোচ্য বিষয়, কোনও ভাবে ধনকড়ের নামও কি বিজেপির তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে? যদিও এ সব কথার সত্যতা কোনও মহলই স্বীকার করেনি, তবুও এটি বড়সড় জল্পনা তো বটেই৷

রাজ্যের সঙ্গে সংঘাত

একাধিক ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে তাঁর সংঘাত হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা শোনা গেছে তাঁর মুখে। রাজ্যপালের ভূমিকায় অবশ্য শুরু থেকে ক্ষুব্ধ ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ধনকড়কে 'পদ্মপাল’ আখ্যা দিয়েও কটাক্ষ করেছিল রাজ্যের শাসক দল। বিজেপির প্রতিনিধি হয়ে ধনকড় এই রাজ্যে এসেছেন বলে বারবার অভিযোগ করেছে তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতেই উপরাষ্ট্রপতি পদে ধনকড়কে প্রার্থী করছে বিজেপি।

ট‍্যুইটারে কিছুদিন আগে রাজ্যপালকে ব্লক করে দেন মমতা। বলেন, "কখনও অফিসারদের, কখনও আমাকে, রোজই রাজ্যপাল কাউকে না কাউকে খারাপ কথা বলছেন। অসাংবিধানিক কথা বলছেন। আমি দুঃখিত ক্ষমা চেয়ে নিয়ে বলছি, আমি আজ আমার ট‍্যুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে রাজ্যপালকে ব্লক করে দিয়েছি।"

রাজভবনে নিয়মিত দরবারও বসিয়েছেন রাজ্যপাল। বহুবার তৃণমূল দাবি করেছে, বিজেপি নেতার মতো আচরণ করেন ধনকড়। পাল্টা জগদীপ ধনকড় ও বিজেপির দাবি, রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করার, তা তিনি করেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালের বাগযুদ্ধ থেকে পত্রযুদ্ধ বারবার সামনে এসেছে। তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। এর পাশাপাশি কলকাতার রাজভবন থেকে দার্জিলিংয়ের রাজভবন পর্যন্ত দু'জনের সৌজন্যমূলক ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি দার্জিলিংয়ে গিয়ে রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন রাজ্যপাল। পরক্ষণেই রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জগদীপ ধনকড়ের বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন বিজেপি-শাসিত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। যদিও রাজভবন থেকে বাইরে এসে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। নেহাতই সৌজন্য সাক্ষাৎকার হয়েছে। এমন ঘটনা ইতিহাসে ক'টা ঘটেছে, তা মনে করে দেখতে হবে। কারণ তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর বিবাদের খবরেই সরগরম হয়েছে মিডিয়া।

জুন মাসে রাজস্থানে গিয়ে বাংলার সমালোচনায় মুখর হন রাজ্যপাল। এই নিয়ে তাঁকে একহাত নিতে ছাড়েনি তৃণমূল। কী ঘটেছিল?

রাজস্থানে একটি অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গে সরকারের বিরুদ্ধে খোলাখুলি আক্রমণ করেন বাংলার রাজ্যপাল। রাজস্থানের উদয়পুরে গিয়ে বাংলার পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন ধনকড়। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় আইনের শাসন নেই। শাসকের আইন নেই। এমন ঘটনার কড়া নিন্দা করা হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। রাজ্যের রাজ্যপাল ভিনরাজ্যে গিয়ে কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, "এটা অত্যন্ত নিন্দাজনক। ঘুরে ঘুরে বাংলার কুৎসা করছেন উনি। বিজেপি হেরেছে বলে ওঁর রাগ।"

৩০ জুলাই, ২০১৯ সালে তিনি বাংলার রাজ্যপাল পদে বসেছিলেন। তবে আইনজ্ঞ বলেও তিনি বেশি পরিচিত। এদিন নাড্ডা তাঁর নাম ঘোষণার সময়ই জানিয়ে দেন, তিনি কৃষক সন্তান। এবার তাঁকে উপরাষ্ট্রপতি প্রার্থী করছে এনডিএ। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও চাপে তৃণমূল। তৃণমূল সা‌ংসদ শান্তনু সেন বলেন, আমরা ২১ জুলাই নিয়ে ব্যস্ত। আমরা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে বিশ্বাস করি।

গত তিন বছরে নবান্ন-রাজভবন বিরোধ কবে কবে বন্ধ ছিল, তা হাতে গোনা। তাই কিছুদিন আগে কেন্দ্রের কাছে তাঁকে সরানোর দরবারও করে রাজ্য। কিন্তু ধনকড় প্রথম থেকে এই রাজ্যের রাজ্যপালের দায়িত্ব নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিড়ম্বিত করার কাজ সুচারুভাবে করে গিয়েছেন বলে অভিযোগ। তাই কি বিজেপির কাছ থেকে তাঁর এই পুরস্কার পাওনা ছিল? বাংলা থেকে বিদায় একদিন না একদিন হতেই হতো রাজ্যপালের। কিন্তু এবার প্রোমোশন নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন তিনি।

লিখেছেন
tiasa gupta
tiasa gupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।