রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বিদায় নিচ্ছেন বাংলা থেকে? মমতার 'সৌজন্যে' চূড়ান্ত জল্পনা

এই মুহুর্তে আলোচ্য বিষয়, কোনও ভাবে ধনকড়ের নামও কি বিজেপির তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে? যদিও এ সব কথার সত্যতা কোনও মহলই স্বীকার করেনি, তবুও এটি বড়সড় জল্পনা তো বটেই৷

Kanad Dasgupta
৩ মিনিট
রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বিদায় নিচ্ছেন বাংলা থেকে? মমতার 'সৌজন্যে' চূড়ান্ত জল্পনা

দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই বিধানসভা অধিবেশন শুরুর আগের দিন,বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলায় হঠাৎই রাজভবনে হাজির হয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে আচমকাই সাক্ষাৎ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর হঠাৎই রাজভবনে যাওয়ার পর নানা জল্পনাই মাথাচাড়া দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে৷ চর্চা চলছে, এটি কী নেহাতই 'সৌজন্য-সাক্ষাৎ' ছিল, না'কি ধনকড়কে আগাম 'ফেয়ারওয়েল' দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ? এই ধরনের জল্পনায় মাত্রা যোগ করেছে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন৷ একাধিক মহলে এই মুহুর্তে আলোচ্য বিষয়, কোনও ভাবে ধনকড়ের নামও কি বিজেপির তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে? যদিও এ সব কথার সত্যতা কোনও মহলই স্বীকার করেনি, তবুও এটি বড়সড় জল্পনা তো বটেই৷

বাংলার রাজ্যপালের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের দ্বন্দ্বের ইতিহাস দীর্ঘদিনের৷ প্রতি মুহুর্তেই চলছে মেঘ-রোদ্দুরের খেলা৷ ধনকড়কে রাজ্যপালের পদ থেকে সরাতে সংসদে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদরা৷ হাই কোর্টে মামলাও হয়৷ সরকারের একাধিক মন্ত্রী প্রতিনিয়ত নিশানা করেছেন ধনকড়কে৷ ওদিকে চারদিন আগে রাজ্যপালের পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব পাশ হয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভায়। গত ২৬ মে ক্যাবিনেটে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল। সেদিনই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু প্রকাশ্যে বিষয়টি ঘোষণা করেছিলেন৷ এই বার্তা প্রকাশ্যে আসার পরই শোরগোল ওঠে রাজ্যে৷ বিধানসভার চলতি অধিবেশনেই এ সংক্রান্ত বিল পাশ করাতে চলেছে সরকার৷ তার পর ওই বিল পাঠানো হবে রাজভবনে, রাজ্যপালের সম্মতি- সইয়ের জন্য৷ এখানেই প্রশ্ন উঠেছে, ধনকড় কি খুব সহজে এই বিলে সই করবেন? নাকি ঝুলিয়ে রাখবেন অনির্দিষ্টকাল? অথবা পাঠিয়ে দেবেন রাষ্ট্রপতির কাছে ?

পরিস্থিতি যখন এমনই, ঠিক তখনই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে বেরিয়ে সরাসরি চলে যান রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে৷ কী কারণে এই সাক্ষাৎ, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷ এই সাক্ষাতের আগাম কোনও খবরও ছিল না৷ এদিন রাজ্যপালকে নিজের আঁকা একটি ছবি উপহার দেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ ওই ছবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের নাম সই করে দেওয়ার অনুরোধ করেন রাজ্যপাল৷ সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে করে দেন নিজের সই৷ উপহার পেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান ধনকড় দম্পতি৷ রাজ্যপালও কিছু স্মারক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। প্রায় ঘণ্টাখানেক রাজভবনে থাকার পর বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী৷ সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ভিডিও আপলোড করেন জগদীপ ধনকড়। সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, রাজভবনে ঢুকেই জগদীপ ধনকড়ের স্ত্রী সুদেশ ধনকড়ের সঙ্গে কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রীকেও সৌজন্য বিনিময় করতেও দেখা যায়। ভিডিও-র সঙ্গে বেশ কয়েকটি ছবিও আপলোড করেছেন ধনকড়৷ সেই ছবিতে দেখা গিয়েছে, নিজের আঁকা ছবিতে সই করে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী এবং তা দেখছেন রাজ্যপাল। এই সব ছবির ক্যাপশনে রাজভবনের তরফে লেখা হয়েছে, "আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজভবনে এসেছিলেন। তিনি নিজের আঁকা ছবি রাজ্যপালকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন।"

সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে বাদানুবাদের ঘটনা ঘটলেও কোনও সাক্ষাৎকারেই নিয়মমাফিক সৌজন্য প্রদর্শনে ঘাটতি দেখা যায়নি৷ তার ব্যতিক্রম এদিনও ঘটেনি।

পশ্চিমবঙ্গের ২৮ তম রাজ্যপাল হিসেবে ২০১৯-এর ৩০ জুলাই শপথ নেন জগদীপ ধনকড়৷ তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণণ। ২০১৯-এর ২০ জুলাই এই ধনকড়কে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসাবে নিয়োগ করেন দেশের রাষ্ট্রপতি৷ পূর্বতন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির স্থলাভিষিক্ত হন ধনকড়। রাজস্থানের ঝুনঝুনু কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হওয়া লোকসভার প্রাক্তন ওই সাংসদ এক সময় কিছুদিনের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন৷ শপথ গ্রহণের পর সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন আইনজীবী ধনকড় কলকাতা, যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি এবং বিশ্বভারতীর উপাচার্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেন।

রাজ্যপাল হিসেবে ধনকড় যতদিন বাংলায় আছেন তার অর্ধেকের বেশি সময় তিনি ব্যয় করেছেন রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিবাদে৷ শাসক দলের তরফে বার বার তিনি বিদ্ধ হয়েছেন 'বিজেপি'র প্রতিনিধি' বা 'বিজেপির রাজ্য সভাপতি' হিসেবে৷ এই ধরনের আক্রমণেও থামেননি তিনি৷ কখনও ট্যুইট করে, কখনও কোনও জেলায় গিয়ে, কখনও সাংবাদিকদের সামনে সমানে তোপ দেগে গিয়েছেন ধনকড়৷ শাসক দলের তরফে বার বার তাঁকে অনুরোধ করা হয়, কেন্দ্র যেভাবে রাজ্যের আইনসম্মত পাওনা আটকে রেখেছে, তা আদায়ে সরব হোন, রাজ্যপাল হিসেবে রাজ্যবাসীর পাশে দাঁড়ান৷ কিন্তু কোনও কিছুই কানে তোলেননি ধনকড়৷ ফলে ক্রমশ চওড়া হয়েছে রাজ্যপাল-রাজ্য বিরোধ৷ রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্য পদ থেকে রাজ্যপালকে অপসারণের প্রক্রিয়া সরকার চূড়ান্ত করার পর রাজ্যপালের সঙ্গে আরও একটি বড় মাপের বিবাদের আশঙ্কা যখন সর্বস্তরে মাথাচাড়া দিয়েছে, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রীর হঠাৎ রাজভবনে পা রাখার ঘটনাটি তাই জল্পনা বাড়িয়েছে৷ আর যেহেতু এ সবই জল্পনা, তাই যে কোনও জল্পনার অঘোষিত ফরমূলা মেনে ধনকড়ের বিদায়ের জল্পনাও এই মুহুর্তে পল্লবিত হয়েছে নানা ভাবেই৷

লিখেছেন
Kanad Dasgupta
Kanad Dasgupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।